kalerkantho


নলছিটির হাড়িখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী

জালিয়াত জামাল!

ঝালকাঠি প্রতিনিধি   

২২ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



জালিয়াত জামাল!

জাতীয় পরিচয়পত্রটি নিয়েও জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার হাড়িখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরী নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। জালিয়াতির মাধ্যমে সনদ তৈরি করে নিয়োগ পাওয়া মো. জামাল হোসেনের বেতন-ভাতা স্থগিত করেছে শিক্ষা অফিস।

শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে জন্ম নিবন্ধন, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সনদপত্রসহ নিয়োগ শর্তাবলির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দপ্তরি-কাম-নৈশপ্রহরী পদে চাকরি নেন হাড়িখালী গ্রামের জামাল। তিনি ওই গ্রামের মরহুম আবদুল জব্বার হাওলাদারের ছেলে। বিষয়টি জানাজানি হলে ঝালকাঠির আদালতে গত ২২ মে একটি মামলা করেন এই পদের আরেক প্রার্থী চান মিয়া।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, চাকরির জন্য চারজন প্রার্থীর মধ্যে অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগপ্রাপ্ত জামাল মাটিভাঙ্গা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে উন্নীত হওয়ার একটি সনদপত্র দাখিল করেন। আদৌ কোনো দিন তিনি ওই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেননি। অন্যদিকে একই ব্যক্তি খুলনার আলাইপুর ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ বলে আরো একটি সনদপত্র দাখিল করেন। সম্প্রতি শিক্ষা অফিসের যোগসাজশে নিয়োগকালীন জমা কাগজপত্র সরিয়ে হালনাগাদ সংশোধিত কাগজপত্র নিয়োগ ফাইলে রাখা হয়েছে।

এ বিষয় উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. শাহীন হোসেন জানান, জামাল জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের জন্য তিন দফায় আবেদন করেন। তাঁর কাগজপত্রে ত্রুটি থাকায় দুইবার আবেদনপত্র বাতিল হয়ে যায়। পর পর দুইবার আবেদন বাতিল হওয়ার পর তিনি বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরী পদে নিয়োগপত্রের চুক্তিপত্র, নতুন একটি জন্ম নিবন্ধন এবং ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে নোটারি করা কাগজপত্র দিয়ে তৃতীয় দফায় গত ৫ জুন নির্বাচন কমিশনে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের জন্য দাখিল করেন। ওই কাগজপত্রের অনুকূলে তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করা হয়।

স্থানীয় লোকজন জানায়, জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদনে জামাল কুলকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এইচ এম আখতারুজ্জামান বাচ্চুর প্রত্যয়নপত্র ও জন্ম নিবন্ধন জাল তৈরি করে জমা দেন। জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য বিবরণীতে দেখা যায়, জামাল পঞ্চম শ্রেণি পাস। চলতি বছরের ৫ জুন তিনি জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করার আবেদন করেন। অথচ তিনি নৈশপ্রহরী পদে নিয়োগ পেয়েছেন ১৬ মে। শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে কৌশলে সংশোধিত জাতীয় পরিচয়পত্র তিনি তাঁর আবেদনের কাগজপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করেন।

নিয়োগের শর্তাবলিতে প্রার্থীর বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে এবং অষ্টম শ্রেণি পাস হতে হবে। কুলকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের জন্ম নিবন্ধন রেজিস্টারে দেখা যায়, জামালের জন্ম তারিখ ১৯৮১ সালের ১৪ অক্টোবর। সেখানে চেয়ারম্যানের সই জাল করে দেখানো হয়েছে ১৯৮৫ সালের ১০ মার্চ।

কুলকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এইচ এম আখতারুজ্জামান বাচ্চু বলেন, ‘আমার সই জাল করে জন্ম নিবন্ধন তৈরি করেছেন জামাল। জাল জন্ম নিবন্ধন উপজেলা শিক্ষা অফিস এবং উপজেলা নির্বাচন অফিসে দিয়েছেন। নির্বাচন অফিসে দিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রে বয়স সংশোধন করেন। ’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জানান, উপজেলা শিক্ষা অফিসের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জালজালিয়াতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে তাঁরা কাগজপত্র ওলটপালট করেছেন।

অভিযুক্ত জামাল হোসেন বলেন, ‘আমি সঠিক উপায়ে বৈধ কাগজপত্র দিয়ে চাকরি নিয়েছি। আমার প্রতিদ্বন্দ্বীরা মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে মামলা করেছে। ’

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘নৈশপ্রহরীর বেতন-ভাতা বন্ধ করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন আরেক চাকরিপ্রার্থী। ওই মামলা চূড়ান্ত হওয়ার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ’

নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, ‘দপ্তরি-কাম-নৈশপ্রহরী পদে নিয়োগের বিষয়ে একটি মামলা হয়েছে। এখানে আদালত যে রায় দেবেন সে অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’


মন্তব্য