kalerkantho


হত্যা মামলার প্রধান আসামি গোয়ালন্দ ছাত্রলীগ কমিটিতে

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি   

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



কোনো সম্মেলনের আয়োজন করা হয়নি। বর্তমান কমিটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙেও দেওয়া হয়নি। শুধু তাই নয়; জেলা কমিটির সঙ্গে কোনো প্রকার সমন্বয় না করেই রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা ছাত্রলীগের সাত সদস্যের নতুন কমিটির অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। স্থানীয় পৌর ছাত্রলীগ নেতা জাহাঙ্গীর হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ বিতর্কিত অনেককেই নতুন এই কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা নতুন কমিটিকে ‘অগঠনতান্ত্রিক, অবৈধ ও কালো টাকার কমিটি’ আখ্যা দিয়ে সম্মেলনের মাধ্যমে ত্যাগী ও আদর্শবান ছাত্রদের নিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠনের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে।

নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা কলে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১২ এপ্রিল এ বি এম বাতেনকে সভাপতি ও আসাদুজ্জামান চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক করে সাত সদস্যের উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করে তৎকালীন জেলা ছাত্রলীগ। পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়। ওই কমিটি ঘোষণার প্রায় চার বছর পর ২০১৬ সালের ১ ডিসেম্বর উপজেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। এরই মাঝে ওই কমিটির অনেক নেতার ছাত্রজীবন শেষ হয়ে যায় এবং অনেকেই বিয়ে করেন। ২০১৭ সালের ১৩ জানুয়ারি জেলা ছাত্রলীগ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গোয়ালন্দ উপজেলা ছাত্রলীগ নেতাদের নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে সম্মেলন আয়োজনের নির্দেশ দেয়। জেলা কমিটির নির্দেশে সম্মেলনের কাজ শুরু করেন উপজেলা ছাত্রলীগের নেতারা। এরই মধ্যে জেলা ও উপজেলা কমিটির সঙ্গে সমন্বয় না করে গত মঙ্গলবার ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন স্বাক্ষরিত এক পত্রে মেহেদী হাসান রুবেলকে সভাপতি ও আবু বক্কর সিদ্দিক খোকনকে সাধারণ সম্পাদক করে সাত সদস্যের নতুন কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। নতুন এই কমিটিতে স্থান পাওয়া অন্যরা হলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইলিয়াস হোসেন, এরশাদুল ইসলাম, জহিরুল ইসলাম পাপ্পু, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. উজ্জল হোসেন মণ্ডল ও ইমরান আহমেদ আকাশ। কেন্দ্রীয় কমিটির ওই পত্রটি গত বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। তা দেখে উপজেলা ছাত্রলীগসহ তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার ছাত্রলীগের বিক্ষুব্ধ কয়েক শ নেতাকর্মী গোয়ালন্দ বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিক্ষোভ করে। এ সময় তারা ‘অবৈধ কমিটি, মানি না মানব না, কালো টাকার কমিটি, মানি না মানব না’ বলে স্লোগান দেয়। গোয়ালন্দ উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মো. নাজিমুল ইসলাম বৃটেন বলেন, ‘কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষিত উপজেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক পদে রয়েছেন ইমরান আহমেদ আকাশ। গোয়ালন্দ পৌর ছাত্রলীগের সহসভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন হত্যা মামলার প্রধান আসামি তিনি। ২০১৫ সালের ১৩ জুলাই রাতে ইমরান আহমেদ ওরফে আকাশ ও তার বাহিনী জাহাঙ্গীর হোসেনকে কুপিয়ে হত্যা করে। পরে আকাশকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায় পুলিশ। জামিন পেয়ে তিনি জেলহাজত থেকে বেরিয়ে আসেন।’ নাজিমুল ইসলাম বৃটেন আরো বলেন, ‘হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে উপজেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে স্থান দেওয়ায় স্থানীয় ছাত্রলীগের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকার রাজনৈতিক সচেতন মহলও এতে বিস্মিত হয়েছে।’ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘নতুন এই কমিটিকে আমরা অবৈধ ও কালো টাকার কমিটি হিসেবে আখ্যা দিয়েছি। পাশাপাশি অবৈধ কমিটি দ্রুত বাতিল করে সম্মেলনের মাধ্যমে ত্যাগী ও আদর্শবান ছাত্রদের নিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠনের জোর দাবি জানাচ্ছি। ছাত্রলীগের বৃহত্তর স্বার্থে দ্রুত দাবি মানা না হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এ বি এম বাতেন বলেন, ‘জেলা কমিটির নির্দেশক্রমে আমরা গোয়ালন্দ উপজেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। এ অবস্থায় জেলা ও উপজেলা কমিটিকে পাশ কাটিয়ে এভাবে নতুন কমিটি গঠন ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র পরিপন্থী। পাশাপাশি হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ এলাকার বিতর্কিত অনেককে এই কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে। তাই সংগঠনের বৃহত্তর স্বার্থে কিছুতেই আমরা তা মেনে নিতে পারি না।’

জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান এরশাদ বলেন, ‘উপজেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠনের ব্যাপারে কেন্দ্রীয় কমিটি জেলা কমিটির কারো সঙ্গে কোনো সমন্বয় করেনি। তা ছাড়া নতুন কমিটিতে যাদের নাম রয়েছে তাদের অনেকেই এলাকার বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। তবে কোনো কারণে এবং কেন এভাবে হঠাৎ করে কমিটি করা হলো তা কেন্দ্রীয় নেতারাই ভালো বলতে পারবেন।’ গোয়ালন্দ উপজেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটির সভাপতি মেহেদী হাসান রুবেল বলেন, ‘সংগঠনের গতিশীলতা বাড়াতে এক বছরের জন্য উপজেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটির অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটি। তবে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে যারা নতুন কমিটি বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করছে তারা সবাই সুযোগসন্ধানী।’


মন্তব্য