kalerkantho


বড়াইগ্রামে শিশু ধর্ষণ মামলা

বিচার না পাওয়ার আশঙ্কা

নাটোর প্রতিনিধি   

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



নাটোরের বড়াইগ্রামে শিশু (৯) ধর্ষণের মামলায় ডাক্তারি রিপোর্টে অসংগতি ধরা পড়েছে। চিকিৎসক রিপোর্টে একদিকে লিখেছেন, ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি, অন্যদিকে চিকিৎসার জন্য দিয়েছেন উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন অ্যান্টিবায়োটিক ও ব্যথানাশক ওষুধ। এ ছাড়া লেখা রয়েছে, শিশুটির মানসিক অবস্থা খারাপ। অভিযোগ উঠেছে, চিকিৎসক প্রভাবিত হয়ে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করেছেন। এতে মেয়েটি ও তার পরিবার ন্যায়বিচার না পাওয়ার আশঙ্কা করছে।

মামলা ও শিশুটির পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বনপাড়া পৌর শহরের পূর্ব হারোয়া এলাকার মাহবুর রহমান (১৬) গত ২৪ জানুয়ারি দুপুরে ওই শিশুকে বাইসাইকেল চালানো শেখানোর লোভ দেখায়। তাকে প্রথমে বাড়ির উঠোনে ও পরে চকলেট দেবে বলে ঘরে ডেকে নেয়। তখন মাহবুরের বাড়িতে কেউ ছিল না। এ সুযোগে সে শিশুটিকে ধর্ষণ করে। ঘটনা কেউ জানলে শিশুটিকে মেরে ফেলার হুমকিও দেয়। শিশুটি বাড়ি ফিরলে তাকে অসুস্থ দেখালে মায়ের জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনা খুলে বলে। রাতে শিশুটির বাবা এ ঘটনায় বড়াইগ্রাম থানায় মামলা করলে পুলিশ মাহবুরকে আটক করে জেলহাজতে এবং শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডলি রাণীর কাছে পাঠায়। ডা. ডলি রাতেই মেডিক্যাল পরীক্ষা করলেও পাঁচ দিন পর রিপোর্ট দেন। রিপোর্টে বলা হয়, ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি। এই রিপোর্টের ভিত্তিতে ও এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে আদালত ৩০ জানুয়ারি মাহবুরকে ২৪ দিনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বড়াইগ্রাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তহছেনুজ্জামান বলেন, আসামি এর আগেও একবার ওই শিশুকে ধর্ষণ করে বলে স্বীকার করেছে। ডা. ডলি রাণী রিপোর্টের বিষয়ে বলেন, ডাক্তারি পরীক্ষায় যা পাওয়া গেছে সে অনুযায়ী রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে।

এদিকে আসামি ও তার পরিবার মামলা তুলে নিতে হুমকি ও একই সঙ্গে মোটা অঙ্কের টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন শিশুটির বাবা। তিনি বলেন, ‘অপরাধীর সঙ্গে কোনো অপোস নাই। তার কঠিন শাস্তি হওয়া উচিত। তবে মেডিক্যাল রিপোর্ট নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’ তিনি ন্যায়বিচার দাবি করেন।


মন্তব্য