kalerkantho


মহানন্দায় স্বপ্নের ‘রাবার ড্যাম’

ইমতিয়ার ফেরদৌস সুইট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ   

১৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



অবশেষে চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসীর স্বপ্নপূরণ হতে চলেছে। গত মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) পাস হওয়ায় দীর্ঘ সাত বছর পর আলোর মুখ দেখছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুত চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসীর স্বপ্নের ‘রাবার ড্যাম’ প্রকল্প। এর ফলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহানন্দা নদীতে ১৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে দেশের সবচেয়ে বড় রাবার ড্যাম ও নদী খনন প্রকল্প। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মৃতপ্রায় মহানন্দা নদীতে নাব্যতা ফিরে আসবে। এ ছাড়া সেচের আওতায় আসবে সাড়ে সাত হাজার হেক্টর জমি। আগামী ফেব্রুয়ারিতে কাজ শুরু হয়ে ২০২০ সালের জুন মাসের মধ্যে এর নির্মাণকাজ শেষ হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভারতের ফারাক্কা বাঁধের বিরূপ প্রভাব, ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার, বার্ষিক বৃষ্টির পরিমাণ কমে যাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বরেন্দ্র অঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। এর ফলে বছরজুড়ে নদীতে পানিপ্রবাহ ও সেচকাজে পানির ব্যবহার নিশ্চিত করতে মহানন্দার ওপর রাবার ড্যাম নির্মাণের দাবি ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১১ সালের ২৩ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সফরকালে মহানন্দা নদীতে রাবার ড্যাম নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ‘মহানন্দা নদীতে রাবার ড্যাম নির্মাণ ও নদী খনন’ প্রকল্প হাতে নেয় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। সম্ভাব্যতা সমীক্ষার জন্য ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডাব্লিউএম) নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। আড়াই বছর সমীক্ষার পর ১৫১ কোটি টাকার একটি খসড়া নকশা প্রণয়ন করে আইডাব্লিউএম। রাবার ড্যাম নির্মাণের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের উপকণ্ঠে রেহাইচর এলাকায় অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর সেতুর আধাকিলোমিটার ভাটিতে স্থান নির্বাচন করে আইডাব্লিউএম। ৩৫৩ মিটার দৈর্ঘ্যের এই রাবার ড্যামের উজান ও ভাটিতে ৩৬ কিলোমিটার এলাকায় ড্রেজিং করে নদীখনন করার কথা রয়েছে। এর মধ্যে উজানে ১০ কিলোমিটার ও ভাটি এলাকায় ২৬ কিলোমিটার নদী ড্রেজিং করা হবে। এ ছাড়া নদীতীরবর্তী সাড়ে সাত হাজার হেক্টর জমি সেচের আওতায় আসবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এটাই হবে দেশের সবচেয়ে বড় রাবার ড্যাম।

বেশ কয়েকবার খসড়া নকশার ছোটখাটো বিষয়গুলো পরিবর্তন করে ২০১৬ সালের এপ্রিলে চূড়ান্ত নকশা প্রণয়ন করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। চূড়ান্ত নকশায় প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি হয়ে দাঁড়ায় ১৮৭ কোটি টাকা। এরপর পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনে প্রকল্পটি পাঠানো হয় পরিকল্পনা কমিশনে। ২০১৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি একাধিক কারণ দেখিয়ে প্রকল্পটি অনুমোদন না দিয়ে পরিকল্পনা কমিশন কারিগরি কমিটির মাধ্যমে নতুন করে সম্ভাব্যতা যাছাইয়ের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ‘পাউবো’ নির্দেশ দেয়। গত এক বছরে কারিগরি কমিটি কিছু কাটছাঁট করে ১৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেকের সভায় প্রকল্পটি পাস হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্য আবদুল ওদুদ জানান, প্রকল্পটি পাস হওয়ায় জেলাবাসী প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ। এর ফলে মহানন্দা নদী প্রাণ ফিরে পাবে বলে জানান তিনি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ সাহিদুল আলম জানান, একনেকে পাস হওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নে আর কোনো বাঁধা নেই। তিনি বলেন, আগামী মাসে জমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। ২০২০ সালের জুন মাসের মধ্যে রাবার ড্যাম প্রকল্পের মূল কাজ শেষ হবে বলে জানান তিনি।



মন্তব্য