kalerkantho


নবীনগরে আ. লীগ নেত্রী খুন

দলীয় ও স্থানীয় বিরোধই কারণ!

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া   

২৪ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক স্বপ্না আক্তার স্থানীয় ও দলীয় বিরোধের কারণে খুন হয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করছে তাঁর পরিবার। গত বুধবার রাত দেড়টায় নবীনগর থানায় দায়ের করা মামলায় এ ধরনের অভিযোগ এনেছেন স্বপ্নার ভাই আমীর হোসেন।

সন্দেহভাজন কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগে বলা হয়, স্বপ্না আক্তার আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার কারণে দলীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন বিষয়ে উল্লিখিত ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ চলছিল। ওই মতবিরোধের কারণেই তাঁকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে আমীর হোসেন জানান, পূর্ববিরোধের কারণেই তাঁর বোনকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন তিনি। এ কারণে অভিযোগে এসব বিষয় উল্লেখ করেছেন।

মামলায় কাউকে আসামি করা হয়নি। তবে অভিযোগে বলা হয়, বাঙ্গরা উত্তরপাড়ার আপন, বিল্লাল হোসেন, নাহিদ, মেরকুটা গ্রামের যুবলীগ নেতা আলমগীর, চারপাড়ার সাঈদ, নাজিম উদ্দিন ও হারুয়ার জাহাঙ্গীর ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন।

জাহাঙ্গীরের সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে প্রায়ই যাতায়াত করতেন স্বপ্না। এরই মধ্যে জাহাঙ্গীরকে আটক করেছে পুলিশ। তবে তাঁর কাছ থেকে তেমন কোনো তথ্য মেলেনি বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, বাঙ্গরা বাজার পরিচালনার জন্য কমিটি গঠনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন স্বপ্না আক্তার। এ ছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন মামলা নিয়েও অনেকের সঙ্গে স্বপ্না আক্তারের বিরোধ দেখা দেয়। থানার পুলিশের সঙ্গে স্বপ্না আক্তারের সখ্য থাকার বিষয়টিও অনেকে অপছন্দ করত।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ের করা অভিযোগের বাইরেও অন্যান্য বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। সাধারণ তদন্তের পাশাপাশি প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হচ্ছে। ঘটনার আগে কার কার সঙ্গে ভিকটিমের যোগাযোগ হয়েছিল সে বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, জাহাঙ্গীরের অটোরিকশায় করে স্বপ্না আক্তার প্রায়ই যাতায়াত করতেন। তবে ঘটনার সময় তাঁর অটোরিকশা ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অটোরিকশাচালক ও অটোরিকশা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেলে তদন্তকাজের অগ্রগতি হবে।   

গত বুধবার রাতে বাড়ি ফেরার পথে বাঙ্গরা এলাকায় দুর্বৃত্তদের হামলায় খুন হন স্বপ্না আক্তার। কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার গিয়াস উদ্দিনের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার নবীনগর উপজেলার জিনোদপুর ইউনিয়নের চারপাড়া গ্রামে বাবার বাড়িতে থাকতেন। তাঁর বাবার নাম লিল মিয়া। মো. ইরফান (১২) নামে এক ছেলেসন্তান রয়েছে স্বপ্নার।

স্বপ্নার স্বামী গিয়াস উদ্দিনের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। এর আগে ইউপি নির্বাচন ঘিরেও স্বপ্নার ওপর দুর্বৃত্তরা হামলা করেছিল।

জিনোদপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ বলেন, বাজার কমিটির দ্বন্দ্ব নিয়ে এমন ঘটনা ঘটতে পারে না।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল হালিম বলেন, দলীয় কোনো কারণে স্বপ্না খুন হতে পারেন, সেটা তিনি বিশ্বাস করেন না। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকার বলেন, সারা দেশে যে ধরনের গুপ্ত হত্যা চলছে, এরই ধারাবাহিকতায় এটা হয়েছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগে কোনো কোন্দল নেই।  


মন্তব্য