kalerkantho


অতিথিরা ভালো নেই

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি   

৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



অতিথিরা ভালো নেই

গোপালগঞ্জে প্রকাশ্যে অতিথি পাখি বিক্রি চলছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

গোপালগঞ্জে ব্যাপকহারে শিকার হচ্ছে অতিথি পাখি। শীতকালীন এসব পাখির সঙ্গে মারা পড়ছে দেশি প্রজাতির পাখিও। শিকারিরা বিভিন্ন বিল ও জলাশয়ে ফাঁদ পেতে প্রতি রাতে ধরে নিচ্ছে হাজার হাজার পাখি। পরে সেগুলো জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি করছে। এভাবে নির্বিচারে পাখি শিকার চলতে থাকলে বিল-বাঁওড়বেষ্টিত গোপালগঞ্জে একসময় পরিবেশ বিপর্যয় ঘটবে।

গোপালগঞ্জের পাঁচটি উপজেলায় রয়েছে ছোট-বড় শতাধিক বিল, বাঁওড় ও অসংখ্য জলাশয়। এর মধ্যে দুটি বড় বিল হচ্ছে জেলার মুকসুদপুর উপজেলার চান্দার বিল ও কোটালীপাড়ার বাঘিয়ার বিল। আর এসব বিল ও বাঁওড় এলাকায় রয়েছে শত শত পাখি শিকারি। এলাকাবাসী ও পাখি শিকারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক একটি ফাঁদ চক্রে দুই-তিনজন করে লোক থাকে। তারা পাখির সুর নকল করে বাঁশি বাজিয়ে জাল দিয়ে ফাঁদ পাতে। পাখি এসে ফাঁদে পা রাখলেই আটকে যায়। এভাবে একেকটি চক্র প্রতি রাতে ৫০ থেকে শতাধিক পাখি শিকার করে। এর মধ্যে বালিহাঁস, কালকুচ, চেগা, ভিলভিলি, ঢুংখোর, বক, শামুক খোলাসহ বিভিন্ন জাতের পাখি রয়েছে। এসব পাখি জেলার সদর উপজেলা ও কাশিয়ানী উপজেলার সাতপাড়, বৌলতলী, বলাকইড়, বনগ্রাম, সিংগা, হাতিয়াড়া, রাহুথর, উজানী বাজারসহ অন্তত ১৫টি স্থানে বিক্রি হয়ে থাকে। তা ছাড়া কোটালীপাড়া উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের নিতাই বাজার, কান্দি ইউনিয়নের ধারাবাশাইল, পিঞ্জুরী ইউনিয়নের তারাইল বাজার, বরইভিটা, কলাবাড়ী ইউনিয়নের রামনগর বাজারসহ ১২টি স্থানে এবং টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের তাড়াইল, জামাই, বাঁশ বাড়িয়া বাজারসহ বিভিন্ন গ্রামে পাখি বিক্রি হয়ে থাকে।

পাখি কিনতে আসা বৌলতলী গ্রামের এক যুবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘বাড়িতে মেহমান আইছে। তাদের জন্নি সাতপাড় বাজার থেইকা চারটি হাঁস পাখি কিনছি, পেত্যেকটি ছয় শ টাকা করে। এখানে শুধু হাঁস পাখি না, চেগা, কালকুচ, ঢুংখোরসহ মেলা (অনেক) ধরনের পাখি পাওয়া যায়। শুধু আমি না, আশপাশ গ্রামের মানুষ খুব ভোরে পাখি কিনতে আসে।’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাতপাড় বাজারের এক পাখি শিকারি বলেন, ‘পেটের দায়ে আমরা ঠাণ্ডা উপেক্ষা করে রাত জাইগা বিল পাথারে পাখি ধরি। সে পাখি মানুষের কাছে বিক্রি কইরা সংসার চালাই। আমরা হাঁস পাখি ছয় শ থেকে এক হাজার, কালকুচ তিন শ থেকে পাঁচ শ, চেগা পাখি এক শ থেকে দেড় শ, ভিলভিলি এক শ থেকে দেড় শ, ঢুংখোর দেড় শ থেকে দুই শ টাকায় বিক্রি করি।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিক্রির সময় স্থানীয় প্রভাবশালীরা ও প্রশাসনের লোকজন আমাদের ভয় দেখায়। তাদের কিছু দিতে হয়। এই জন্য আমরা দামটা একটু বেশি নিই।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গোপালগঞ্জ বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, ‘পশুপাখি সংরক্ষণ আমাদের কাজ। গোপালগঞ্জের বিভিন্ন বাজারে পাখি বিক্রি হয় শুনেছি; কিন্তু লোকবল সংকটের কারণে বের হতে পারিনি। তার পরও ভেবেছি, পুলিশ প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’ গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. সাইদুর রহমান খান বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। এরই মধ্যে জেলার পাঁচ থানার ওসিদের এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আশা করি, দ্রুত পাখি ধরা ও বিক্রি কমে যাবে।’ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকার বলেন, ‘জেলার বিভিন্ন বিলে পাখি শিকার এবং সেগুলো হাট-বাজারে বিক্রির খবর আমি পেয়েছি। এরই মধ্যে সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তাদের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’



মন্তব্য