kalerkantho


নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

গুরুত্বপূর্ণ তিনটি বিভাগই অচল

আলম ফরাজী, ময়মনসিংহ   

১৯ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুটি এক্স-রে মেশিনের মধ্যে একটিও সচল নেই। অন্যদিকে দেড় বছরের বেশি সময় ধরে দন্ত্য ও সাধারণ শল্য বিভাগে চিকিৎসকের পদ শূন্য পড়ে রয়েছে।

ফলে ৫০ শয্যার সরকারি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছে না রোগীরা।

এক্স-রে বিভাগে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেখানে দুটি এক্স-রে মেশিন রয়েছে। একটি পুরনো অ্যানালগ পদ্ধতির, অন্যটি ডিজিটাল। তবে দুটি মেশিনের একটিও সচল নেই। মেডিক্যাল টেকনিশিয়ান (রেডিওলজি) মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ডিজিটাল মেশিনটি স্ট্যাবিলাইজার ইনস্টল করতে না পারায় অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। নথিপত্র দেখিয়ে তিনি বলেন, নতুন মেশিনটি ২০১৫ সালের ১৪ জুন স্থাপন করা হয়।

মেশিনটি সরবরাহ করেছে ন্যাশনাল ইলেকট্রো মেডিক্যাল ওয়ার্কশপ (নিমো) নামের একটি প্রতিষ্ঠান। সংস্থার প্রকৌশলীরা এসে মেশিনটি চালু করে তাঁকে বুঝিয়ে দিয়ে গেলেও স্ট্যাবিলাইজার ছাড়া এটি চালাতে বারণ করা হয়। পরে এক বছর ধরে চিঠি চালাচালি করে স্বাস্থ্য বিভাগীয় প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে একটি স্ট্যাবিলাইজার আনা হয়।

কিন্তু সেখান থেকে কারিগরি জ্ঞানসম্মত প্রকৌশলী না পাঠানোয় স্ট্যাবিলাইজারটি এ পর্যন্ত ইনস্টলই করা যায়নি। ফলে অব্যবহৃত অবস্থায় থাকতে থাকতে মেশিনটির ওয়ারেন্টি পিরিয়ড চলে গেছে।

অন্যদিকে অ্যানালগ পদ্ধতির এক্স-রে মেশিনটি অচল হয় গত বছরের জুনে। মেরামতের জন্য স্বাস্থ্য বিভাগীয় প্রকৌশল অধিদপ্তরে একাধিক চিঠি পাঠানো হয়। গত ৯ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট বিভাগে সর্বশেষ চিঠি পাঠানো হয়েছে মেশিন দুটি সচল করে দেওয়ার জন্য। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য দরিদ্র রোগী হাসপাতালের এক্স-রে বিভাগ থেকে সেবা না পেয়ে চড়া মূল্য দিয়ে বেসরকারি ল্যাব থেকে এক্স-রে করায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালে কর্মরত দুই ব্যক্তি বলেন, এটি স্বাস্থ্য বিভাগের চরম গাফিলতির একটি নজির।

এ বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অনুপম ভট্টাচার্য বলেন, অচল এক্স-রে বিভাগ সচল করার জন্য ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হচ্ছে না।

অন্যদিকে কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগের দন্ত্য বিভাগটি বেশ গোছানো। তবে চিকিৎসক নেই। এর বদলে রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন চিকিৎসকের যান্ত্রিক সহকারী (টেকনিশিয়ান) মোছা. সুফিয়া খাতুন। রোগীদের ভাষায় যিনি দাঁতের ডাক্তার। হাসপাতালের দাপ্তরিক সূত্রে জানা যায়, এ বিভাগের চিকিৎসক গত বছরের ১৮ এপ্রিল বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ নিতে ছুটিতে যান। প্রশিক্ষণ শেষে গত ৯ মার্চ তিনি অন্যত্র যোগ দেন বলে ছাড়পত্রে উল্লেখ রয়েছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দোতলার আধুনিক মানের অপারেশন থিয়েটার (ওটি)। কিন্তু শল্য চিকিৎসকের (সহকারী সার্জন) পদটি দেড় বছরের বেশি সময় ধরে শূন্য পড়ে আছে। এ কারণে সাধারণ শল্য চিকিৎসা (জেনারেল সার্জারি) বন্ধ রয়েছে। তবে ওই অপারেশন থিয়েটারে মাঝেমধ্যে প্রসূতিদের সিজারিয়ান অপারেশন হওয়ার তথ্য দিয়েছেন কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যানবিদ মোছা. সালমা আক্তার।

তবে অন্য একটি সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রসূতিদের ক্ষেত্রে জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়লে কৌশলে তাকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

এ ছাড়া ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য চিকিৎসকের ২১টি পদ থাকলেও রয়েছেন মাত্র আটজন। শূন্য পদগুলোর মধ্যে রয়েছে জুনিয়র কনসালট্যান্ট মেডিসিন, চক্ষু, কার্ডিওলজি, অর্থোসার্জারি, ইএনটি, সার্জারি, চর্ম ও যৌন, আইএমও, প্যাথলজি, ডেন্টাল, সহকারী সার্জন ও জুনিয়র কনসালট্যান্ট অবেদনবিদ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অনুপম ভট্টাচার্য্য বলেন, তিনি এখানে যোগদানের পর থেকে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন। শূন্যপদে চিকিৎসক চেয়ে চিঠি দিয়েছেন। বন্ধ থাকা জরুরি প্রসূতিসেবা কার্যক্রম (ইওসি) চালু করেছেন। তবে সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করলে প্রত্যাশা অনুযায়ী সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।


মন্তব্য