kalerkantho


মিরসরাই আওয়ামী লীগ

সভা করেও ‘ঠাণ্ডা’ হচ্ছে না তৃণমূল

এনায়েত হোসেন মিঠু, মিরসরাই (চট্টগ্রাম)   

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



সভা করেও ‘ঠাণ্ডা’ হচ্ছে না তৃণমূল

টানা দুই দফা দল রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকার পরও অবমূল্যায়িত হওয়ার কারণে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। অবশ্য তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজমান অসন্তোষ আর অনাস্থা নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। তিনি ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও পৌরসভা পর্যায়ে তৃণমূল প্রতিনিধিসভা ডেকে দলে শান্তি ফেরানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে তাতেও শান্তি ফিরছে না।

পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা দলটির একাধিক নেতা কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, ক্ষমতা যত দীর্ঘ হচ্ছে, দলের প্রকৃত নিবেদিতপ্রাণ কর্মীরা তত কোণঠাসা হয়ে পড়ছে। দিন যত যাচ্ছে, তত সুবিধাবাদী অংশের আধিপত্য-ক্ষমতা বাড়ছে। বিশেষ করে, ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন ও পৌরসভা নির্বাচনে দলের মনোনয়ন নিয়ে যারা চেয়ারম্যান-মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন তাঁদের দোর্দণ্ড প্রতাপে দলের দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতারা দিশাহারা।’

মিরসরাই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বলেন, ‘আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় ঐক্যকে শক্তিশালী করতে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের বক্তব্য শুনছেন। এ লক্ষ্যে গত নভেম্বর থেকে আমাদের ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও পৌরসভা পর্যায়ে প্রতিনিধিসভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।’

স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জানান, এ পর্যন্ত উপজেলার আট ইউনিয়ন ও এক পৌরসভা এলাকায় সফলভাবে তৃণমূল কর্মিসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাকি আরো আট ইউনিয়ন ও এক পৌরসভায় কর্মিসভা হবে। আশা করছি, জানুয়ারির মধ্যে এসব সভার কার্যক্রম শেষ হবে।

এদিকে এসব প্রতিনিধিসভায় নেতাকর্মীদের বক্তব্য শোনার পর দলের পক্ষ থেকে আশানুরূপ পদক্ষেপ না আসায় এখনো তৃণমূলে হতাশা কাটেনি। উপজেলার মিরসরাই সদর ইউনিয়নের ওয়ার্ড পর্যায়ের সাধারণ সম্পাদক পদের এক নেতা নিজের নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, ‘গত ২৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিসভা। ওই সভায় মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। অথচ দলের ৫০০ নেতাকর্মীর মধ্যে উপস্থিত ছিল মাত্র ১৫-২০ জন। পরে সভা আর হয়নি। এর কারণ হিসেবে আমরা দলের কয়েকজন নেতার দ্বন্দ্ব-সংঘাতকে দায়ী করেছিলাম। অথচ এর পরও দায়ী নেতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে আমরা হতাশ।’

সর্বশেষ প্রতিনিধিসভা অনুষ্ঠিত হয় মিরসরাই পৌর আওয়ামী লীগের। গত ৯ ডিসেম্বর বিকেলে স্থানীয় পাইলট স্কুল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভাজুড়ে ছিল শুধু আনুষ্ঠানিকতা। এখানে অনুষ্ঠিত সভা নিয়ে পৌসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের এক সদস্য বলেন, ‘আমাদের নেতা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এসেছিলেন আমাদের কথা শোনার জন্য। আমরাও বেশ আগ্রহের সঙ্গে প্রতিনিধিসভায় অংশ নিয়েছি। অথচ সভাস্থলে গিয়ে দেখি যেসব নেতার অপকর্মের বিরুদ্ধে আমরা কথা বলব, তাঁরাও সভার প্রথম সারিতে উপস্থিত আছেন। অনেক অভিযোগ-অনুযোগের কথা বলার ইচ্ছা থাকলেও প্রভাবশালী ওই সব নেতার ভয়ে আমরা বলতে পারিনি।’

এদিকে দলের প্রতিনিধিসভার সুফল নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আতাউর রহমান। তিনি বলেন, ‘এককথায় আমি হতাশ। এ জন্যই হতাশ, আমাদের নেতা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের পরামর্শে যে লক্ষ্য নিয়ে প্রতিনিধিসভা ডাকা হয়েছে, দলের নেতাদের ব্যক্তিস্বার্থ আর কোন্দলের জন্য তা পুরোপুরি সফলতার মুখ দেখছে না।’

স্থানীয় আওয়ামী লীগ সভাপতি আরো বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে ঘরে ঘরে গিয়ে কর্মী সংগ্রহ করবে। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বেশি বেশি করে তুলে ধরবে। এ ছাড়া দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি অনুযায়ী নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তকরণ অভিযানে মনোনিবেশ করবে।’



মন্তব্য