kalerkantho


কলাপাড়ায় শ্বশুর-শাশুড়ির নির্যাতনে বাড়িছাড়া গৃহবধূ হাসপাতালে

মারধর-নির্যাতনে একটি দিনও স্বস্তি জোটেনি তাঁর

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি   

১৯ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



শ্বশুর-শাশুড়ির নির্যাতনের শিকার হয়ে গৃহহারা এক সন্তানের জননী মুন্নী বেগমের ঠাঁই হয়েছে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। গতকাল শনিবার দুপুরে তাঁকে অচেতন অবস্থায় সেখানে ভর্তি করা হয়।

নির্যাতিত স্ত্রীর পাশে না দাঁড়িয়ে গাঢাকা দিয়েছেন স্বামী।

নির্যাতিত মুন্নী বেগম (২৫) সাতক্ষীরার দেউড়ি গ্রামের ইফতার আলীর মেয়ে ও কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের ফরিদগঞ্জ গ্রামের মাদরাসা শিক্ষক শাহজাহান মাওলানার ছেলে ইলিয়াসের (৩০) স্ত্রী।

মুন্নী বেগম অভিযোগ করে জানান, পাঁচ বছর আগে তাঁর সঙ্গে মোবাইল ফোনে পরিচয় হয় ইলিয়াসের। এ সূত্রে তাঁরা বিয়ে করেন। কিন্তু ইলিয়াসের মা-বাবা এ বিয়ে মেনে নেননি। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে তিন বছর বাবার বাড়িতে কাটান মুন্নী। এরপরে স্বামীর সঙ্গে ঢাকায় থাকতেন। তিন মাস আগে স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে ওঠেন। কিন্তু শ্বশুর-শাশুড়ির মারধর-নির্যাতনে একটি দিনও স্বস্তি জোটেনি তাঁর।

সবশেষ গত বুধবার তাঁকে শ্বশুর-শাশুড়ি মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। আর ইলিয়াসকে বলে দেন, ‘মুন্নীকে ত্যাগ করতে পারলে বাড়িতে ইলিয়াস থাকতে পারবে। ’ এরপর ইলিয়াস চার বছরের সন্তানসহ মুন্নীকে ফেলে গাঢাকা দেন। পরে মুন্নী বরগুনায় গিয়ে খুঁজে বের করলেও ইলিয়াস ফের লাপাত্তা হন। মুন্নী জীবিকার প্রয়োজনে কলাপাড়া পৌরশহরের পর্যটন সড়কের ঠিকাদার কালাম মৃধার বাড়িতে ঝিয়ের কাজ নেন। ওই বাড়ির চারতলায় অবস্থানকালে গতকাল সকালে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। তাঁকে দ্রুত কলাপাড়া হাসপাতালে নেওয়া হয়।

হাসপাতালের চিকিৎসক মো. রেফায়েত হোসেন জানান, মুন্নীর হিস্টিরিয়া থাকতে পারে বলে তাঁদের ধারণা। তবে মুন্নীর মুখমণ্ডলে মারধরের চিহ্ন রয়েছে।

এ ব্যাপারে মুন্নীর শ্বশুর মাওলানা শাহজাহানকে কয়েক দফা মোবাইলে ফোন করলেও তিনি ধরেননি।

কলাপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুজ্জামান জানান, তিনি হাসপাতালে গিয়ে গৃহবধূ মুন্নী বেগমকে দেখে এসেছেন। মামলা করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অসহায় মুন্নীর এখন প্রয়োজন নিরাপদ আশ্রয় এবং আইনি ও চিকিৎসা সহায়তা।


মন্তব্য