kalerkantho


চাঁপাইয়ের ক্ষীরসাপাত আম পাচ্ছে জিআই

ইমতিয়ার ফেরদৌস সুইট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ   

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



চাঁপাইয়ের ক্ষীরসাপাত আম পাচ্ছে জিআই

দেখলে জিভে জল আসে। খেতে ইচ্ছা করে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের ক্ষীরসাপাত আম জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

দেশের তৃতীয় ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্য হিসেবে এবার নিবন্ধিত হতে যাচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ‘ক্ষীরসাপাত’ আম। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, নিবন্ধনপ্রক্রিয়া এখন শেষের পথে। এসংক্রান্ত গেজেট প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।

আমের রাজধানী খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জে আড়াই শ জাতের আম চাষ হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে সুস্বাদু ও জনপ্রিয় জাত হচ্ছে ক্ষীরসাপাত। জেলার বাইরে এই আম হিমসাগর নামে পরিচিত। চাঁপাইনবাবগঞ্জে উৎপাদিত আমের মধ্যে একটি বড় অংশ দখল করে আছে ক্ষীরসাপাত জাতের আম। চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাঁচটি উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ হওয়া সুস্বাদু এই জাতের আম দেশের চাহিদা মিটিয়ে তিন বছর ধরে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। অবশেষে এই আমের স্বত্ব সুরক্ষার উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র। ২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ক্ষীরসাপাত, ন্যাংড়া ও আশ্বিনা আমকে জিআই পণ্য হিসেবে নিবন্ধনের আবেদন করা হয়। কিন্তু প্রথমে ক্ষীরসাপাত আমকেই জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। ক্ষীরসাপাতের যেসব বৈশিষ্ট বিবেচনায় এনে আবেদন করা হয়েছিল, তাতে বলা হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ক্ষীরসাপাত খুবই জনপ্রিয় বাণিজ্যিক জাতের আম। এই ফল মাঝারি আকারের এবং অনেকটা ডিম্বাকৃতির। গড়ে লম্বায় ৮ দশমিক ৬ সেন্টিমিটার এই আমের ওজন হয় ২৬৩ দশমিক ৯ গ্রাম। পাকা ফলের ত্বকের রং সামান্য হলদে এবং শাঁসের রং হলুদাভ। শাঁস-আঁশবিহীন, রসাল, গন্ধ আকর্ষণীয় ও বেশ মিষ্টি। জ্যৈষ্ঠ মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে বাজারে পাওয়া যায় এই জাতের আম। আবেদনের প্রায় এক বছর পর এই আমের ঐতিহাসিক তথ্য-প্রমাণাদি যাচাই-বাছাই শেষে ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জের ক্ষীরসাপাত আম’ নামে নিবন্ধন দিতে যাচ্ছে পেটেন্ট ডিজাইন অ্যান্ড ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর। এরপর এ ব্যাপারে কারো কোনো আপত্তি থাকলে তা শোনার জন্য গেজেট ছাপানোর তারিখ থেকে ৬০ দিন অপেক্ষা করা হবে। এর পরেই মিলবে নিবন্ধন।

সদর উপজেলার গোহালবাড়ীর আম চাষি সাইদুর রহমান জানান, এই নিবন্ধনের ফলে ক্ষীরসাপাত শুধু চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম হিসেবে স্বীকৃতি পাবে। এতে দেশের অভ্যন্তরে ও বিশ্ববাজারে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমের চাহিদা বাড়বে। ফলে উপকৃত হবে জেলার আম চাষি ও ব্যবসায়ীরা। কানসাটের আম ব্যবসায়ী আকবর হোসেন জানান, কয়েক বছর ধরে ক্ষীরসাপাত ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। এর ফলে চাঁপাইনবাবগঞ্জে উৎপাদিত ক্ষীরসাপাত আমের চাহিদা আরো বাড়বে। বাংলাদেশ ম্যাঙ্গো প্রডিউসার মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বারের সাবেক সভাপতি আবদুল ওয়াহেদ বলেন, ‘দেশের বেশির ভাগ সুমিষ্ট আম উৎপাদিত হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জে। অথচ বিভিন্ন জেলায় উৎপাদিত নিম্নমানের আমকে এত দিন চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম হিসেবে বাজারজাত করছিল প্রতারকরা। এতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমের সুনাম নষ্ট হচ্ছিল। ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্য হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ‘ক্ষীরসাপাত’ আম নিবন্ধন পেলে সেই প্রতারণা বন্ধ হবে। বিশ্ববাজারেও বাড়বে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমের চাহিদা।’ 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের ফলবিজ্ঞানী  ড. শরফ উদ্দিন বলেন, ‘আবেদনের পর এক বছরে অনেক কিছু যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। এখন ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে ক্ষীরসাপাত আমের নিবন্ধন পাওয়ার বিষয়টি শেষ পর্যায়ে। এটি হলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম চাষি ও সাধারণ মানুষের জন্য সম্মানের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সাফল্যও মিলবে।’



মন্তব্য