kalerkantho


বুড়িগঙ্গায় কলেজছাত্রের লাশ

সাভারে শিক্ষার্থী খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার (ঢাকা) ও কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি   

১০ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



কেরানীগঞ্জের চরমীরেরবাগে বুড়িগঙ্গা নদী থেকে কলেজছাত্র মো. আলাউদ্দিনের (১৭) লাশ উদ্ধার করেছে হাসনাবাদ নৌ পুলিশ ফাঁড়ি। গতকাল সোমবার দুপুরে লাশ উদ্ধার উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

আলাউদ্দিন কেরানীগঞ্জের আমিনপাড়া মুহুরিপট্টির মো. আবুল কাশেমের ছেলে ও রাজধানীর ওয়ারী সলিমুল্লাহ ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিল। হাসনাবাদ নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. রবিউল হক জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে বুড়িগঙ্গা নদীর চরমীরেরবাগ খেয়াঘাট এলাকা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে স্বজনরা এসে লাশ শনাক্ত করে। কিশোরের বাঁ হাতের হাড় ভাঙা এবং কনুইয়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

আলাউদ্দিনের বাবা মো. আবুল কাশেম জানান, তিনি পেশায় খেলনা ব্যবসায়ী। আমিনপাড়া মুহুরিপট্টির আলামিনের বাড়িতে সপরিবারে ভাড়া থাকেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ থানার তেঁতুলিয়া এলাকায়। কাশেম বলেন, ‘আলাউদ্দিন কলেজে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রবিবার সকাল ৭টার দিকে বাসা থেকে বের হয়। দুপুরে পরিবারের লোকজন তার মোবাইল ফোনে কল দিলে সেটি বন্ধ পায়।

পরে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাইনি। সোমবার সকালে আমি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি নিখোঁজ জিডি করি। গতকাল দুপুরে জানতে পারি, চরমীরেরবাগ খেয়াঘাট এলাকা থেকে পুলিশ একটি লাশ উদ্ধার করেছে। আমরা সেখানে গিয়ে আলাউদ্দিনের লাশ শনাক্ত করি। ’

আবুল কাশেম বলেন, ‘আমার পাঁচ ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে আলাউদ্দিন সবার ছোট। মেলায় মেলায় আমি খেলনা বিক্রি করে থাকি। অন্য ছেলেমেয়েদের তেমন একটা পড়ালেখা করাতে পারিনি। আলাউদ্দিনের ব্রেন ভালো। সবার ইচ্ছা ছিল, আলাউদ্দিন পড়ালেখা করবে, সরকারি বড় চাকরি করবে। আমাদের আশা শেষ হয়ে গেল। ’ এরপর কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

এদিকে সাভারের বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) সামনে কলেজশিক্ষার্থী কামরুজ্জামান হাসান হত্যা ঘটনার প্রায় দেড় মাস পর তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে সাভার মডেল থানার পুলিশ। গতকাল সোমবার গ্রেপ্তারকৃতরা নিহতের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং সাভার বিপিএটিসি কলেজের শিক্ষার্থী।

গ্রেপ্তার তিনজন হলো আশুলিয়ার ইকরাত হোসেন, ধামরাইয়ের সায়েম হাসান ও সিরাজগঞ্জের নাইমুল ইসলাম দুর্জয়। তারা সাভারের বিপিএটিসি স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থী। তাদের বয়স ১৬ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে। কামরুজ্জামান হাসান আশুলিয়ার দক্ষিণ বাইপাইল এলাকার হারুন-উর রশিদের ছেলে এবং রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বাণিজ্য শাখার প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। হারুন-উর রশিদ বলেন, কামরুজ্জামানের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরে ৫ অক্টোবর তিনি চারজনের নামসহ অজ্ঞাতপরিচয় পাঁচ-ছয়জনকে আসামি করে সাভার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার এসআই ফরিদ আহমেদ জানান, পূর্বশত্রুতার জেরে হাসানের বন্ধুরা তাকে ২১ আগস্ট বিপিএটিসির সামনে ডেকে এনে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাতে তার মৃত্যু হয়।


মন্তব্য