kalerkantho


কুড়িগ্রামে এবার আলুচাষে বেশির ভাগই অনাগ্রহী

বীজ আছে, ক্রেতা নেই

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি   

১২ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



গত বছর কুড়িগ্রামে আলুবীজের সংকট ছিল। কিন্তু এবারের চিত্র ভিন্ন। বাজারে আলুবীজের প্রচুর সরবরাহ থাকলেও ক্রেতার দেখা মিলছে না। একই অবস্থা বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) জেলা বীজ হিমাগারেও। সেখানেও বিপুল পরিমাণ আলুবীজ পড়ে আছে। ফলে হাত গুটিয়ে বসে আছে বিক্রেতারা। মূলত দাম পড়ে যাওয়ায় লোকসানের আশঙ্কায় বেশির ভাগ কৃষকই এবার আলু চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত বছর জেলায় ছয় হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়। বাম্পার ফলনের কারণে হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করতে পারেনি অনেক চাষি। ক্রেতার অভাবের সঙ্গে দামও পড়ে গিয়েছিল। এ বছর সমপরিমাণ জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হলেও গতকাল সোমবার পর্যন্ত মাত্র ৩০ শতাংশ জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে। অথচ রোপণ মৌসুম প্রায় শেষের পথে। অন্যদিকে আলু চাষিরা জানায়, মৌসুমের শেষে এসে আলুর বাজারে ধস নেমেছে। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি আলুর দাম চার টাকায় নেমে এসেছে। এতে পুঁজি হারিয়েছে অনেক ব্যবসায়ী। লোকসানের ধকল কাটানো কঠিন হয়ে পড়েছে ছোট-বড় অনেক চাষির। তাই আলু চাষে আগ্রহ কমে গেছে তাদের।

সরেজমিনে সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, ডিলার ও খুচরা বীজ বিক্রেতাদের দোকানের সামনে আলুবীজের বস্তা জমে আছে। বিএডিসি ও অন্য বেসরকারি কম্পানির বীজের মজুদও প্রচুর। কিন্তু সে তুলনায় বিক্রি কম। বিএডিসির আলুবীজ জাতভেদে প্রতি কেজি ২৫-২৬ টাকা নির্ধারণ করা হলেও ডিলাররা প্রতি কেজিতে দুই-তিন টাকা লোকসান দিয়ে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে।

বাজারের বিএডিসির ডিলার হোসেন আলী জানান, গত বছর এ সময়ে আলুবীজের প্রচুর চাহিদা ছিল। এ বছর বীজ অবিক্রীত থাকার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।

আরেক ডিলার আব্বাস আলী জানান, সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রতি কেজিতে দুই-তিন টাকা কমে বিক্রি করতে চাইলেও ক্রেতা মিলছে না।

খুচরা বীজ বিক্রেতা তাজুল ইসলাম ও মানিক জানান, গত বছর স্থানীয়ভাবে সংরক্ষিত বীজ প্রতি কেজি ৪৭ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হলেও এবার তা সর্বনিম্ন ৯ টাকায় নেমে এসেছে। তাও চাহিদা নেই। বেসরকারি কম্পানির বীজের অবস্থাও একই।

বিএডিসির জেলা বীজ হিমাগারের উপপরিচালক মো. আবু তালেব জানান, এই হিমাগার থেকে ডিলারদের এক হাজার ৭৭২ মেট্রিক টন আলুবীজের বরাদ্দ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত ২২২ মেট্রিক টন আলুবীজ উত্তোলন হয়নি। 

তবে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র চাষিরা অর্থাভাবে আলু চাষ করতে না পারলেও অবস্থাসম্পন্ন কেউ কেউ চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় জমি লিজ নিয়ে চাষ করছে। রাজারহাটের রামরতন গ্রামের চাষি ফিরোজ মিয়া বলেন, ‘বীজের দাম কম থাকলেও অন্য উপকরণের দাম এবার বেশি। মজুরের দামও ঊর্ধ্বমুখী। তাই আলু চাষ করে অনেকেই লোকসানের আশঙ্কা করছে।’

আরেক চাষি সদরের সন্ন্যাসী গ্রামের তাজুল ইসলাম জানান, হিমাগারে আলু রেখে লোকসান হওয়ায় আলুর চাষ কমিতে দিতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। গত বছর পাঁচ একর জমিতে আলু চাষ করলেও এবার মাত্র তিন একর জমিতে চাষ করছেন। 

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও ভালো দাম না পাওয়ার কারণে আলু চাষে এবার চাষিদের আগ্রহ কিছুটা কম। বীজের চাহিদাও কম। তবে রোপণ শেষে প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাবে।’


মন্তব্য