kalerkantho


রাজবাড়ীতে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা

আলাদা স্থানে মিলল আরো চার লাশ

রাজবাড়ী প্রতিনিধি   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



রাজবাড়ী সদরের রাজাপুর গ্রামে অজ্ঞাতপরিচয় নারীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ গতকাল শনিবার দুপুরে লিটন মেম্বারের মেহগনিবাগান থেকে তাঁর হাত বাঁধা লাশ উদ্ধার করেছে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় গতকাল বিকেলে হত্যা মামলা হয়েছে।

বসন্তপুর ইউনিয়নের শঙ্কর কুমার সরকার জানান, গতকাল সকালে কোলারহাট-রাজাপুর সড়ক থেকে এক কিলোমিটার দূরের নির্জন বাগানে লাশটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন। লাশের দুই হাত পিছমোড়া করে বাঁধা ছিল। তাঁদের ধারণা, দুর্বৃত্তরা নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশটি ফেলে গেছে। পরে থানায় খবর দেওয়া হয়।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে খানখানাপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম জানান, গত শুক্রবার রাতে দুর্বৃত্তরা তাঁর (নারীর) ওড়নার এক প্রান্ত দিয়ে হাত বেঁধে এবং অন্য প্রান্ত দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই বলা সম্ভব হবে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়েছিল কি না। পরিদর্শক আরো জানান, গতকাল বিকেল পর্যন্ত তাঁর পরিচয় জানা যায়নি। স্থানীয়দের কেউ তাঁকে শনাক্ত করতে পারেনি।

সৌদিপ্রবাসীর লাশ মিলল

সদর উপজেলার মধুরদিয়া গ্রাম থেকে সৌদিপ্রবাসী আব্দুল্লাহ শেখের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার রাতে লাশটি উদ্ধারের পর মর্গে পাঠানো হয়েছে। আব্দুল্লাহ মধুরদিয়ার মরিয়ম বেগম ও আফতাব আলী শেখের ছেলে। সৌদি থেকে মাত্র আড়াই মাস আগে দেশে এসেছিলেন তিনি। এক মাস আগে বিয়ে করেন।

মা মরিয়ম জানান, শুক্রবার রাত ১০টার পর থেকে তাঁর ছেলে আব্দুল্লাহকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। অনেক খোঁজাখুঁজির পর বাড়ি থেকে ২০০ গজ দূরে আলেক শেখের বাগানে মেহগনিগাছে তাঁকে ঝুলতে দেখা যায়। আব্দুল্লাহকে দ্রুত উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

রাজবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে জানা যাবে ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা।

নিখোঁজ কৃষকের লাশ উদ্ধার

নিখোঁজ হওয়ার আনুমানিক ১১ ঘণ্টা পর মিলেছে কৃষক মোহাম্মদ শেখের লাশ। গতকাল সকালে সদর উপজেলার গোপালপুর গ্রাম থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

কৃষকের ভাতিজা সুজন শেখ বলেন, গত শুক্রবার রাত ৯টার দিকে পাশের বাজার থেকে ওষুধ কেনার জন্য বাড়ি থেকে বের হন তাঁর চাচা মোহাম্মদ শেখ। পরে আর তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর গতকাল সকালে বাড়ির অদূরে জায়েদ আলীর বাগানে আমগাছে তাঁর ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়।

মণিরামপুরে দুই নারীর লাশ

এদিকে মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি জানান, মণিরামপুর উপজেলার আলাদা স্থানে গত শুক্রবার রাতে মিলেছে দুই নারীর ঝুলন্ত লাশ। উদ্ধার করা লাশ দুটি মাহমুদকাটি গ্রামের আব্দুল আজিজের স্ত্রী সিনথিয়া খাতুন ও ঝাঁপা গ্রামের সায়েদ আলীর মেয়ে রেক্সেনা খাতুনের। এ ঘটনায় দুটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সিনথিয়াকে নিজ ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলতে দেখে পুলিশকে জানায় স্বজনরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার। খেদাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য তাইজুল ইসলাম বলেন, সিনথিয়ার স্বামী আব্দুল আজিজ বগুড়া শহরে দর্জির কাজ করেন। কী কারণে সিনথিয়া আত্মহত্যা করেছেন তা জানা যায়নি। অন্যদিকে সন্ধ্যায় ঝাঁপা গ্রাম থেকে উদ্ধার করা হয় রেক্সোনার লাশ। প্রতিবেশীরা জানায়, রেক্সোনা স্বামী পরিত্যক্তা ছিলেন। মা-বাবার সঙ্গে থাকতেন তিনি। কয়েক দিন আগে পারিবারিক বিষয়ে তাঁদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হয়েছিল। তবে তাঁর আত্মহত্যার কারণ জানা যায়নি। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মণিরামপুর থানার ওসি মো. মোকাররম হোসেন জানান, লাশ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে দুটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।


মন্তব্য