kalerkantho


খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায়ের প্রতিবাদ

মানিকগঞ্জে নেতারা ‘নিখোঁজ’ বিক্ষোভ হয়নি

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি   

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজার রায়ের প্রতিবাদে ডাকা বিক্ষোভ হয়নি মানিকগঞ্জে। শুক্রবার কর্মসূচির জন্য প্রস্তুত থাকলেও জেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ কমিটির নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি কর্মীরা। কর্মীরা বলছে, নেতারা ভয়ে এবং গা বাঁচাতে নিজেরাই নিখোঁজ হয়েছেন। তাই বিক্ষোভ হয়নি।

জুমার নামাজের পর বিক্ষোভ হওয়ার কথা ছিল। এ সময় গিয়ে জেলা বিএনপির কার্যালয় তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। বিএনপির কোনো নেতাকর্মীকেও দেখা যায়নি কার্যালয়ের আশপাশে। সেখান থেকে জেলা বিএনপির ১৬ সদস্যের কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অন্য সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও অধিকাংশের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। যাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে তাঁদের বেশির ভাগই ছিলেন মানিকগঞ্জের বাইরে।

জেলা কমিটির সহসভাপতি ও কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সদস্য খোন্দকার আবদুল হামিদ ডাবলুর সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঢাকায় আছেন বলে জানান। তিনি বলেন, সভাপতি আফরোজা খানম রিতা ও সাধারণ সম্পাদক মাঈনুল ইসলাম শান্তর কারণে এই কর্মসূচি পালন করা সম্ভব হয়নি। কোনো ধরনের সংকট সৃষ্টি হলেই আফরোজা দেশের বাইরে চলে যান। এবারও তিনি দেশের বাইরে গেছেন। সাধারণ সম্পাদকও দেশের বাইরে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ না থাকায় জেলায় কর্মসূচি পালন করা যায়নি।

জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোকসেদুর রহমান মানিকগঞ্জেই আছেন জানিয়ে বলেন, ‘সভাপতি আফরোজা খানম আমাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন না। সম্পাদক মাইনুল ইসলাম একেবারেই রাখেন না। এবারও খালেদা জিয়ার রায় নিয়ে সংকট মুহূর্তে দুজনের কেউ যোগাযোগ রাখেননি। তাঁরা দেশে নাকি বিদেশে সেটা জানা নেই।’ তিনি বলেন, পুলিশের ধরপাকড়ের কারণে কর্মীরা ভয়ে পলাতক। তাই বিক্ষোভ করা যায়নি। এ দফায় মানিকগঞ্জ থেকে প্রায় ৪০ জন নেতাকর্মীকে পুলিশ আটক করেছে।

অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে না পারলেও সহসভাপতি জামিলুর রশিদ খান ও আজাদ হোসেন খানের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে। তাঁরাও বলেন, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ নেই। যুগ্ম সম্পাদক ও দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তোজাম্মেল হক তোজা বলেন, তিনি তাঁর উপজেলাতেই আছেন। তিনি জানান, কর্মসূচির ব্যাপারে তাঁর সঙ্গে সভাপতি, সম্পাদকসহ কারো সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি। অসুস্থতার কারণে তিনিও যোগাযোগ রাখতে পারছেন না।

সাংগঠনিক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এস এ জিন্না কবির জানান, তিনি ঢাকায় আছেন। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ নেই। তিনি স্বীকার করেন, সভাপতি ও সম্পাদকের উপস্থিতি কিংবা যোগাযোগ না থাকায় নেতাকর্মীরা মনোবল হারিয়ে ফেলেছে।

সভাপতি আফরোজা খানম রিতার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী রেজাউল ইসলাম জানান, আফরোজা দেশেই আছেন। সাধারণ সম্পাদক মাঈনুল ইসলাম শান্তকে তাঁর মোবাইল ফোনে পাওয়া যায়নি। একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সাত-আট দিন আগে শান্ত সিঙ্গাপুর গেছেন।



মন্তব্য