kalerkantho


বরখাস্ত কর্মচারীদের পুনর্বহালে তৎপর সাবরেজিস্ট্রার

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি   

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর সাবরেজিস্ট্রি অফিসের বালাম বইয়ের পাতা পরিবর্তন, কাটাকাটি, ঘষামাজা; কর্মকর্তার স্বাক্ষর ও সিল জালিয়াতির অভিযোগে বরখাস্ত তিন কর্মচারীকে পুনর্বহালে ব্যাপক তৎপরতা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটির তদন্ত চলমান অবস্থাতেই ওই কর্মচারীদের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সুপারিশ করেছেন সদর উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার মো. নজরুল ইসলাম। অভিযোগ উঠেছে, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি ধামাচাপা ও বরখাস্তদের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন ওই কর্মকর্তা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত বছরের আগস্ট মাসে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রি অফিসে ২৮৫/১৬ নম্বর বালাম বইতে ব্যাপক জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়ে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সদর সাবরেজিস্ট্রি অফিসের নকলনবিশ মাইনুল ইসলাম একই অফিসের নকলনবিশ শাহজাহান আলী, মোসা. হাসিনা ও জহুরুল ইসলামের সহায়তায় ওই বালাম বইয়ের সাতটি দলিলের পাতা পরিবর্তন, কাটাকাটি, ঘষামাজা; দাতা ও গ্রহীতার নাম পরিবর্তন, সাবরেজিস্ট্রারের স্বাক্ষর-সিল জালসহ বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতির ঘটনা ঘটিয়েছেন। বিষয়টি ধরা পড়ার পর তাঁদের শোকজ করেন সদর উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার মো. নজরুল ইসলাম। পরে এ ঘটনায় চার নকলনবিশ মাইনুল ইসলাম, শাহজাহান আলী, মোসা. হাসিনা ও জহুরুল ইসলামকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এরপর ঘটনাটি তদন্ত করেন তৎকালীন জেলা রেজিস্ট্রার মো. আবদুর রেজ্জাক। তিনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ অভিযুক্ত চার কর্মচারীকে গত ২০ ডিসেম্বর সকাল ১১টায় তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হতে নির্দেশ দেন। তবে সেদিন উপস্থিত হননি প্রধান অভিযুক্ত নকলনিবশ মাইনুল ইসলাম। এ কারণে তদন্ত শেষ করতে পারেননি জেলা রেজিস্ট্রার। এরই মধ্যে বদলির কারণে গত ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ ছেড়ে যান জেলা রেজিস্ট্রার। তাঁর বদলির পর থেকেই ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে নানামুখী তৎপরতা শুরু করেন সদর উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার মো. নজরুল ইসলাম। গত ৩১ ডিসেম্বর তিনি অভিযুক্ত চার কর্মচারীর মধ্যে মাইনুল ইসলামকে বাদ দিয়ে বাকি তিনজন—শাহজাহান আলী, মোসা. হাসিনা ও জহুরুল ইসলামকে চাকরিতে পুনর্বহালের জন্য সুপারিশসহ জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে চিঠি দেন। চিঠিতে মানবিক কারণে তাঁদের পুনর্বহালের অনুরোধ করেন তিনি।

বালাম বইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ নথিতে জালিয়াতির ঘটনায় তদন্ত চলমান অবস্থায় অভিযুক্তদের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার এ চিঠিকে নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করেন সংশ্লিষ্ট অফিসের একাধিক কর্মকর্তা। তাঁদের অভিযোগ, পুরো ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বরখাস্তদের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন ওই কর্মকর্তা। এমনকি বড় ধরনের জালিয়াতির এ ঘটনা ধরা পড়ার পাঁচ মাস অতিবাহিত হলেও এখনো থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার মো. নজরুল ইসলাম বর্তমানে জেলা রেজিস্ট্রারের অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন। নতুন জেলা রেজিস্ট্রার যোগদানের আগেই বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে তৎপরতা চালাচ্ছেন তিনি।

বিষয়টি নিয়ে সাবরেজিস্ট্রার মো. নজরুল ইসলামের সঙ্গে কথা বললে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘বালাম বইয়ের জালিয়াতিবিষয়ক তদন্ত এখনো শেষ হয়নি।’ তার পরও কেন বরখাস্তদের চাকরিতে ফিরিয়ে আনার জন্য সুপারিশ করেছেন—প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, তাঁরা নির্দোষ। এ ছাড়া মানবিক কারণে তিনি এ সুপারিশ করেছেন। এ ক্ষেত্রে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া বা অর্থনৈতিক সুবিধা নেওয়ার কোনো বিষয় নেই বলে দাবি করেন তিনি।


মন্তব্য