kalerkantho


আ. লীগকর্মীর ওপর কোন্দলের কোপ

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি   

২২ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি ইউনিয়নের খানবাড়ি এলাকায় গত সোমবার রাতে বিপ্লব দাস নামের একজনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। দলীয় কোন্দলের জের ধরে এ হামলার হুকুমদাতা হিসেবে বালিয়াটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।

বিপ্লবের অভিযোগ, তিনি বালিয়াটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর সোহেল চৌধুরীর পক্ষ নেওয়ায় এ হামলা চালানো হয়। তবে বালিয়াটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

বালিয়াটি গ্রামের বিপ্লব দাস সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। তাঁর দুই হাত, দুই পাসহ সারা শরীরে ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, বিপ্লবের অবস্থা গুরুতর। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে বিপ্লব সাংবাদিকদের বলেন, সোমবার রাত ৮টার দিকে তিনি বাড়ি থেকে খানবাড়ি এলাকায় রাস্তায় হাঁটতে বের হলে রুহুল আমিনের ভাতিজা শিমুল, জাকির হোসেন, বডিগার্ড আবদুর রহমান, ফারুক হোসেনসহ ৯ জন তাঁর ওপর হামলা চালায়। তারা চাপাতি দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রাস্তায় ফেলে দেয়। পরে রড দিয়ে পেটায়।

বিপ্লব দাস নিজেকে আওয়ামী লীগের কর্মী পরিচয় দিয়ে বলেন, রুহুল আমিন একজন মন্ত্রীর আশীর্বাদে সম্পত্তি দখল, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত।

রুহুলকে সাম্প্রদায়িক আখ্যায়িত করে বিপ্লব দাস বলেন, রুহুল হিন্দুদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন। এর প্রতিবাদ করায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর সোহেল চৌধুরীর সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্ব চলছে। বিপ্লবসহ অনেক নেতাকর্মী সোহেল চৌধুরীর পক্ষে আছেন। এরই জেরে ভাতিজা, বডিগার্ড ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দিয়ে বিপ্লবকে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন রুহুল আমিন। তিনি আরো বলেন, বালিয়াটি বাজারে বিপ্লবের দোকান রয়েছে। ওই দোকান ছেড়ে দেওয়ার জন্য তাঁকে হুমকি দিয়ে আসছে চেয়ারম্যান রুহুলের লোকজন।

বালিয়াটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর সোহেল চৌধুরী জানান, বিএনপি থেকে মো. রহুল আমিন আওয়ামী লীগে আসেন। এরপর নৌকা প্রতীক নিয়ে ইউপি নির্বাচন করেন। চেয়ারম্যান হওয়ার পর নানা অপকর্ম করায় তাঁর কাছ থেকে সব নেতাকর্মী সরে গেছে। সোহেল চৌধুরীর পক্ষে থাকায় বিপ্লবের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।

সাটুরিয়া উপজেলা পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি প্রভাষক সমরেন্দু সাহা লাহোর বলেন, বিপ্লব দাসের ওপর হামলায় বালিয়াটির হিন্দুরা নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। এ হামলার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি।

অভিযুক্ত মো. রহুল আমিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘হামলাকারীরা আমার লোক নয়। তাদের আমি চিনিও না। ’ তিনি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

সাটুরিয়া থানার উপপরিদর্শক মো. মনোয়ার হোসেন অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘ওসি সাহেব স্টেশনে নেই। তিনি এলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’


মন্তব্য