kalerkantho


পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প

ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন সুবিধা দেওয়া শুরু নারায়ণগঞ্জে

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



বাংলাদেশ রেলওয়ের পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের (পিবিআরএলপি) অধীনে ক্ষতিপূরণের চেক দেওয়ার মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন সহায়তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ফতুল্লার পাগলায় প্রাপ্তি সিটির মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে জেলার এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। গতকাল প্রাথমিকভাবে ২০ জনকে ক্ষতিপূরণের চেক দেওয়া হয়। নারায়ণগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্ত ২৬৭ জনকে পর্যায়ক্রমে ক্ষতিপূরণের চেক দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কনস্ট্রাকশন সুপারভিশন কনসালট্যান্ট (সিএসসি) ও বাংলাদেশ রেলওয়ের সহযোগিতায় প্রকল্প বাস্তবায়নকারী বেসরকারি সংস্থা ড্রপ (ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন রুরাল পোর) ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি পিবিআরএলপির প্রকল্প পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব প্রকৌশলী গোলাম ফখরুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তাদের সবাইকে আর্থিকভাবে সহায়তা করা হচ্ছে, যাতে সমন্বিতভাবে কাজ করে পুনর্বাসনকাজ বাস্তবায়ন করা যায়। খুব স্বচ্ছভাবেই এই কাজ করা হচ্ছে।’

পিবিআরএলপি প্রকল্পের প্রধান প্রকৌশলী (ট্র্যাক অ্যান্ড ওয়ার্ক্স) মো. আফজাল হোসেনের সভাপতিত্বে ও রূপশ্রী চক্রবর্তীর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিএসসির ডেপুটি চিফ কো-অর্ডিনেটর (প্রধান সমন্বয়ক) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আব্দুল মুকিম সরকার, প্রকল্পের চিফ রিসেটেলমেন্ট কমকর্তা এ এম সালাহ উদ্দীন,  ড্রপের প্রতিষ্ঠাতা এ এইচ এম নোমান, ক্ষতিগ্রস্ত ফরিদা বেগম, মো. জাহাঙ্গীর প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সিএসসির তত্ত্বাবধানে ড্রপ পিবিআরএলপি পুনর্বাসন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া হয়ে ফরিদপুরের ভাঙা পর্যন্ত প্রথম ধাপের প্রকল্পে ৮২.৩৫ কিলোমিটার রেলপথে ক্ষতিগ্রস্ত তিন হাজার ৫৪৮ পরিবার রয়েছে। প্রকল্পটিতে ৩৫৮.৪১ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করা হবে। ২০২১ সালের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ চলছে। ড্রপ প্রকল্প এলাকায় ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা জরিপসহ জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ রেলওয়ের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং দুস্থ ও দরিদ্রদের জীবিকায়ন পুনঃস্থাপন প্রশিক্ষণ সহায়তা দিচ্ছে সরকার। প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্তরা ১৯৮২ সালে ভূমি অধিগ্রহণ আইনের আওতায় জেলা প্রশাসন থেকে ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে।

ড্রপের মিডিয়া ম্যানেজার আ হ ম ফয়সল জানান, এ প্রকল্পের অধীনে নারায়ণগঞ্জ জেলার পাগলা হয়ে মুন্সীগঞ্জ পর্যন্ত রেলসংযোগ প্রকল্পে ২৬৭ জন ক্ষতিগ্রস্তকে ২৫ কোটি টাকা পুনর্বাসন সহায়তা দেওয়া হবে। মঙ্গলবার প্রাথমিকভাবে ২০ ব্যক্তিকে ক্ষতিপূরণের চেক দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ২৬৭ জনকে দেওয়া হবে।

পরিচয়পত্র পেল ৪২ গ্রাম পুলিশ

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় পাঁচটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৪২ জন গ্রাম পুলিশকে পরিচয়পত্র দিয়েছে থানা পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ফতুল্লা মডেল থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রাম পুলিশদের গলায় এ পরিচয়পত্র ঝুলিয়ে দেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামালউদ্দিন। অপরাধীদের তথ্য সরবরাহে গ্রাম পুলিশদের তৎপর করতে থানার এ উদ্যোগ।

ওসি কামালউদ্দিন বলেন, ‘গ্রাম পুলিশ দিয়ে থানা পুলিশ অপরাধ দমনে সার্বিক সহযোগিতা পেয়ে থাকে। গ্রাম পুলিশরা অবহেলিত। জানতে পেরেছি, সরকারিভাবে গ্রাম পুলিশরা যে বেতন-ভাতা পান তা খুব কম। তার পরও তাঁরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় শ্রম দিতে প্রস্তুত। তাঁদের দাবিমতে, তাঁদের পরিচয়পত্র, বায়সাইকেল ও মোবাইল ফোন প্রয়োজন। তাঁদের পরিচয়পত্র দেওয়া হলো। তৎপরতা বৃদ্ধিতে দ্রুতই ফতুল্লা মডেল থানার পক্ষ থেকে বাইসাইকেল ও মোবাইল ফোন দেওয়া হবে।’


মন্তব্য