kalerkantho


গাজীপুরের সড়ক মহাসড়কে যানজট

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



গাজীপুরে গতকাল বুধবার দিনভর সব সড়ক-মহাসড়কে তীব্র যানজট ছিল। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক, ঢাকা বাইপাস সড়ক ও টঙ্গী-ঘোড়াশাল-নরসিংদী সড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ছিল অনেক যানবাহন। ফলে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হয়। অনেকে রাজধানীর আবদুল্লাহপুর থেকে রওনা দিয়ে পাঁচ ঘণ্টায়ও গাজীপুর পৌঁছাতে পারেনি। 

গাজীপুর ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে গাজীপুরের জয়দেবপুর পর্যন্ত বিআরটি সড়ক প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। গতকাল ভোরে ভোগড়া পয়েন্টে মাটির নমুনা পরীক্ষার কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তারা ব্যারিয়ার দিয়ে সড়ক প্রায় বন্ধ করে কাজ করতে থাকে। এতে যানবাহন চলাচল বিঘ্নিত হয়। দুই ঘণ্টার মধ্যে বোর্ডবাজার পর্যন্ত গাড়ির দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়। অনেক চালক রং সাইড দিয়ে যেতে চাইলে একপর্যায়ে মহাসড়কের উভয় লেনে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যানবাহনের চাপও বাড়তে থাকে। এর প্রভাবে একে একে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক, ঢাকা বাইপাস সড়ক ও টঙ্গী-ঘোড়াশাল-নরসিংদী সড়কেও যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বাড়তে থাকে যানজট। দুপুরের পর তা তীব্র আকার ধারণ করে। ভোগান্তিতে পড়ে যাত্রীরা।

ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান কিরন জানান, আবদুল্লাহপুর থেকে রওনা দিয়ে যানজটের কারণে গাজীপুর পৌঁছাতে পাঁচ ঘণ্টারও বেশি লেগেছে। দেখে মনে হচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ এবং পুলিশের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি আছে।

গাজীপুর ট্রাফিক পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) সালেহউদ্দীন আহমেদ জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভোগড়ায় রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় কলাম্বিয়া গার্মেন্ট ও বোর্ডবাজার এলাকায় ডিভাইডারের কাটা দিয়ে উল্টোপথে গাড়ি ঢোকায় উভয় লেন বন্ধ হয়ে প্রথমে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে তা গাজীপুরের অন্য সড়ক-মহাসড়কে ছড়িয়ে পড়ে। 

এএসপি আরো জানান, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কটি দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যস্ততম সড়ক। উন্নয়নকাজের জন্য সড়ক বন্ধ করতে হলে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান বা সওজ বিভাগ থেকে ট্রাফিক পুলিশকে জানানো প্রয়োজন। সড়ক বন্ধের ব্যাপারে পুলিশকে আগে জানানোর বিষয়টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বারবার বলা হয়েছে, যাতে রোড ডাইভারশন দেওয়া যায়। কিন্তু তারা এসব আমলে নিচ্ছে না বলে এএসপির অভিযোগ।


মন্তব্য