kalerkantho


মেলান্দহে ধর্ষণে শিশুর জন্ম

মামলা নেয়নি পুলিশ গ্রাম ছাড়ার হুমকি

জামালপুর প্রতিনিধি   

১৯ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



জামালপুরের মেলান্দহে ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা এক কিশোরী (১৫) ছেলেসন্তানের জন্ম দিয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিবার, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান, সদস্য (মেম্বার) ও মাতবরদের কাছে বিচার চেয়েও পায়নি কিশোরী।

উল্টো এখন তাদের গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে মেলান্দহ থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও ১৩ দিনেও তা আমলে নেয়নি পুলিশ। স্থানীয় প্রভাবশালীরা নবজাতকের পিতৃপরিচয় ধামাচাপা দেওয়ারও চেষ্টা করছে।

অভিযোগে জানা গেছে, মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের দিনমজুরের মেয়ে ওই কিশোরীকে গত বছর ৯ ডিসেম্বর নিজ বাড়িতে ধর্ষণ করেন পাছপয়লা গ্রামের বাসিন্দা দুই সন্তানের বাবা হারুন অর রশিদ। এ ঘটনায় হারুনের পরিবার ও গ্রামের মাতবরদের কাছে বিচার দাবি করেন কিশোরীর বাবা। কিন্তু হারুনের পরিবার অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ এর বিচার করেনি। পরে হারুন বিয়ের প্রলোভন দিয়ে মেয়েটিকে আরো ধর্ষণ করেন। একপর্যায়ে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর সে তার বাবার বাড়িতে একটি ছেলেসন্তান জন্ম দেয়।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত হারুনের বিচার দাবি ও নবজাতকের পিতৃপরিচয়ের জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ইউপি সদস্য মনোয়ার হোসেনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে যান মেয়েটির বাবা। কিন্তু ইউপি সদস্য মনোয়ারসহ মাতবররা মেয়েটিকে তার শিশুসন্তানকে নিয়ে গ্রাম ছেড়ে যাওয়ার জন্য হুমকি দেন। নিরুপায় হয়ে মেয়েটির বাবা গত ৬ অক্টোবর মেলান্দহ থানায় গিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। কিন্তু পুলিশ এখনো অভিযোগটি আমলে নেয়নি। এ জন্য মেয়েটি তার সন্তানকে নিয়ে সুবিচারের দাবিতে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। এদিকে হারুনের পরিবারের সদস্যরা মেয়েটি ও তার পরিবারকে অভিযোগ তুলে নিতে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আবুল খান বলেন, ‘বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করার আশ্বাস দিয়ে মাহমুদপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও ইউপি সদস্য মনোয়ার হোসেন একে একে ২০টি দিন সময় ক্ষেপণ করেছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য হওয়ায় কেউ বিচার করেনি এবং পুলিশও মেয়েটির মামলা নেয়নি। ’

মাহমুদপুর ইউপির সদস্য মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করার জন্য কয়েক দফা চেষ্টা করেছি। কিন্তু অভিযুক্তের প্রভাবশালী পরিবারের সদস্যদের হুমকি-ধমকির কারণে মীমাংসা করা সম্ভব হয়নি। ’

ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জানান, ধর্ষণের বিষয়টি রহস্যজনক। প্রকৃত অপরাধী কে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবু বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা চলছে।

মেলান্দহ থানার ওসি মাজহারুল করিম বলেন, ‘এ ব্যাপারে থানায় কেউ কোনো অভিযোগ করেছে কি না জানা নেই। তবে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে শুনেছি। কেউ অভিযোগ করলে প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পেলে মামলা নেওয়া হবে। ’

 


মন্তব্য