kalerkantho


কেরানীগঞ্জে ঘাতকদের স্বীকারোক্তি

মফিজকে ১০ টুকরা করে ভরা হয় তিনটি বস্তায়

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি   

২১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



কেরানীগঞ্জের আলাদা স্থান থেকে দুই দিনে উদ্ধার হওয়া লাশের অংশবিশেষের পরিচয় মিলেছে। এগুলো ঢাকার সাভারের ভাকুর্তা ইউনিয়নের কাউচর এলাকার মো. মফিজুর রহমান মফিজের। তিনি পেশায় স্বর্ণকার ছিলেন। পাশাপাশি কবিরাজি করতেন বলে জানা গেছে। গতকাল শনিবার দুপুরে ঢাকা জেলা দক্ষিণ গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সাইদুর রহমান সাইদ এসব তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মফিজকে হত্যার পর লাশ ১০ টুকরা করে তিনটি বস্তায় ভরা হয়। পরে একেকটি বস্তা একেক দিকে ফেলে দেওয়া হয়। গ্রেপ্তারের পর এ তথ্য জানিয়েছে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার তারানগর ইউনিয়নের বেউতা এলাকার মাকসুদা আক্তার লাকি, তাঁর দুই দেবর মো. সালাহউদ্দিন ও মো. নজরুল ইসলাম (দূর সম্পর্কের)। তাঁরা পুলিশের কাছে মফিজকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি ছুরি, একটি শাড়ি ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, গত ২ জানুয়ারি তারানগর ইউনিয়নে গণকবরস্থানের সামনের ডোবা থেকে হাত-পা ও মাথাবিহীন লাশ উদ্ধার করে থানার পুলিশ। এ ঘটনায় তারা মামলা করে। পরে মামলাটি ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মো. নাজমুল হাসান দলবল নিয়ে তদন্তের কাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁরা মফিজের নিখোঁজ ও সাভার থানায় এসংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরির (জিডি) কথা জানতে পারেন। পরে ১৭ জানুয়ারি তারানগর ইউনিয়নের নিমতলী সেতুর নিচ থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়। পরিবারের লোকজন মাথাটি মফিজের বলে শনাক্ত করে। পরে মফিজের মোবাইল ফোনের কললিস্টের সূত্র ধরে লাকির খোঁজ পায় ডিবি পুলিশ। একপর্যায়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্য মতে গ্রেপ্তার করা হয় দুই দেবরকে।

লাকির বরাত দিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরো বলেন, লাকির স্বামী মালয়েশিয়াপ্রবাসী। তাঁদের একমাত্র ছেলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। আরেকটি সন্তানের জন্য ডাক্তার-কবিরাজকে দিয়ে চিকিৎসা করিয়েও কোনো ফল পাননি তিনি। ১০ মাস আগে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে ‘কবিরাজ’ মফিজের খোঁজ পান তিনি। তাঁর কাছে গেলে তিনি লাকিকে এক বছরের চিকিৎসা নিতে বলেন। একপর্যায়ে মফিজ জোর করে লাকির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে এতে রাজি না হলে তিনি লাকির ছেলেকে হত্যার হুমকিসহ বিভিন্নভাবে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকেন। উপায় না দেখে লাকি দূর সম্পর্কের দেবর অটোরিকশাচালক নজরুলের সাহায্য নেন। পরে বিষয়টি লাকির আপন দেবর সালাহউদ্দিনকে জানান নজরুল। তাঁরা তিনজন মিলে মফিজকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

গত বছরের শেষ দিন লাকি মফিজকে ফোন করে তাঁর বাড়িতে আসতে বলেন। এর আগে ছেলেকে নানির বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। মফিজ সেখানে গেলে তাঁকে প্রথমে চায়ের সঙ্গে চার-পাঁচটি ঘুমের ট্যাবলেট খাওয়ানো হয়। পরে রাতের খাবারের সঙ্গে আরো কয়েকটি ঘুমের ট্যাবলেট খাওয়ানো হয়। একপর্যায়ে মফিজ ঘুমিয়ে পড়লে লাকি তাঁর দুই দেবরকে খবর দেন। তাঁরা প্রথমে ওড়না দিয়ে মফিজকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে হাত-পা ও মাথা শরীর থেকে আলাদা করে ১০ টুকরা করে তিনটি বস্তায় ভরেন। রাতেই তাঁরা নজরুলের অটোরিকশায় করে বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দূরে নিলতলী সেতুর নিচে গিয়ে মফিজের মাথা ভরা বস্তাটি ফেলে দেন। পরে আক্তার হোসেনের মাছের খামারে বাকি অংশগুলো ফেলে দিয়ে যার যার বাড়ি চলে যান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কেরানীগঞ্জ সার্কেলের এএসপি রামানন্দ সরকার, ডিবির ওসি মো. শাহজামান, কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি শাকের মোহাম্মদ যুবায়ের, ডিবির ওসি নাজমুল হাসান, এসআই মোস্তফিজুর রহমান, কাজী এনায়েত হোসেন, সালাহউদ্দিন, বিপুল চন্দ্র দাস প্রমুখ।



মন্তব্য