kalerkantho


লৌহজংয়ে জেলেদের হামলায় আহত দুই মৎস্য কর্মকর্তা

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৯ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে পদ্মা নদীতে মা ইলিশ নিধনবিরোধী অভিযানকালে জেলেদের আক্রমণে দুই মৎস্য কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার ভোরে টেউটিয়ার পাইকারা চর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় ১২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। আহতরা হলেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কমকর্তা কামরুল হাসান ও উপজেলা মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রাসেল মোল্লা। তাঁরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় দুই শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন আহত কর্মকর্তা কামরুল।

একাধিক সূত্রে জানা যায়, গতকাল ভোরে লৌহজং থানা পুলিশ, নৌ পুলিশ ও কোস্ট গার্ডের সহযোগিতায় ট্রলার ও সিবোট নিয়ে পদ্মায় অভিযান চালান উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কমকর্তা কামরুল। এ সময় টেউটিয়ার পাইকারা চর এলাকায় মানুষের ভিড় ও ইলিশ ধরার নৌকা দেখে তারা এগিয়ে যান। সেখানে গিয়ে তাঁরা দেখতে পান, মা ইলিশ কেনাবেচা চলছে। হঠাৎ মা ইলিশ শিকারের সঙ্গে জড়িত জেলেসহ কয়েক শ এলাকাবাসীসহ চারদিক থেকে তাঁদের ঘিরে ফেলে। পরে তাঁদের দিকে ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করে।

এতে কামরুলসহ রাসেল আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে থানা ও নৌ পুলিশ ১২ রাউন্ড শর্টগানের ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এ পরিস্থিতিতেও আক্রমণকারীরা তাঁদের ধাওয়া দেয়। অবস্থা বেগতিক দেখে তাঁরা পিছু হটেন। আক্রমণের ঘটনাটিকে ‘অনেকটা পরিকল্পিত’ বলে দাবি করেছেন কোস্ট গার্ডের মাওয়া অফিসের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার মো. লুৎফর রহমান। লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) রাজীব খান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে খবর পেয়ে শ্রীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ আরিফ আজাদ, ডেপুটি ডিরেক্টর ড. কাজী ইকবাল আজম, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. অলিউর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা লৌহজংয়ে ছুটে আসেন। তাঁরা আহত মৎস্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে খোঁজখবর নেন।


মন্তব্য