kalerkantho


কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

উপাচার্যহীন ৪৯ দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা   

২১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



গত ৪৯ দিনেও নতুন উপাচার্য নিয়োগ না হওয়ায় অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি)। গত ২ ডিসেম্বর পঞ্চম উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলী আশরাফের মেয়াদ শেষ হয়। এরপর নতুন উপাচার্য হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক এম রুহুল আমিনের নাম শোনা গিয়েছিল। কিন্তু নানা কারণে উপাচার্য নিয়োগের প্রক্রিয়া আটকে যায়। এদিকে গত ২৪ এপ্রিল কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কুণ্ডু গোপীদাসের মেয়াদ শেষ হলেও গুরুত্বপূর্ণ এ পদটি শূন্য পড়ে আছে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইনে উপ-উপাচার্য পদের কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পদে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ তিনটি পদ শূন্য থাকায় ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা, সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষা, ফল প্রকাশ, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনসহ সব গুরুত্বপূর্ণ কাজ থমকে আছে। এদিকে সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষা ও ফল আটকে থাকায় ভয়াবহ সেশনজটের আশঙ্কা করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

জানা গেছে, উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ না থাকায় প্রতিষ্ঠানটির একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা এখনো অনুষ্ঠিত হয়নি। ভর্তীচ্ছু ৫৪ হাজার ৮০৯ জন আবেদনকারী তাদের পরীক্ষা কবে হবে তা জানে না। ফলে উদ্বেগ আর অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন ভর্তীচ্ছু শিক্ষর্থী ও অভিভাবকরা। চলমান ব্যাচগুলোর মধ্যে উপাচার্যের অনুমোদনের অপেক্ষায় বিভিন্ন বিভাগের স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের প্রায় ৩১টি সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষা আটকে আছে। এ ছাড়া স্নাতক চূড়ান্ত পরীক্ষার দুটি ফলসহ আটটি সেমিস্টারের ফল আটকে রয়েছে।

শিক্ষাছুটি নিয়ে জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার অনুমোদন পেতে চরম বিড়ম্বনা পোহাতে হয়েছে নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আসাদুজ্জামানকে। পরে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ছুটি অনুমোদন করাতে হয়েছে তাঁকে।

এ বিষয়ে শিক্ষক সমিতির নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক এন এম রবিউল আউয়াল চৌধুরী বলেন, ‘অভিভাবকহীন হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে সব কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে। আমরা আশা করি, শিগগিরই একজন প্রগতিশীল উপাচার্যের মধ্যমে সরকার আমাদের এ শূন্যতা পূরণ করবে।’

শীর্ষ তিনটি শূন্য পদ নিয়ে কেমন চলছে বিশ্ববিদ্যালয়—এমন প্রশ্নে রেজিস্ট্রার মো. মজিবুর রহমান মজুমদার বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে অচল অবস্থায় রয়েছে। তাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে শিগগিরই আমরা একজন শিক্ষাবান্ধব, উন্নয়নমুখী ও দূরদর্শী উপাচার্যের প্রত্যাশা করছি।’


মন্তব্য