kalerkantho


রংপুর সিটি নির্বাচন

ঝন্টু এগিয়ে আয়ে বাবলা ব্যাংকঋণে

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর   

২৪ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ঝন্টু এগিয়ে আয়ে বাবলা ব্যাংকঋণে

রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনয়ন দাখিলকারী গুরুত্বপূর্ণ পাঁচজনের মধ্যে চারজনই স্নাতক পাস। তাঁরা হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু, জাতীয় পার্টির মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, বিএনপির কাওছার জামান বাবলা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক পৌর মেয়র এ কে এম আব্দুর রউফ মানিক।

গুরুত্বপূর্ণ আরেক প্রার্থী জাপা চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের ভাতিজা হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ আইএ পাস।

এই পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে বার্ষিক আয় সর্বোচ্চ নৌকা প্রতীকের ঝন্টুর ৪৬ লাখ, লাঙ্গল প্রতীকের মোস্তফার সাড়ে তিন লাখ, ধানের শীষের বাবলার ১৫ লাখ এবং স্বতন্ত্র মানিকের ১৪ লাখ ও আসিফের সাত লাখ টাকা। এ ছাড়া ঝন্টুর ঋণ আছে ৯ লাখ (ব্যাংকঋণ কি না স্পষ্ট করা হয়নি), মোস্তফার ব্যাংকঋণ ১৫ লাখ, বাবলার ব্যাংকঋণ ৫০ কোটি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মানিকের ব্যক্তিগত ঋণ আট লাখ ও আসিফের ব্যক্তিগত ঋণ ১০ লাখ টাকা।

নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে প্রার্থীদের দাখিল করা হলফনামা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। আইন অনুযায়ী, হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুসন্ধান চালিয়ে বা অভিযোগ উত্থাপিত হলে অনুসন্ধান করে ভুল তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবে নির্বাচন কমিশন। এতে অভিযোগ প্রমাণিত হলে নির্বাচিত হওয়ার পরও তাঁর মেয়র পদ বাতিলও হতে পারে।

ঝন্টুর সম্পত্তি : হলফনামা অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র শরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু বিকম পাস। তাঁর কোনো কৃষিজমি নেই। তিনি বার্ষিক সর্বমোট আয় দেখিয়েছেন ৪৫ লাখ ৯৩ হাজার ১৪০ টাকা।

এর মধ্যে মেসভাড়া থেকে পান ৭৫ হাজার টাকা, স্ত্রীর ব্যবসা থেকে পাঁচ লাখ ৭১ হাজার টাকা এবং তাঁর ওপর নির্ভরশীল ছেলের চাকরি থেকে ১৩ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। এ ছাড়া বাকি অর্থ আসে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, মেয়রের সম্মানী ও ছেলের ভবনভাড়া থেকে।

ঝন্টুর নিজ নামে নগদ আছে ১৬ লাখ ৪৩ হাজার ৭৫৭ টাকা, স্ত্রীর নামে ১৬ লাখ ২৭ হাজার ৩৮ টাকা, নির্ভরশীলদের নামে ৮৪ হাজার ৩৬৬ টাকা। তাঁর নামে ব্যাংকে আছে তিন লাখ ৪৪ হাজার, স্ত্রীর নামে চার লাখ ৫০ হাজার এবং নির্ভরশীলের নামে পাঁচ লাখ ২৩ হাজার টাকা। শেয়ার হিসেবে নিজ নামে ১৪ লাখ ১৯ হাজার টাকা এবং নির্ভরশীলের নামে পাঁচ লাখ টাকা। তাঁর পোস্টাল ও সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ আছে নিজ নামে দুই লাখ টাকা, নির্ভরশীলদের নামে ১৭ লাখ টাকা। নির্ভরশীলের নামে একটি প্রাইভেট কার, নিজ নামে দুই ভরি সোনা, স্ত্রীর নামে ছয় ভরি এবং নির্ভরশীলদের নামে ১৩ ভরি সোনা, নির্ভরশীলদের নামে দশমিক ৬০৫ একর কৃষিজমি ও তিন কাঠা অকৃষি জমি আছে। নির্মাণাধীন একটি বাণিজ্যিক ভবন এবং স্ত্রীর নামে তিনতলা একটি বাড়ি ছাড়াও আরো সামান্য অকৃষি জমি আছে তাঁর। আওয়ামী লীগের এই প্রার্থীর ঋণ আছে ৯ লাখ টাকা।

বাবলার সম্পত্তি : বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কাওছার জামান বাবলারও শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক। তাঁর বার্ষিক মোট আয় দেখানো হয়েছে ১৫ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। তিনি কৃষি খাত থেকে ৫০ হাজার, বাড়ি ও দোকানভাড়া থেকে দুই লাখ চার হাজার, ব্যবসা থেকে ১৩ লাখ টাকা আয় করেন। অন্যদিকে তাঁর কাছে নগদ টাকা আছে দুই লাখ, ব্যাংকে জমা আছে এক কোটি ৫০ লাখ টাকা। দুটি জিপ ও একটি কার আছে এই প্রার্থীর। আছে দুটি ফ্ল্যাট, একটি বাড়ি ও দুই ভরি সোনা। আর বাবলার নিজ নামে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকে ঋণ আছে আট কোটি এবং যৌথ নামে সোনালী ব্যাংকে ঋণ আছে ৪২ কোটি টাকা।

মোস্তফার সম্পত্তি : জাতীয় পার্টির মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার শিক্ষাগত যোগ্যতাও স্নাতক পাস। তাঁর বার্ষিক মোট আয় তিন লাখ ৬৪ হাজার টাকা। এর মধ্যে বাড়ি ও দোকান-বাড়িভাড়া থেকে ৭২ হাজার এবং ব্যবসা থেকে দুই লাখ ৯২ হাজার টাকা আয় আসে তাঁর। বর্তমানে নিজ নামে নগদ টাকা আছে সাত লাখ ৫০ হাজার, স্ত্রীর নামে আছে ২০ হাজার টাকা। ব্যাংকে জমা আছে নিজ নামে এক লাখ ৫০ হাজার, স্ত্রীর নামে এক লাখ ২০ হাজার টাকা। আছে একটি মোটরসাইকেলও। তাঁর নিজের নামে কোনো সোনা নেই, স্ত্রীর আছে ১০ ভরি। তাঁর নিজ নামে ১৬ শতক এবং স্ত্রীর নামে ছয় শতক জমি আছে। এ ছাড়া জনতা ব্যাংকে তাঁর নামে ১৫ লাখ টাকা ঋণ আছে।

মানিকের সম্পত্তি : স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক পৌর মেয়র এ কে এম আব্দুর রউফ মানিকও বিএ পাস। তিনি বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ১৪ লাখ ১১ হাজার ৬৯৮ টাকা। এর মধ্যে বাড়ি, ফ্ল্যাট ও দোকানভাড়া থেকে পান পাঁচ লাখ ৩৯ হাজার টাকা, ব্যবসা থেকে চার লাখ ৩১ হাজার টাকা, শেয়ার বন্ড থেকে এক লাখ ৫০ হাজার এবং স্ত্রীর শিক্ষকতা খাত থেকে দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা আয় তাঁর। তিনি হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, তাঁর কাছে নগদ আছে নিজ নামে এক লাখ এবং স্ত্রীর নামে ৫০ হাজার টাকা। ব্যাংকে জমা আছে নিজ নামে পাঁচ লাখ, স্ত্রীর নামে ৪০ লাখ ২৪ হাজার ৯৩৯ টাকা। তাঁর একটি প্রাইভেট কার আছে। এ ছাড়া নিজ নামে এক ভরি ও স্ত্রীর নামে চার ভরি সোনাও আছে তাঁর। তিনি হফলনামায় বলেছেন, তাঁর অকৃষি জমি আছে ৩২ শতক। কৃষিজমি নেই। চারতলা একটি এবং একটি টিনশেড বাড়ি আছে তাঁর। হলফনামায় তাঁর আট লাখ টাকা ঋণ আছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

আসিফের সম্পত্তি : স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিলকারী জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ভাতিজা হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ এইচএসসি পাস। তিনি বার্ষিক আয় করেন সাত লাখ ৩৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে বাড়িভাড়া থেকে ৩৫ হাজার, ব্যবসা থেকে সাত লাখ টাকা। বর্তমানে তাঁর কাছে নগদ আছে পাঁচ লাখ ৬৬ হাজার টাকা এবং ব্যাংকে জমা আছে ২৪ হাজার টাকা। তাঁর একটি ৩৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকা মূল্যের জিপগাড়ি এবং স্ত্রীর নামে সোনা আছে ২০ ভরি। তাঁর নামে কিছু অকৃষি জমি এবং একটি সেমিপাকা বাড়ি আছে বলেও হলফনামায় উল্লেখ করেছেন তিনি। তাঁর ব্যক্তিগত ঋণ আছে ১০ লাখ টাকা।


মন্তব্য