kalerkantho


বেড়ায় বিষাক্ত বর্জ্যে ভুগছে দুই গ্রামবাসী

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, পাবনা   

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



পাবনার বেড়া উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে সুতা রং করার চারটি প্রসেস মিল। এসব কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে জগন্নাথপুর ও হাটুরিয়া গ্রামের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গ্রাম দুটিতে দুর্গন্ধের পাশাপাশি ঘরে ঘরে দেখা দিয়েছে চর্মরোগ ও পেটের পীড়া। অনেক বাড়ির হাঁস-মুরগি, গাছগাছালি ও খালের মাছ মরে যাচ্ছে। পানের অযোগ্য হয়ে পড়েছে নলকূপের পানি।

এলাকাবাসী জানায়, জগন্নাথপুর গ্রামে গত ১০-১২ বছরের মধ্যে একে একে চারটি প্রসেস মিল গড়ে উঠেছে। জাহাঙ্গীর আলম, আল-মাহমুদ মোল্লা, মোকসেদ আলী ও কাসেম প্রামাণিক এসব কারখানার মালিক। কারখানাগুলোতে সুতা রং ও প্রক্রিয়াজাত করা হয়। এসব কাজ করার জন্য কারখানায় ব্যবহার করা হয় নাইট্রিক এসিড, অ্যাসিটিক এসিড, কস্টিক সোডা, হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড, লবণসহ বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ। এর ফলে কারখানা থেকে প্রতিদিনই বের হচ্ছে প্রচুর পরিমাণে বিষাক্ত বর্জ্য। সেই বর্জ্য পরিশোধনের কোনো ব্যবস্থা না করেই ফেলা হচ্ছে পাশের খালে। বর্জ্য খালের পানিতে মিশে ছড়িয়ে পড়ছে জগন্নাথপুর ও হাটুরিয়া গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকায়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জাহাঙ্গীর আলম ও আল-মাহমুদ মোল্লার কারখানা দুটি জগন্নাথপুর গ্রামের কারিগরপাড়ায় অবস্থিত। কারখানাসংলগ্ন গ্রামের বেশির ভাগ বাড়ির লোকই দরিদ্র। পরস্পর সংযুক্ত কয়েকটি খালের পাড় ঘেঁষে সেখানকার বাড়িগুলো অবস্থিত। গ্রামে ঢুকতেই ঝাঁজালো ও উৎকট দুর্গন্ধ টের পাওয়া যায়। খালগুলোতে বিষাক্ত বর্জ্য মেশায় সেগুলোর পানি গাঢ় ও কুৎসিত বর্ণ ধারণ করেছে। গ্রামের লোকজন জানায়, কারখানাগুলোর বর্জ্যের কারণেই খালের পানির এই অবস্থা।

জগন্নাথপুরের কারিগরপাড়ার সাজেদা খাতুন তাঁর বাড়ির নলকূপ দেখিয়ে জানান, নলকূপ থেকে প্রায়ই ঘোলা ও কালো বর্ণের দুর্গন্ধযুক্ত পানি বের হয়। একটানা ১৫-২০ মিনিট পানি চেপে ফেলে দেওয়ার পর পানির রং একটু স্বাভাবিক হয়। কিন্তু তাতেও থাকে চরম দুর্গন্ধ। একই গ্রামের রেজাউল করিম জানান, খালের পাড়ে তাঁর বেল, মেহগনি, পেঁপে ও কাঁঠালগাছ ছিল। বিষাক্ত বর্জ্যের কারণে সব মরে গেছে। একসময় তিনি ও তাঁর প্রতিবেশী মাছ চাষ করতেন। কিন্তু খালে বর্জ্য আসার পর থেকে সেখানে আর মাছ চাষ করা যাচ্ছে না। মাছ ছাড়লেই সব মরে যায়। জগন্নাথপুর গ্রামের নূর মোহাম্মদ, হাটুরিয়া গ্রামের সিদ্দিক আলীসহ সাত-আটজন জানায়, একসময় তারা প্রধান খালে গোসল করত। কিন্তু বর্জ্যের কারণে এখন গোসল করার কোনো উপায় নেই।

একটি প্রসেস মিলের মালিক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘মিলের বর্জ্য আমাদের নিজেদের খালেই ফেলে থাকি। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত এ কারখানাটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার। কারখানার কারণে এলাকাবাসীর যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সেই ব্যাপারে আমরা সচেষ্ট আছি।’

বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা খানম বলেন, ‘ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের মিল যদি হয়ে থাকে, তবে তা অবশ্যই ক্ষতিকর। সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি দেখে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



মন্তব্য