kalerkantho


রূপালী ব্যাংক মহাস্থান শাখা

তিন কোটি টাকা ‘আত্মসাৎ’ ব্যবস্থাপক নিখোঁজ, মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া   

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বগুড়ার মহাস্থানগড়ে রূপালী ব্যাংক থেকে দুই কোটি ৬৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে শাখাটির ব্যবস্থাপক জোবায়ে নূর রহমানসহ দুজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে রূপালী ব্যাংকের বগুড়া অঞ্চলের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) সরদার মো. হাবিবুর রহমান বগুড়া সদর থানায় মামলাটি করেন। তিনি জানান, ওই টাকা আত্মসাতের সত্যতা মিলেছে তদন্তে।

মামলার অন্য আসামি হলেন স্থানীয় ব্যবসায়ী আজমল হোসেন। মামলায় বলা হয়েছে, ঘটনার পর নিখোঁজ জোবায়ে নূর রহমান বিভিন্ন সময় পে-অর্ডার থেকে ভুয়া ঋণ সৃষ্টি করে দুই কোটি ৬৯ লাখ ১ হাজার ৮০১ টাকা আত্মসাৎ করেন। তাঁকে সহযোগিতা করেন আজমল হোসেন। জোবায়ে নূর সোনাতলা উপজেলার আগুনের তাইর গ্রামের মনতেজার রহমানের ছেলে। তবে তিনি সস্ত্রীক বগুড়া শহরের নামাজগড় এলাকার একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন।

মামলার বাদী হাবিবুর রহমান জানান, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ওই পরিমাণ টাকা জালিয়াতি করে আত্মসাতের সত্যতা মিলেছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই তিনি মামলাটি করেন।

বগুড়া সদর থানার ওসি এমদাদ হোসেন মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় মহাস্থান হাটের ইজারাদার আজমল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। নিখোঁজ জোবায়ে নূর রহমানকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

২০০০ সালে শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থানগড়ের রূপালী ব্যাংকের শাখাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। তাদের গ্রাহকসংখ্যা প্রায় ৯ হাজার। মহাস্থানের সবজির হাটের কারণে এ ব্যাংকে প্রচুর লেনদেন হয়। আর এ সুযোগে শাখা ব্যবস্থাপক জোবায়ে নূর রহমান বেশ কিছু গ্রাহকের হিসাবে গরমিল করেন বলে অভিযোগ ওঠে। তখন বেশ কয়েকজন গ্রাহক বগুড়া অঞ্চলের রূপালী ব্যাংকের উপমহাব্যবস্থাপকের (ডিজিএম) কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। পরে ঘটনাটি তদন্তের জন্য রূপালী ব্যাংক রাজশাহী বিভাগীয় শাখার চার সদস্যের তদন্ত কমিটি করে বগুড়ায় পাঠানো হয়। গত সোমবার তদন্ত কমিটি ব্যাংকে এসে তদন্ত করে। তখন ব্যবস্থাপক জোবায়ে নূর রহমান ব্যাংকে এলেও সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ব্যাংকের পাশে চা পান করার কথা বলে বেরিয়ে যান। আর তিনি ব্যাংকে ফেরেননি। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। নিখোঁজের ঘটনায় রূপালী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার আব্দুল মজিদ মণ্ডল বগুড়া সদর থানায় একটি জিডি করেন। তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন এমএমজি তোফায়েল আহমেদ, সুলতান মাহমুদ, শাহীন মাহমুদ ও চিরঞ্জিত চক্রবর্তী।

মহাস্থান মাজার কমিটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাহেদুর রহমান জানান, মহাস্থান মাজার কমিটির নামে ব্যাংকে রক্ষিত চলতি হিসাব থেকে প্রায় ৮৪ লাখ টাকার গরমিল ধরা পড়েছে। এ ছাড়া নাসির কটকটি ভাণ্ডারের নামে রক্ষিত এফডিআরের বিপরীতে ভুয়া ঋণ বানিয়ে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা, ঠিকাদার জাহিদুর রহমানের প্রায় এক কোটি টাকা, আজমল হোসেনের প্রায় ৫০ লাখ টাকাসহ প্রায় ১৫ জনের নামে ভুয়া ঋণ সৃষ্টি করে কয়েক কোটি টাকার গরমিল করা হয়েছে।

মহাস্থান এলাকার ‘মেসার্স মুক্তি ফল ও বীজ ভাণ্ডার’-এর মালিক রহেদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ব্যাংক হিসাবে ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকার সঠিক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। আমার মতো অনেক ব্যবসায়ী ও আমানতকারীর অবস্থা একই রকম।’



মন্তব্য