kalerkantho


রাজবাড়ীতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র খুন

ফের তদন্তের নির্দেশ

রাজবাড়ী প্রতিনিধি   

২৪ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



রাজবাড়ীতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মাহমুদুল হাসান খুনের ঘটনা পুনঃ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন জেলা ও দায়রা জজ আদালত। গত বুধবার বিকেলে ওই আদালত একই সঙ্গে চাঞ্চল্যকর এ মামলার নথি আমলি আদালতে পাঠিয়েছেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের জুলাইয়ে রাজবাড়ী সদরের শহীদ ওহাবপুর ইউনিয়নের গোয়ালন্দ মোড় নিজাম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশের ধানক্ষেত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের লাশ উদ্ধার করে খানখানাপুর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ। পরে লাশটি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র মাহমুদুল হাসানের বলে শনাক্ত হয়। মাহমুদুল হাসানের বাড়ি নীলফামারীর ডিমলা থানার সুন্দরখাতা গ্রামে। এ ঘটনায় রাজবাড়ী থানায় মামলা করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা খানখানাপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই রঞ্জন কুমার বিশ্বাস পারভীন আক্তার ওরফে আফিয়া ওরফে গুইদা ও তাঁর স্বামী মো. শরীফ ভূঁইয়া ওরফে পিনুকে গ্রেপ্তার করে। ওই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর পারভীন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

ওই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে পারভীন বলেন, ‘আমার ভাই নাজিম উদ্দিনকে নিয়ে ঢাকায় গিয়ে মাহমুদুল হাসানকে হত্যার জন্য হাবিব, রিপন ও বাবুলের উপস্থিতিতে ৫০ হাজার টাকা দিই। পরে আমার ভাই নাজিম উদ্দিন, আক্কাস, মাসুদ, চান্দুদের সঙ্গে কথা বলে রাজবাড়ীতে এনে হত্যার সিদ্ধান্ত হয়। আমি ও নাজিম ঢাকায় থাকি।

১৯ জুলাই হাবিব, বাবুল ও রিপন ঘুমের ওষুধ খাইয়ে মাহমুদুলকে অচেতন করে গাবতলীতে নিয়ে আসে। আমি ও আমার ভাই গাবতলীতে আসি। আমার ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে রাতে মাসুদ, জিয়া, চান্দু ও আক্কাস গোয়ালন্দ মোড়ের পেছনে মধুপুর মাঠের ব্রিজের কাছে অবস্থান নেয়। রাতে সবাই মিলে মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করে। ’

চাঞ্চল্যকর এ মামলার দ্বিতীয় পর্যায়ে তদন্তভার নেন রাজবাড়ী থানার এসআই মো. সোলাইমান কাজী। তিনি গত বছরের ২৪ আগস্ট আদালতে পারভীন, শরীফ, চান্দু শেখ, আক্কাসসহ চারজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। কিন্তু অভিযোগপত্রে নাম-ঠিকানা না পাওয়ার অজুহাত দেখিয়ে হাবিব, বাবুল, রিপন, মাসুদ, জিয়া ও নাজিমের নাম চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়া হয়। বিষয়টি নজরে আনা হলে আদালত ঘটনাটি সিআইডিকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন।

রাজবাড়ীর পাবলিক প্রসিকিউটর উজির আলী শেখ বলেন, অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে সত্য ঘটনার উন্মোচন হওয়ার পাশাপাশি ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।


মন্তব্য