kalerkantho


ময়মনসিংহ

শম্ভুগঞ্জ সেতু এলেই গাড়ির গতি শম্ভুক!

নিয়ামুল কবীর সজল, ময়মনসিংহ    

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



শম্ভুগঞ্জ সেতু এলেই গাড়ির গতি শম্ভুক!

ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জ সেতুর ওপর দীর্ঘ যানজট। এই ছবি নিত্যদিনের। ছবি : জাহাঙ্গীর কবির জুয়েল

জেলাবাসীর এক যন্ত্রণার নাম ময়মনসিংহ শহরছোঁয়া ব্রহ্মপুত্র নদের শম্ভুগঞ্জ সেতু এলাকার যানজট। এই সেতু ও সেতুর দুই দিকের সড়কে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ভয়াবহ যানজট হয়। এ পথে প্রতিদিন যাতায়াতকারী লক্ষাধিক যাত্রীর গড়ে এক ঘণ্টা বা এরও বেশি সময় নষ্ট হচ্ছে। যানজটের কারণে অনেকে বাস থেকে নেমে হেঁটে সেতু এলাকা পার হয়ে শহরে ঢোকে। এতে অনেকে ছিনতাইয়ের কবলেও পড়ে। এদিকে শহরের দক্ষিণ দিকের কেওয়াটখালী, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বলাশপুর এলাকার লোকজন যাতায়াত করতে গিয়ে এ যানজটের কারণে ভোগান্তি পোহাতে হয়। স্কুল-কলেজ, হাট-বাজার, অফিস-আদালতে যেতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়ে এলাকাবাসী।

এই যানজটের জন্য গাড়ির যাত্রী ও শহরবাসী প্রধানত দায়ী করেছে বড় বাসগুলোর চালকদের স্বেচ্ছাচারিতা ও খামখেয়ালীপনাকে। চালকদের অনেকেই ট্রাফিক আইন মানে না, মূল সড়কে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা করায়। ট্রাফিক পুলিশও দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। দেখা গেছে, যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ কোনো একদিকের গাড়ি ১৫-২০ মিনিট আটকে রাখে। এতে যানজট আরো বাড়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ময়মনসিংহের সবচেয়ে ব্যস্ত বাসস্ট্যান্ড শম্ভুগঞ্জ সেতুসংলগ্ন পাটগুদাম বাসস্ট্যান্ড। এখান থেকে শেরপুর, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ জেলা সদর এবং এসব জেলার বিভিন্ন উপজেলার উদ্দেশে অনেক বাস ছেড়ে যায়। এ ছাড়া উত্তর ময়মনসিংহের সাতটি উপজেলা ও শম্ভুগঞ্জ বাজারের লাখো মানুষ যাতায়াত করে এ বাসস্ট্যান্ড থেকে শম্ভুগঞ্জ সেতু দিয়ে। শেরপুর, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী বাসগুলোও এ সেতু ও ময়মনসিংহ শহর হয়ে চলাচল করে। শিক্ষক, চিকিৎসক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লাখো মানুষের আশপাশের জেলা-উপজেলায় নিত্য আসা-যাওয়া সেতুটি পার হয়ে। এ সেতু এলাকা, পাটগুদাম বাসস্ট্যান্ড ও পাটগুদাম ট্রাফিক মোড়ে কয়েক বছর ধরেই ভয়াবহ যানজট হচ্ছে। আশপাশের বাস-ট্রাকগুলো এ এলাকায় এসেই জটে পড়ছে। ফলে বাসের ট্রিপের সংখ্যা কমছে। নির্দিষ্ট সময়ে যাত্রীরা গন্তব্যে পৌঁছতে পারছে না। অনেক সময় সেতুর উত্তরা-পূর্বাংশে যানজটের কারণে অনেক যাত্রী বাস থেকে নেমে হেঁটে শহরে আসে। তবে সেতু এলাকায় ছিনতাইয়ের কবলেও পড়ে অনেকে। পাটগুদাম ট্রাফিক মোড় এলাকার যানজটের কারণে শহরের কেওয়াটখালী, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার বাসিন্দারাও ভোগান্তি পোহায়। আধা ঘণ্টা-এক ঘণ্টার আগে এলাকাবাসী এ মোড় পার হতে পারে না। সব মিলিয়ে পাটগুদাম মোড় ও শম্ভুগঞ্জ সেতু পার হওয়া যানবাহন চালক ও যাত্রীদের বিড়ম্বনার শেষ নেই। বৃহত্তর ময়মনসিংহবাসীর অন্যতম প্রধান দাবি হয়ে উঠছে এ সেতুর যানজট নিরসন।

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সহকারী শিক্ষক ভাস্কর সেন গুপ্ত টিটুল জানান, তিনি সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রাইভেট কার বা ইজি বাইকে পাটগুদাম ট্রাফিক মোড় পার হয়ে ১৫ মিনিটে শহর থেকে কলেজে পৌঁছান। কিন্তু বিকেলে ওই গাড়িতে এ ট্রাফিক মোড় পার হয়ে বাসায় ফিরতে প্রায় দুই ঘণ্টা লেগে যায়। তিনি বলেন, ‘এ মোড়ে সব যানবাহনই বিশৃঙ্খল অবস্থায় থাকে। যেখানে-সেখানে বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো হয়। এ কারণেই মোড়ে যানজট হয়।’ তারাকান্দা উপজেলা থেকে শম্ভুগঞ্জ সেতু হয়ে নিয়মিত শহরে আসেন হাজীগঞ্জ (তারাকান্দা) উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এনামুল হক। তিনি বলেন, যানজটের কারণে সেতু এলাকায় তাঁকে প্রতিদিনই এক-দেড় ঘণ্টা আটকে থাকতে হয়। পাটগুদাম মোড়ে ও সেতু এলাকায় ট্রাফিক আইন অনেকেই মানে না। ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ সদস্য গৌরীপুর উপজেলার খায়রুল বাশার বলেন, ‘শম্ভুগঞ্জ সেতু ও পাটগুদাম ট্রাফিক মোড়ের কথা মনে হলেই ময়মনসিংহ শহরে আসতে মন চায় না।’

সরেজমিন দেখা গেছে, যানবাহন চালকদের ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতা অনেক বেশি। ট্রাফিক মোড় পার হয়ে সেতুর দিকে যাওয়ার সময় অনেক বাসই সড়কে দাঁড়িয়ে যাত্রী তোলে বা গাড়ি ধীরগতিতে চালানো হয়। আর রয়েছে ট্রাফিক পুলিশের অদূরদর্শিতা। দেখা যায়, ট্রাফিক পুলিশ সেতু পার হয়ে শহরের দিকে আসা যানবাহনগুলোকে দীর্ঘ সময় আটকে রাখছে। ওদিকে যে ভয়াবহ যানজট হচ্ছে তাতে খেয়াল নেই পুলিশের। একই চিত্র পাটগুদাম বিহারি ক্যাম্পের সামনেও। সেখানে শহর থেকে যাওয়া গাড়িগুলোকে পুলিশ দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখে। এতে যানজট হয়তো পাটগুদাম ট্রাফিক মোড়ে হয় না, কিন্তু তা আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। সম্প্রতি এখানে সড়ক প্রশস্ত করার কাজও চলছে। কাজটি আরো বেশি শ্রমিক দিয়ে দ্রুত শেষ করা প্রয়োজন বলে অনেকে মন্তব্য করেছে।

ময়মনসিংহের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ট্রাফিক বিভাগের বেশির ভাগ সদস্য এ সেতু এলাকার যানজট নিরসনে সব সময়ই ব্যস্ত থাকে। এ যানজট নিয়ে তাঁদেরও দুশ্চিন্তার শেষ নেই।

ময়মনসিংহ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ খান বলেন, পাটগুদাম ট্রাফিক মোড় প্রশস্ত করা হচ্ছে। মোড়টি প্রশস্ত হলে এখানে যানজট কমে যাবে। এ ছাড়া সড়ক বিভাজক নির্মাণ করা হচ্ছে। সেতুর উত্তর দিকের সড়কগুলোর কার্পেটিং শেষ। তিনি বলেন, ‘নিয়ম মেনে ও ধৈর্য ধরে গাড়ি চালালে এখন এখানে সহজে যানজট হওয়ার কথা নয়।’



মন্তব্য