kalerkantho


বগুড়া
টিএমএসএসের বিরুদ্ধে অভিযোগ

সরকারি রাস্তা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বগুড়ার শাজাহানপুরের সুজাবাদ দহপাড়া এলাকায় সরকারি রেকর্ডভুক্ত রাস্তা দখল করে সিরামিক কারখানার স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে বেসরকারি সংস্থা টিএমএসএসের বিরুদ্ধে। তবে স্থাপনা নির্মাণের জন্য হিন্দু সম্প্রদায়ের শ্মশানে যাওয়ার একমাত্র রাস্তাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি অভিযোগ করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থলে গিয়ে অবৈধ নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাছুদুর রহমান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সুজাবাদ ও এর আশপাশ এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের কোনো ব্যক্তি মারা গেলে লাশ সৎকারের জন্য ওই রাস্তা দিয়েই করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত শ্মশানে নিতে হয়। এ ছাড়া প্রতিবছর শারদীয় দুর্গোৎসবে অর্ধশতাধিক দুর্গাপ্রতিমা বিজর্সন দিতে ওই রাস্তাই ব্যবহার করে হিন্দুরা। এটি সরকারি রেকর্ডভুক্ত একটি রাস্তা। সম্প্রতি রাস্তাটির দুই ধারে টিএমএসএস জমি কিনে নেয় এবং সেখানে টাইলস কারখানা স্থাপনের লক্ষ্যে নির্মাণকাজ শুরু করে। স্থাপনা নির্মাণকালে টিএমএসএস কর্তৃপক্ষ সরকারি রাস্তাটিও পুরোপুরি দখলে নিয়ে নেয়। এতে হিন্দুদের শ্মশানে যাতায়াত ও দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনের পথ বন্ধ হয়ে যায়। তাই তারা ধর্মীয় কর্মকাণ্ড সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে রাস্তাটি অবৈধ দখল থেকে মুক্ত করতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানায়। এই সম্প্রদায়ের পক্ষে মুকুন্দ গোঁসাই আশ্রম কমিটির সভাপতি মনিন্দ্রনাথ মোহন্ত ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অনুলিপি দেওয়া হয় বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), বগুড়া পৌরসভার মেয়র, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, শাজাহানপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও থানার ওসিকে।

শাজাহানপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাছুদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইউএনওর নির্দেশে সরেজমিন তদন্ত করেছি। সেখানে সরকারি রাস্তা দখলে নিয়ে নির্মাণকাজ করার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। তদন্ত শেষে নির্মাণকাজ বন্ধ ও নির্মাণাধীন স্থাপনা সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বলা হয়েছে।’

টিএমএসএসের পরিচালক ও বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের (বিসিএল) অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সারওয়ার মোহাম্মেদ জানিয়েছেন, রাস্তার দুই ধারেই তাঁদের কেনা সম্পত্তি। তাই তাঁরা সরকারি রাস্তাটি কারখানার মধ্যে নিয়ে অন্য পাশ দিয়ে নিজ দায়িত্বে রাস্তা তৈরি করে দেবেন বলে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছেন। সরকারের সঙ্গে জমি এওয়াজের (বদল) চিন্তাভাবনাও করছেন। তাই তাঁরা রাস্তা ভেতরে নিয়ে স্থাপনা করছেন।

শাজাহানপুরের ইউএনও কামরুজ্জামান অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সরকারের রেকর্ডভুক্ত রাস্তা কেটে ফেলার কোনো সুযোগ নেই। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মন্তব্য