kalerkantho


ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ সমাবর্তন রবিবার

দীর্ঘ অপেক্ষার মহাযজ্ঞ

শাহদাত তিমির, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়   

৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



দীর্ঘ ১৬ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ সমাবর্তন। আগামী রবিবার অনুষ্ঠেয় এ সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্টপতি মো. আবদুল হামিদ উপস্থিত থাকবেন। প্রায় ১০ হাজার গ্র্যাজুয়েটকে সনদ দেওয়া হবে এ সমাবর্তনে। এ উপলক্ষে নতুন ঢংয়ে সেজেছে ক্যাম্পাস। গড়ে তোলা হয়েছে নিরাপত্তার বলয়। এটি দেশের সর্ববৃহৎ সমাবর্তন অনুষ্ঠান বলেও দাবি করেছে প্রশাসন। তাই এ সমাবর্তনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন, ‘এত বড় একটি সমাবর্তন করা প্রশাসনের জন্য চ্যালেঞ্জ। আমরাও এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নিয়েছি। সমাবর্তনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাঙ্গনে নবজাগরণের সৃষ্টি হবে। বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিকীকরণের পথ সুগম হবে।’

১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেটে গেছে ৩৮ বছর। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে সমাবর্তন হয়েছে মাত্র তিনবার। প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯৩ সালের ২৭ এপ্রিল। পরে ১৯৯৯ সালের ৫ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় সমাবর্তন। তৃতীয় সমাবর্তনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়নি বেশিদিন। দ্বিতীয় সমাবর্তনের তিন বছর পরই ২০০২ সালের ২৮ মার্চ অনুষ্ঠিত হয় তৃতীয় সমাবর্তন। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ দেড় যুগ। এই দীর্ঘ সময়ে সমাবর্তনের ছোঁয়া পায়নি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। সমাবর্তনে আরো উপস্থিত থাকবেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান। সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বরেণ্য অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল।

জানা যায়, এ বছরের সমাবর্তনে ১৯৯৫-৯৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) এবং ১৯৯৬-৯৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষ স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) পর্যন্ত সব গ্র্যাজুয়েট ও পোস্ট গ্র্যাজুয়েটদের আনুষ্ঠানিক সনদ দেওয়া হবে। চতুর্থ সমাবর্তনে ৯ হাজার ৩৭২ শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছে। দেশের কোনো সমাবর্তনে এটাই সর্বোচ্চসংখ্যক গ্র্যাজুয়েট বলে দাবি করেছেন সমাবর্তন রেজিস্ট্রেশন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মন। তাদের মধ্য ৭৮ জন পোস্ট গ্র্যাজুয়েটকে প্রেসিডেনশিয়াল পদক ও সনদ দেওয়া হবে। এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে তাদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। সমাবর্তনে গ্র্যাজুয়েটদের উপেক্ষা করে পোস্ট গ্র্যাজুয়েটদের পদক দেওয়ায় মনঃক্ষুণ্ন হচ্ছে গ্র্যাজুয়েটরা। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথা অনুযায়ী পোস্ট গ্র্যাজুয়েটদের এ সনদ দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। অনুষ্ঠানে ২০ পোস্ট গ্র্যাজুয়েটকে (স্নাতকোত্তর অনুষদীয় প্রথম স্থান) স্বর্ণপদক ও সনদ তুলে দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। অনুষ্ঠানের জন্য ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে বৃহৎ প্যান্ডেল তৈরির কাজ চলছে, যেখানে স্বাচ্ছন্দ্যে ১০ হাজার শিক্ষার্থী বসতে পারবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

নিরাপত্তার ব্যাপারে নিরাপত্তা কমিটির আহ্বায়ক ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, ‘সমাবর্তন উপলক্ষে যেখানে যেমন নিরাপত্তা দরকার তা করা হয়েছে। সম্পূর্ণ ক্যাম্পাস এখন নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাবলয়ে আচ্ছন্ন।’

এ ছাড়া অর্থ, আবাসন, সংস্কৃতি, খাদ্য, স্পন্সর, পরিবহন, প্যান্ডেল, পদক, স্মরণিকা, নিরাপত্তা, কস্টিউম, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নসহ মোট ২৩টি কমিটি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটিগুলোকে দেওয়া দায়িত্ব ৯০ শতাংশ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন কমিটির আহ্বায়করা। এ ব্যাপারে আবাসন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মাহবুবল আরফিন বলেন, ‘আমরা আমাদের সাধ্যমতো সর্বোচ্চসংখ্যক লোকের আবাসনব্যবস্থা করার চেষ্টা করব। প্রয়োজনীয় সব আসবাব কেনা শেষ হয়েছে। আশা করছি, আবাসনে সংকট হবে না।’

এদিকে রাষ্ট্রপতির অপেক্ষায় আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের চার স্থাপনা। সমাবর্তনের দিনে আচার্য এসব স্থাপনার উদ্বোধন করবেন।

 



মন্তব্য