kalerkantho


বেলকুচি পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে কাউন্সিলররা একাট্টা

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



সিরাজগঞ্জের বেলকুচি পৌর কার্যালয়ে ভাঙচুর ও মেয়রকে লাঞ্ছিত করার ঘটনাকে পৌর মেয়রের মিথ্যাচার বলে দাবি করেছেন পৌর প্যানেল মেয়র ইকবাল রানাসহ আট কাউন্সিলর। বৃহস্পতিবার বিকেলে পৌর কাউন্সিলরদের কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে তাঁরা এ দাবি করেন।

কাউন্সিলররা বলেন, গত ১২ সেপ্টেম্বর বেলকুচি ডিগ্রি কলেজে কথিত ভিপি পৌর মেয়র আশানূর বিশ্বাসের ছেলে মিঠু বিশ্বাস ও নাতি রেদোয়ান বিশ্বাস একই কলেজের শিক্ষার্থী ভাঙ্গাবাড়ী ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন প্রমাণিকের ছেলে শাকিলকে গালাগাল করে কলেজ থেকে বের করে দেয়। পরে শাকিল তার সহপাঠীসহ কয়েকজনকে নিয়ে মিঠু বিশ্বাসের কাছে গেলে সে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় তারা তাকে ধাওয়া দিলে সে পৌর কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে। ধাওয়াকারীরাও তার পিছু নিয়ে পৌর কার্যালয়ে ঢোকে। এ সময় বেলকুচি প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইদুর রহমান বিষয়টি সমঝোতা করে ধাওয়াকারীদের ফিরিয়ে দেন। এতে কোনো ভাঙচুর বা গুলির ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু বিষয়টিকে পৌর মেয়র আশানূর বিশ্বাস চাঁদাবাজি ও তাঁকে লাঞ্ছিত করার দাবি করেছেন এবং একটি মামলাও করেছেন, যা সম্পূর্ণ মিথ্যাচার ও বানোয়াট। তদন্ত করলে আসল সত্য বেরিয়ে আসবে। কাউন্সিলররা আরো বলেন, পৌরসভার কোনো কাজেই তাঁদের মূল্যায়ন করা হয় না। মেয়র নিজের ইচ্ছামতো যা খুশি তাই করেন।

তবে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন চলাকালে পৌর মেয়র আশানূর বিশ্বাস কাউন্সিলরদের কক্ষে উপস্থিত হয়ে অশালীন আচরণ করেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঘটনার সূত্রপাত পারিবারিক কারণে। আমার মেয়ের জামাই সাজেদুলের ছোট ভাই উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক সাজ্জাদুল হক রেজা এ ঘটনার মূল অভিযুক্ত। বিভিন্ন সময়ে পৌরসভার ঠিকাদারি কাজ না দেওয়ায় রেজা আমার ওপর ক্ষিপ্ত। তাই গত ১২ সেপ্টেম্বর শাকিলের সঙ্গে রেজা ও তার সহযোগীরা পৌরসভায় ঢুকে ভাঙচুর করে এবং আমার ওপর আক্রমণ করতে কক্ষের দরজা ভাঙার চেষ্টা করে।’ পৌরসভায় কোনো গুলির ঘটনা ঘটেছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পৌরসভার বাইরে গুলির কথা শুনেছি।’ গুলির ঘটনা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলেও কেন তার প্রতিবাদ করেননি জানতে চাইলে কোনো জবাব দিতে পারেননি মেয়র।

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে পৌর ভবনের কয়েকজন জানান, দুই পক্ষের বিবাদের কারণে তাঁরা ভীতসন্ত্রস্ত। তবে স্থানীয়রা জানায়, পৌর মেয়র তাঁর পরিবারের লোকজনদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠিত করতে নানা কূটকৌশলের আশ্রয় নেন। এর আগেও মেয়রের সঙ্গে পৌর কাউন্সিলরদের বিরোধ হয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ থানায় মামলাও করেছে।

এ বিষয়ে বেলকুচি থানার ওসি সাজ্জাদ হোসেন জানান, মামলা দুটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 



মন্তব্য