kalerkantho


মেয়াদ উত্তীর্ণ প্রধান শিক্ষক

কুড়িগ্রামে শিক্ষকরা বেতনবঞ্চিত

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি   

১৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরও অবৈধভাবে কুড়িগ্রাম উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ দখল করে রয়েছেন হাজেরা বেগম। তাঁর কারণে কমিটি জটিলতায় গত নভেম্বরের বেতন-ভাতা তুলতে পারেননি শিক্ষকরা।

প্রধান শিক্ষকের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন শিক্ষকরা। মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দায়িত্ব পালন করায় প্রধান ও অন্য শিক্ষকরা মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন।

কয়েকজন শিক্ষক জানান, হাজেরার চাকরির মেয়াদ শেষ হয় গত বছরের ৩ জুলাই। অবসরে যাওয়ার আগে তিনি কৌশলে সভাপতি ও সদস্যদের স্বাক্ষর জাল করে চাকরির মেয়াদ বাড়িয়ে নেওয়ার সুপারিশ নেন। এরপর বোর্ডে দাখিল করেন। কমিটির মেয়াদ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত থাকলেও শিক্ষক প্রতিনিধি আবুল কাশেম, উম্মে সালমা সুলতানা, অভিভাবক সদস্য নূর আমিন মিলন ও নীলা পারভীনের স্বাক্ষর জাল করে তাঁদের পদত্যাগ দেখিয়ে কমিটি ভেঙে দেন।

বেসরকারি শিক্ষক প্রবিধান ৩০ ধারা অনুসারে, ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির কাছে অভিভাবক সদস্য ও শিক্ষক প্রতিনিধিরা পদত্যাগ করবেন; কিন্তু প্রধান শিক্ষক অবৈধভাবে কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষর জাল করে ইস্তফাপত্র তৈরি করেন। এরপর সভাপতির জাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে তা গ্রহণ করা দেখান। নির্বাচিত কমিটি ভাঙার পর ওয়ালিউর রহমান চঞ্চলকে সভাপতি করে অ্যাডহক কমিটি গঠন করেন। গত ৬ ডিসেম্বর অ্যাডহক কমিটির মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে।

অন্যদিকে অবৈধ পন্থা অবলম্বন করে নির্বাচিত কমিটি ভাঙায় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আহমেদ নাজমীন সুলতানা হাইকোর্টে রিট করেন। গত ৮ অক্টোবর হাইকোর্ট তাঁকে সভাপতির দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। প্রধান শিক্ষক এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করলে তা স্থগিত হয়ে যায়।

নির্বাচিত কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি আবুল কাশেম ও উম্মে সালমা সুলতানা জানান, তাঁরা পদত্যাগ না করলেও তাঁদের স্বাক্ষর জাল করে পদত্যাগপত্র বোর্ড ও কোর্টে দাখিল করা হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টি কমিটি ছাড়া চলছে। এতে সমস্যায় পড়েছেন শিক্ষকরা। তাঁদের বেতন-ভাতা বন্ধ হয়ে গেছে।

শিক্ষকরা অভিযোগ করে বলেন, প্রধান শিক্ষক ২০১০ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর বিদ্যালয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতি বেড়ে যায়। শিক্ষক ও কর্মচারীদের সঙ্গে তিনি অশালীন ভাষা প্রয়োগ ও দুর্ব্যবহার করেন। বিদ্যালয় সরকারীকরণের নামে শিক্ষকদের কাছ থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। শিক্ষকদের মাসিক ভাতাসহ যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা বন্ধ করে দিয়ে তা আত্মসাৎ করেন।

প্রধান শিক্ষক হাজেরা বেগম জানান, তিনি সব নিয়ম মেনে দায়িত্ব পালন করছেন। মন্ত্রণালয় তাঁর চাকরির মেয়াদ দুই বছর বাড়িয়েছে। তিনি সব সময় বিদ্যালয়ের উন্নয়নে কাজ করেছেন; কিন্তু কয়েকজন শিক্ষক শত্রুতাবশত তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

নির্বাচিত কমিটির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য আহমেদ নাজমীন সুলতানা বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক চাকরির মেয়াদ বাড়াতে চেয়েছিলেন।’



মন্তব্য