kalerkantho


কিশোরী গণধর্ষণ ও হত্যা

সিদ্ধিরগঞ্জে গ্রেপ্তার পলাতক আসামি

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি   

৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ২০১৭ সালে করা কিশোরী মুনমুন গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার পলাতক আসামিকে গতকাল সোমবার দুপুরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার রাহুল (২৪) নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানাধীন চৌরাপাড়ার হুমায়ূন কবিরের ছেলে। তাকে গ্রেপ্তারের কারণে এ মামলার সব আসামিকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হলো বলে দাবি করেছেন তদন্তকারী সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নজরুল ইসলাম।

তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, মুনমুন গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামি চারজনের মধ্যে তিনজনকে ঘটনার পরপর গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে নেছার আলী আদালতে দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। এরই মধ্যে আদালতে মামলার অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। তিন আসামিকে আটক করা হলেও রাহুল দীর্ঘদিন পলাতক ছিল। গোপন সংবাদের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন পলাতক রাহুল বন্দরের নবীগঞ্জে অবস্থান করছে। বন্দর থানা পুলিশের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রাহুল গ্রেপ্তার হওয়ার পর নিহত মুনমুনের পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করেছে। তারা মেয়ে হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছে। নিহতের মা সাথী বলেন, ‘রাহুলের বাবা হুমায়ূন আমাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকিধমকি দিয়েছেন। এতে করে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

উল্লেখ্য, বন্দর চৌড়াপাড়ার মানসিক প্রতিবন্ধী মুনমুনের সঙ্গে একই এলাকার মিন্টু মিয়ার ছেলে রাসেলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মেয়েটি প্রায়ই বিয়ের কথা বলত। কিন্তু ছেলেটি বিয়ে করতে চাইত না। বেশ কয়েকবার বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করলে ছেলেটি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে মেয়েটিকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে। ২০১৭ সালের ৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় রাসেলের বন্ধু নেছারের মাধ্যমে মেয়েটিকে চিত্তরঞ্জন ঘাটে নিয়ে আসে। ঘাটে আগে থেকে রাসেল, সাইফুল ও রাহুল উপস্থিত ছিল। তারা একটি নৌকা ভাড়া করে নদীতে ঘুরতে যায়। নৌকায় রাসেল, নেছার, সাইফুল ও রাহুল মেয়েটিকে যৌন নির্যাতন করে। মেয়েটি চেতনা হারালে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেয়। ১৮ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদীতে লাশ ভাসতে দেখে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। একই দিন পুলিশ সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি মামলা করে।



মন্তব্য