kalerkantho


পিইসি পরীক্ষাতেও প্রক্সি!

শেরপুরে আটক ৯ শিশু শিক্ষার্থী

শেরপুর প্রতিনিধি   

২৪ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



শেরপুরে আটক করা হয়েছে পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষার (পিইসি) ৯ জন ‘নকল’ পরীক্ষার্থীকে। শ্রীবর্দী উপজেলার সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে তারা পরীক্ষা দিচ্ছিল।

এর আগে পিইসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পাওয়া এসব শিশু শিক্ষার্থী এ বছরে অন্য পরীক্ষার্থীর নামে নিবন্ধন করেছিল। স্কুলের ‘সুনাম’ বাড়াতে কর্তৃপক্ষ এ অপকৌশল নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। গতকাল বৃহস্পতিবার ‘প্রক্সি’ দেওয়া এসব শিশু শিক্ষার্থীকে আটকের পর মুচলেকায় অভিভাবকদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি ও অনুসন্ধানে ধরা পড়ে পিইসি পরীক্ষার বিশেষ অপকৌশল। তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে গতকাল সকালে গোয়েন্দা কর্মকর্তাসহ শ্রীবর্দী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় পুলিশের টিম উপস্থিত ছিল। শ্রীবর্দী উপজেলা সদরের কেন্দ্রটি থেকে ধর্ম পরীক্ষা চলাকালে আটক করা হয় হেরুয়া বালুঘাট মডেল স্কুলের শিক্ষার্থী ফজলুল হক, লিপি, সজিব, লাভলু, স্বপন মিয়া, সবুজ, আপন, সাব্বির হোসেন নিলয় ও স্বপনকে। তারা আগের দুই বছরে সমাপনী পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। এ ক্ষেত্রে মূল পরীক্ষার্থী ছিল সাব্বির আহম্মেদ রিতুন, শিখা আকতার, মাহমুদুল হাসান পলাশ, হাবিবুর রহমান হাবিব, হাবিবুর রহমান, রাকিব মিয়া, শাকিল হোসেন সাব্বির, ফেরদৌস হোসেন ও সেলিম হাসান।

এসব শিক্ষার্থী হেরুয়া বালুঘাট মডেল স্কুলে অধ্যয়নরত হলেও নিবন্ধন করা হয়েছে জেলার বিভিন্ন স্কুল থেকে।

শ্রীবর্দী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা খালেদা নাসরিন বলেন, ‘অভিযুক্তরা যেহেতু শিশু তাই তাদের অভিভাবকদের ডেকে জরিমানা করা হবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতনদের কাছে অভিযোগ পাঠানো হবে। ’

এদিকে পরীক্ষাকেন্দ্রে অভিযানের পর গাঢাকা দিয়েছেন হেরুয়া বালুঘাট মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম সাদা। তাঁকে আটকে অভিযান শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ‘প্রক্সি’ সিস্টেমে স্কুলের সুনাম বাড়ানোর এ অপতত্পরতায় জেলার আরো কয়েকটি স্কুল জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে। গোয়েন্দা সংস্থা সেগুলোর ব্যাপারে  অনুসন্ধান অব্যাহত রাখবে বলে কর্মকর্তারা জানান।


মন্তব্য