kalerkantho


টঙ্গী পশু হাসপাতালে মাঠকর্মীরাই ডাক্তার

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি   

১২ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



টঙ্গী পশু হাসপাতালে মাঠকর্মীরাই ডাক্তার

আব্দুল লতিফ পরাগ নির্ণয় করেন, মুজিবুর রহমান ব্যবস্থাপত্র লেখেন। তাঁরা দুজন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক প্রাণিসম্পদ বিভাগের টঙ্গী পশু হাসপাতালের মাঠকর্মী। বর্তমানে তারা ডাক্তার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

হাসপাতালের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আরশাদ হোসেন বলেন, প্রায় দেড় বছর ধরে এখানে ডাক্তারের পদ শূন্য। ভেটেরিনারি মেডিক্যাল অফিসার সোহরাব হোসেন অবসরে যাওয়ার পর এ পদে এখনো নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে মাঠকর্মীদেরই কাজ চালিয়ে নিতে হচ্ছে। ১৯৮৪ সালে তৎকালীন টঙ্গী পৌরসভা পরিচালিত পশু হাসপাতালটিকে এখনো এলাকার গুরুত্ব অনুসারে গড়ে তোলা হয়নি।

প্রায় ছয় লাখ জনসাধারণ অধ্যুষিত দেশের অন্যতম বৃহৎ এই শিল্পাঞ্চল বর্তমানে সম্প্রসারিত আবাসিক এলাকায় রূপ নিয়েছে। টঙ্গী ও আশপাশের এলাকায় রয়েছে অর্ধশতাধিক গ্রাম। যেখানে বিপুলসংখ্যক গবাদি পশু লালন-পালন করা হয়। সম্প্রতি এখানে গড়ে উঠেছে অনেক পোল্ট্রি ফার্ম। এ ছাড়া আবাসিক এলাকাগুলোতে গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি লালন-পালন করা হয়। দুর্ঘটনায় আহত ও নানা রোগে আক্রান্ত গবাদি পশুপাখির একমাত্র চিকিৎসাকেন্দ্র এটি। অথচ এই হাসপাতালটি বিভিন্ন সমস্যায় ডুবে রয়েছে। দুজন মাঠকর্মী, একজন অফিস সহায়ক ও একজন আয়া ছাড়া এখানে পশুপাখি সম্পর্কে অভিজ্ঞ কোনো কর্মকর্তা নেই। প্রতিদিন রোগাক্রান্ত ও দুর্ঘটনাজনিত আঘাতপ্রাপ্ত গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, কুকুর, হাঁস-মুরগি ও কবুতরসহ অন্যান্য পোষা প্রাণী নিয়ে আসা হয় এই হাসপাতালে। অনেক ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারসহ অন্য উপযুক্ত চিকিৎসার প্রয়োজন দেখা দেয়। কিন্তু হাসপাতালে সে ব্যবস্থা না থাকায় সমস্যায় পড়তে হয়। ভেটেরিনারি চিকিৎসার জন্য নেই কোনো যন্ত্রপাতি ও প্রয়োজনীয় লোকবল। এখানে শুধু ভ্যাক্সিন সরবরাহ করা হয়। অন্যান্য ওধুষ কিনে নিতে হয়।

মাঠকর্মী মুজিবুর রহমান বলেন, ‘ডাক্তার না হলেও লোকে আমাকে ডাক্তার হিসেবেই জানে। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছি। ডাক্তার নিয়োগ দিলেই আমার দায়িত্বে ফিরে যাব।’

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের টঙ্গী আঞ্চলিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম জহুরুল আলম বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের অর্গানোগ্রাম অনুসারে পদ সৃষ্টি করে হাসপাতালের নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু হবে। তখন আর সমস্যা থাকবে না।’



মন্তব্য