kalerkantho


দিনাজপুরে চিকিৎসক সংকট তীব্র

দিনাজপুর প্রতিনিধি   

১৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলায় ১৮টি হাসপাতালে ৬১ শতাংশ চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে কোনো কোনো হাসপাতালে শতভাগ চিকিৎসকের পদ শূন্য। এ ছাড়া রয়েছে অ্যাম্বুল্যান্সসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে থাকার ভয়াবহ চিত্র। এতে দিনাজপুরে স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, কমিউনিটি ক্লিনিক ও মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল বাদ দিয়ে জেলার ১৩টি উপজেলায় ১৮টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও তাদের অধীনে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। এসব হাসপাতালে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চিকিৎসা নিতে আসে। কিন্তু চিকিৎসক সংকট ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ বিকল থাকায় কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তারা। বিত্তবানরা অর্থ খরচ করে বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিতে পারলেও গরিব-অসহায় মানুষদের পোহাতে হয় ভোগান্তি।

জানা গেছে, জেলার ১৮টি হাসপাতালে চিকিৎসকের পদ ২৯২টি। এর বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ১১৪ জন চিকিৎসক। শূন্য রয়েছে ১৭৮টি চিকিৎসকের পদ। এর মধ্যে দিনাজপুর সিভিল সার্জন অফিসে পাঁচটি চিকিৎসকের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র একজন। শূন্যপদ চারটি। বক্ষব্যাধি ক্লিনিকে দুটি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন একজন ও শূন্য রয়েছে একটি পদ। উপশহর আরবান ডিসপেনসারিতে চিকিৎসকের তিনটি পদের তিনটিই শূন্য রয়েছে। বালুবাড়ী বিদ্যালয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের একই চিত্র। এখানে চিকিৎসকের দুটি পদের দুটিই শূন্য। জেনারেল হাসপাতালে ৩৬ জন চিকিৎসকের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ২৬ জন। শূন্য রয়েছে ১০টি পদ। এ তো গেল জেল শহরের চিত্র। উপজেলা স্বাস্থ্যসেবার চিত্র আরো ভয়াবহ।

সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৫ জনের বিপরীতে কর্মরত আছেন তিনজন চিকিৎসক। শূন্যপদ ১২টি। বিরল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০ জনের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৯ জন। চিকিৎসকের পদ শূন্য ১১টি। বোচাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৬ জনের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৯ জন। শূন্যপদ ১৭টি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে কিছু চিকিৎসক থাকলেও উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে মোটেও চিকিৎসক নেই। ফলে সেখান থেকে কোনো সেবাই পাচ্ছে না রোগীরা। এ ছাড়া দিনাজপুরে সাতটি অ্যাম্বুল্যান্স, ১০টি এক্স-রে মেশিন, তিনটি আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন, ইসিজি চারটি ও আটটি জেনারেটর অচল রয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলার সিভিল সার্জন ডা. মওলা বক্স চৌধুরী জানান, নিয়োগে সরকারের যে পক্রিয়া রয়েছে সেটিকে তরান্বিত করে বিশেষ বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসক নিয়োগ দিলে এই সংকট আর থাকবে না। তবে গ্রামীণ মানুষের সেবায় চিকিৎসকদের আরো বেশি আগ্রহী করে তুলতে শিক্ষাসহ অন্যান্য সেক্টরেও উন্নয়ন করতে হবে।



মন্তব্য