kalerkantho


দিনাজপুরে হাবিপ্রবির প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের সংবাদ সম্মেলন

ভর্তি পরীক্ষা বাতিল ও কমিটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

দিনাজপুর প্রতিনিধি   

১৯ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশের আট দিন পর ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ ভর্তিপ্রক্রিয়াটি অবিলম্বে বাতিল কিংবা সংশোধনের দাবি উঠেছে। এ ছাড়া পরীক্ষায় ‘অনিয়মতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের জন্য’ ভর্তি পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবসহ সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

গতকাল শনিবার সকালে দিনাজপুর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসব দাবি জানায় প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরাম।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. বলরাম রায় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। বক্তব্যে বলা হয়, এবারের ভর্তি পরীক্ষায় রেনডমাইজেশন পদ্ধতিতে আসনবিন্যাস না করে জেলাভিত্তিক করা হয়েছে। এটি এক ধরনের দুর্নীতি। প্রশ্নপত্র প্রণয়নেও এরূপ দুর্নীতি করা হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে ভর্তি পরীক্ষার ফলে। অনিয়ম করে নিজেদের পছন্দমতো শিক্ষার্থীদের উত্তীর্ণ করা হয়েছে। এতে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পায়নি। ওএমআর শিটে যথেষ্ট গরমিল ছিল। এ নিয়ে পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষার্থীরা অভিযোগ করলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি।

তিনি অভিযোগে বলেন, প্রায় সব ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়ম দেখা গেছে। যেমন এফ ইউনিটে প্রায় সমানসংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে দুটি শিফটে পরীক্ষা হয়েছে। কিন্তু ফলাফলে দেখা যায়, প্রথম শিফটে এফ-১ থেকে ৪৭ জন (১৫ শতাংশ) এবং দ্বিতীয় শিফটে এফ-২ থেকে ২৬৩ জন (৮৫ শতাংশ) পরীক্ষার্থী চান্স পেয়েছে। এ-১ থেকে ১৬৫ জন (২৭ শতাংশ); এ-২ থেকে ৩৩১ জন (৫৪ শতাংশ); এ-৩ থেকে ১১৪ জন (১৯ শতাংশ); বি-১ থেকে ১৬২ জন (৭৭ শতাংশ); বি-২ থেকে ২১ জন (১০ শতাংশ); বি-৩ থেকে ২৭ জন (১৩ শতাংশ); ডি-১ থেকে ১৪০ জন (৬৪ শতাংশ) এবং ডি-২ থেকে ৮০ জন (৩৬ শতাংশ) পরীক্ষার্থী চান্স পেয়েছে। এটি গ্রহণযোগ্য নয়।

ড. বলরাম বক্তব্যে বলেন, সিট প্ল্যান করে বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে। প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরাম পরীক্ষা চলাকালে ৭ নভেম্বর পরীক্ষা বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। রেজাল্টশিটে চারটি অনুষদের ডিন, ছাত্র পরামর্শক ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক এবং উপাচার্য মনোনীত একজন সদস্যের স্বাক্ষর ছাড়াই ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এটি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে কলঙ্কজনক অধ্যায়। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্যসচিব ড. খালিদ হোসেন ভর্তি পরীক্ষার সব ধরনের গোপনীয় কাজে জড়িত ছিলেন। এ ধরনের সংবেদনশীল কাজে জড়িত থাকার পরও তিনি ‘প্লাসমিড প্লাস’ নামে একটি ভর্তি গাইড উদ্বোধন করে ভর্তিপ্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেও ড. খালিদ হোসেনকে পাওয়া যায়নি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের সহসভাপতি অধ্যাপক ড. আনিস খান, সহসভাপতি ড. সাইফুর রহমান, সহসভাপতি অধ্যাপক ড. এ টি এম শফিকুল ইসলাম, সহসাধারণ সম্পাদক ডা. এস এ এম হারুন-উর-রশিদ, সহসাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. নাজিম উদ্দিন, সহসাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. মামুনুর রশিদ ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ড. মো. ফেরদৌস মেহেবুব।

উল্লেখ্য, হাবিপ্রবির ২০১৮ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা গত ৫ থেকে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৯৫ আসনের বিপরীতে এক লাখ এক হাজার ৬২৩ জন শিক্ষার্থী বিভিন্ন ইউনিটে ভর্তির জন্য আবেদন করে। ১১ নভেম্বর ভর্তি কমিটির ছয়জন সদস্যের স্বাক্ষর ছাড়াই ফল প্রকাশিত হয়।

যেসব সদস্য স্বাক্ষর করেননি তাঁরা হলেন ছাত্র পরামর্শক ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. হারুনুর রশিদ, ফিশারিজ অনুষদের ডিন ড. মোহাম্মদ ফেরদৌস মেহেবুব, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. সাইফুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন ও সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মো. রুহুল আমিন ও সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ টি এম শফিকুল ইসলাম।


মন্তব্য