kalerkantho


পাখি সব করে রব

ইয়াহইয়া ফজল, সিলেট   

১৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



পাখি সব করে রব

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার চণ্ডিপুল সংলগ্ন ধোপাঘাট এলাকায় গেলে দেখা মেলে অতিথি পাখির। ছবি : কালের কণ্ঠ

‘পাখি সব করে রব রাতি পোহাইল/কাননে কুসুম কলি সকলি ফুটিল।’ জনপ্রিয় এই শিশুতোষ ছড়াটি পড়ে অনেকেই পড়াশোনায় হাতেখড়ি নিয়েছে। কিন্তু বনভূমি ধ্বংসের কারণে নগরজীবনে পাখির কলরব শোনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সেদিক থেকে সিলেটের নগরবাসী অনেকটা সৌভাগ্যবান। শীত মৌসুমের কল্যাণে রাত পোহালেই পরিযায়ী পাখির কিচিরমিচির শব্দে তাদের ঘুম ভাঙছে। সিলেট নগরের অদূরে ধোপাঘাট এলাকায় এখন হাজার হাজার অতিথি পাখির মেলা বসেছে।

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার চণ্ডিপুল পার হয়ে নর্থ ইস্ট মেডিক্যাল কলেজের পেছনে গেলেই একটি বড় জলাশয়ে নানা রঙের পাখির অপূর্ব দৃশ্য দেখা যায়। এখানে ভোর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাখির কলকাকলির একটা ছন্দোময় সুর বেজে চলে। বিচিত্র শব্দের শ্রুতিমধুর কোরাসে মনকে আপ্লুত করে। কুয়াশা ভেদ করে আলো ফুটতেই সুরের সঙ্গে পাখিদের ডানা ঝাপটানোর শব্দ যোগ হয়। ঝাঁকে ঝাঁকে পাখিরা শূন্যে ডানা মেলে দেয়। পাখির পা আর ডানার ঝাপটায় ছলকে ওঠা পানির সঙ্গে সকালের রোদ্দুর মিলেমিশে গলে পড়া রংধনু হয়ে ওঠে।

জলাশয়ের একপাশ ঘেঁষে নর্থ ইস্ট মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রাবাস। ভোরে পাখির কলকাকলিতেই ছাত্রদের ঘুম ভাঙে। হাজারো পাখির কিচিরমিচির শব্দের ব্যঞ্জনা প্রতিবছর শীতে তাদের রুটিন বাঁধা একঘেয়ে জীবনে ভিন্নতার ছোঁয়া এনে দেয়। জলাশয়ে ভাসমান কচুরিপানার সঙ্গে মিশে হাজারো পাখি ধ্যানমগ্ন হয়ে বসে থাকে। কখনো হুট করে ঝাঁক বেঁধে আকাশে ডানা মেলে ঘুরপাক খায় তারা। এ দৃশ্য প্রকৃতিপ্রেমীদের মন্ত্রমুগ্ধ করে। শুধু ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীরা নয়, এই যান্ত্রিক নগরজীবনে একটু ফুরসত পেলেই পাখি দর্শনে এখানে ছুটে আসে সবাই। যদিও তাদের অনেকের অভিযোগ, গত দুই বছরে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা কমেছে।

নগরের কাছাকাছি হওয়ায় পরিযায়ী পাখি দেখার সুযোগ হাতছাড়া করতে চায় না অনেকে। সুবিধা মতো সকালে কিংবা বিকেলে এখানে জড়ো হয় পাখিপ্রেমীরা। শীতের অতিথি পাখির মধ্যে লেজার হুইসলিং ডাক (পাতি সরালি), ব্রোঞ্জ উইংগড জাকানা (দলপিপি/জলপিপি), কমন মোর হেন (জল মোরগ) ছাড়াও তিন প্রজাতির বক পাখির দেখা মেলে এখানে।

পাখি কেন কমে যাচ্ছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশেষজ্ঞরা নানা কারণ জানিয়েছেন। সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি, এনিম্যাল অ্যান্ড বায়োমেডিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মাহফুজুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নানা কারণে পাখির উপস্থিতি কমতে পারে। নিরাপদ আশ্রয়ের বিষয়টা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। সেটায় ব্যাঘাত হলে পাখি থাকবে না।’

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ঢাকার ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের পরিবেশব্যবস্থা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. শরীফ আহমেদ মুকুল বলেন, ‘পাখির সংখ্যা কমে যাওয়ার অনেক কারণই থাকতে পারে। তবে আমার মনে হয়, গত বর্ষার মৌসুমে বন্যায় ফসল পচে যাওয়ার পর মাছ, পাখিসহ প্রাণহানির কারণে এখানকার ইকো সিস্টেম নষ্ট হয়ে গেছে। মাছ, পোকামাকড়ও মারা গেছে।’


মন্তব্য