kalerkantho


লক্ষ্মীপুর গ্রাম ডাক্তার কল্যাণ সমিতি

প্রশিক্ষণের নামে প্রতারণা

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি   

২১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



লক্ষ্মীপুরে গ্রাম ডাক্তার কল্যাণ সমিতির সভাপতি এ কে এম মাহমুদ রিয়াজ প্রশিক্ষণের নামে সদস্যদের প্রতারিত করেছেন। সদস্যদের অভিযোগ, তাঁদের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা উত্তোলন করে পকেটে ভরেছেন তিনি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশে সমিতির সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ২১ দিনের রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ শেষে ঢাকা থেকে সনদপত্র সরবরাহ করার কথা। কিন্তু লক্ষ্মীপুরে সনদ তৈরি করা হচ্ছে। নিয়মবহির্ভূতভাবে এ প্রতারণা করায় সমিতির সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

সমিতির সদস্যরা জানান, বাংলাদেশ গ্রাম ডাক্তার কল্যাণ সমিতির লক্ষ্মীপুর শাখার কার্যক্রম শুরু হয় ২০১০ সালে। ২০১৬ সালের ১৬ জুলাই এ কে এম মাহমুদ রিয়াজকে সভাপতি ও বিধান কৃষ্ণ দাসকে সাধারণ সম্পাদক করে ৩১ সদস্যের কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্র। সমিতির নিয়মে রয়েছে, যাঁরা গ্রামে চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত রয়েছেন এবং গ্রাম ডাক্তার কল্যাণ সমিতির সদস্য শুধু তাঁরা প্রশিক্ষণে অংশ নিতে পারবেন। কিন্তু সমিতিটি লক্ষ্মীপুরে এ নিয়ম মানছে না। মাহমুদ রিয়াজ সহযোগী উত্তম কুমার সরকারের মাধ্যমে নতুনদের কাছ থেকে আট হাজার ২০০ টাকা করে নিয়ে গ্রাম্য ডাক্তার প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। তাঁদের অনেকে গ্রাম্য ডাক্তার নন বলে জানা গেছে। সমিতির কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় না করে প্রশিক্ষণের আয়োজন করে পকেট ভারী করা হচ্ছে।

গত ১৫ জানুয়ারি থেকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে তৃতীয় ব্যাচের ২১ দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ চলছে। এ ছাড়া একই দিন থেকে কমলনগর উপজেলায় দ্বিতীয় ব্যাচের প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করা হয়েছে। অবশ্য এসব প্রশিক্ষণের বিষয়ে সমিতির কেন্দ্রীয় নেতারা অবগত নন।

সদস্যরা আরো জানান, প্রতি প্রশিক্ষণার্থীর কাছ থেকে ফি বাবদ আট হাজার ২০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। প্রতি ব্যাচে অন্তত ৪০ জন গ্রাম্য ডাক্তার থাকেন। প্রশিক্ষণ শেষে কেন্দ্র থেকে সনদপত্র দেওয়ার কথা। কিন্তু সনদপত্র দেওয়া হচ্ছে লক্ষ্মীপুর থেকে। অভিযোগ রয়েছে, কেন্দ্রীয় কমিটিকে দেওয়ার নামে মাহমুদ রিয়াজ সদস্যদের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু কেন্দ্র টাকার বিষয়টি জানে না।

জেলা সভাপতি এ কে এম মাহমুদ রিয়াজ বলেন, ‘উত্তোলন করা টাকা প্রশিক্ষণে ডাক্তারদের সম্মানীসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় করেছি। কেন্দ্রের অনুমতি নিয়ে প্রশিক্ষণ করছি, কেউ অস্বীকার করলে কী করব?’ সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব আবু ইউসুফ খান বাদল বলেন, ‘প্রশিক্ষণের আগে কেন্দ্র থেকে সদস্যপদ নিতে হয়। কিন্তু লক্ষ্মীপুরে সদস্যপদ ছাড়াই কিভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে? তা খোঁজ নেওয়া হবে।’

বাংলাদেশ গ্রাম ডাক্তার কল্যাণ সমিতির সভাপতি আবদুস সাত্তার বলেন, ‘প্রশিক্ষণের সনদপত্র কেন্দ্র থেকে দেওয়ার কথা থাকলেও লক্ষ্মীপুর কমিটি তা নেয়নি। নিয়ম না মেনে লক্ষ্মীপুরে প্রশিক্ষণ দেওয়ায় ওই কমিটির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। টাকার বিষয়ে আমরা জানি না।’


মন্তব্য