kalerkantho


রাজবাড়ী

বিনা মূল্যের ঘরে ব্যক্তিগত টাকা খরচ, তদন্ত কমিটি

রাজবাড়ী প্রতিনিধি   

১২ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



রাজবাড়ীতে সরকারি প্রকল্পের বিনা মূল্যের ঘর তৈরিতে ব্যক্তিগত টাকা ব্যয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তাঁর কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির ‘যার জমি আছে ঘর নেই, তার নিজ জমিতে গৃহনির্মাণ’ প্রকল্পের অধীনে রাজবাড়ী সদর উপজেলার ৭০টি ঘরের চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠান গতকাল সোমবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে হয়। জেলা প্রশাসক মো. শওকত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী। আরো বক্তব্য দেন সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ খালেক, ভাইস চেয়ারম্যান শাহিনুর আক্তার বিউটি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দা নুর মহল আশরাফী, ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান সেখ গোলাম মোস্তফা বাচ্চু, আতাহার হোসেন, ঘর পাওয়া পরিবারের সদস্য অতুল চৌধুরী, মমতাজ বেগম, আব্দুল আলিম প্রমুখ। ঘর পাওয়া ৪৫টি পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ঘর পাওয়া দাদশী ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের মাজেদা বেগম উঠে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘এখানে সবাই বলছেন বিনা মূল্যের ঘর। কিন্তু আমি যে এনজিও থেকে কিস্তির ২৫ হাজার টাকা তুলে ইট, বালু, সিমেন্ট কিনে ঘর তৈরিতে লাগালাম, তার কী হবে? আমার স্বামী তো অসুস্থ, ঘরে পড়ে আছেন।’ তখন জেলা প্রশাসক মাজেদাকে এসে মাইকে অভিযোগটি বলার অনুরোধ করেন। মাজেদা মাইকে একই কথা বলেন। জেলা প্রশাসক দাদশী ইউপির চেয়ারম্যান হাফেজ লোকমান হোসেনের কাছে জানতে চান, যেখানে একটি টাকাও অতিরিক্ত লাগার কথা না সেখানে মাজেদা ঋণ করে কেন ২৫ হাজার টাকা খরচ করলেন। জবাবে লোকমান বলেন, মাজেদার বাড়ির জমি অত্যন্ত নিচু। তাই তাঁকে জমিটি উঁচু করতে বলা হয়। মাজেদা তখন বলেছিলেন, মাটি উঁচু করে দিতে। মাটি উঁচু করলে ঘর নির্মাণের কিছু টাকা তিনি দেবেন। এ জন্যই মাজেদাকে অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে হয়েছে। এ কথা শুনে জেলা প্রশাসক অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন এবং কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেন।

জেলা প্রশাসক বক্তব্যকালে জানান, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেশের দুই লাখ ৮০ হাজার গৃহহীন পরিবারের ঘর নির্মাণ করা হবে। প্রথম পর্যায়ে দেশে ২৫ হাজার ঘর তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি ঘরের জন্য এক লাখ ৩০ হাজার টাকা জুন মাসে বরাদ্দ হয়। ৩০ হাজার টাকা কর বাদ দিয়ে জেলার চারটি উপজেলার ইউএনওরা এক লাখ টাকা করে তোলেন। রাজবাড়ী সদর, গোয়ালন্দ, বালিয়াকান্দি ও পাংশায় এমন ৭১১টি ঘর তৈরি করা হয়েছে। রবিবার গোয়ালন্দের ৩২৭টি ঘরের চাবি হস্তান্তর করা হয়। জেলায় আরো এক হাজার ঘর তৈরির চাহিদাপত্র আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে। তা ছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে নদীভাঙনের শিকার ইউনিয়নগুলোয় ৫০০ ঘর তৈরি করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার এই প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো অন্তরায় যেন না থাকে; দরিদ্র পরিবারই যেন ঘর পায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।



মন্তব্য