kalerkantho


ঘাটাইলে দুবাইপ্রবাসীর স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা

মানিকগঞ্জে পুকুরে শিশুর লাশ, মা আটক

প্রিয় দেশ ডেস্ক   

১০ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় শিশুর লাশ উদ্ধার ও শিশুটির মাকে আটক করেছে পুলিশ।

চট্টগ্রামের রাউজানে এক যুবক ‘আত্মহত্যা’ করেছেন।

টাঙ্গাইল : ঘাটাইল উপজেলার দিগড় ইউনিয়নের তেঘুরি মাইধার চালা গ্রামে রবিবার খুন হওয়া নারীর নাম নুরুন নাহার (৪০)। তিনি ওই গ্রামের দুবাইপ্রবাসী আব্দুল গফুরের স্ত্রী। ঘটনায় জড়িত অভিযোগে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ব্যাপারে নিহতের ভাই আলহাজ আলী সোমবার পাঁচজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন।

ঘাটাইল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোশারফ হোসেন ও এলাকাবাসী জানায়, গফুর-নাহারের দুই ছেলে রয়েছে। বড় ছেলে প্রবাসী। নাহার ছোট ছেলে ও শ্বশুর-শাশুড়ি নিয়ে নিজ বাড়িতে থাকতেন। একই গ্রামের বাবর আলীর সঙ্গে নাহারের সম্পর্ক ছিল।

এ নিয়ে এলাকায় সালিসও হয়েছে। রবিবার ভোরে বাবর নাহারের বাড়িতে গিয়ে জোর করে নাহারের মোবাইল ফোন ও ২০ হাজার টাকা নিয়ে বেরিয়ে যান। নাহার বাড়ির কাউকে না জানিয়ে ফোন ও টাকা ফেরত আনতে সকাল ৯টার দিকে বাবরের বাড়িতে যান। তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। নাহারের পরিবার খোঁজাখুঁজি করে সন্ধ্যায় জানতে পারে, তিনি বাবরের বাড়িতে গিয়েছিলেন। তাঁরা বিষয়টি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য নূরু মিয়াকে জানালে তিনি পুলিশকে জানান। পুলিশ রাত ১১টার দিকে বাবরের একটি তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে নাহারের লাশ উদ্ধার করে। লাশটি লাকড়ি, চট ও প্লাস্টিকের বস্তা দিয়ে ঢাকা ছিল। গতকাল সকালে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ঘটনায় জড়িত অভিযোগে বাবরের স্ত্রী নাজমা বেগম (৩৫) ও তাঁর ভাই সেকান্দর আলীকে (৪৫) আটক করেছে পুলিশ। পরিদর্শক মোশারফ বলেন, নিহতের মাথা ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বাবরের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে তিনি খুন হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

মানিকগঞ্জ : ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী গ্রামের একটি পুকুর থেকে গতকাল আট মাসের শিশু তাহা ইসলামের লাশ উদ্ধার করা হয়। শিশুটির বাবা সোহেল মিয়ার অভিযোগ, ঝগড়ার কারণে শিশুটির মা জাহানারা বেগম শিশুটিকে পুকুরে ফেলে দিয়ে হত্যা করেছেন। জাহানারাকে আটক করেছে পুলিশ। সোহেল জানান, তিনি পেশায় রিকশাচালক। তিন বছর আগে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার দেড়গ্রামের জাহানারা বেগমের সঙ্গে সোহেলের বিয়ে হয়। তাঁদের আট মাস বয়সী তাহা গত রবিবার সকালে ঘরের চৌকি থেকে পড়ে যায়। এ নিয়ে সোহেলের বাবা জাহানারার সঙ্গে রাগারাগি করেন। একই বিষয়ে রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। ভোরে বিছানায় স্ত্রী ও মেয়েকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন সোহেল। খবর পেয়ে সকালে বাড়ি থেকে তিন কিলোমিটার দূরে বানিয়াজুরী বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন একটি পুকুরে তিনি মেয়ের লাশ ভাসতে দেখেন।

রাউজান (চট্টগ্রাম) : রাউজান উপজেলার ডাবুয়া ইউনিয়নের নতুনপাড়ার আবু তৈয়ব (২২) রবিবার রাতে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে। তৈয়ব ওই এলাকার আব্দুল মোমিনের দ্বিতীয় ছেলে। স্থানীয় লোকজন জানায়, পরিবারের সদস্যরা রবিবার রাত ৯টার দিকে শয়নকক্ষে শাড়ির সঙ্গে তৈয়বের লাশ ঝুলতে দেখে চিৎকার দেয়। স্থানীয় লোকজন গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। তৈয়বের মা নূর আক্তার বলেন, ‘তৈয়ব চার বছর ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল। তাঁর চিকিৎসার জন্য প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ করেছি। তবু সে স্বাভাবিক হয়নি। কেন সে আত্মহত্যা করেছে বুঝতে পারছি না। ’ এলাকাবাসীর ধারণা, প্রেমঘটিত কারণে এই আত্মহত্যা।


মন্তব্য