kalerkantho


ওদের ‘পৌষ মাস’

পাবনা প্রতিনিধি   

১০ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



কথায় আছে ‘কারো পৌষ মাস, কারো সর্বনাশ’। সারা দেশে এখন ইলিশ ধরা, মজুদ, পরিবহন, বিনিময় ও বেচাকেনার ওপর নিষেধাজ্ঞা চলছে।

অথচ এ সময়ই কিনা ইলিশ জুটছে ওদের পাতে। কারণ এ সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মাদরাসা-এতিমখানায় এ মাছ বিতরণ করা হয়। আর এগুলো ভ্রাম্যমাণ আদালতে জব্দ করা।

মাদরাসাছাত্র দ্বিনী আমিনের (১১) বাবা রূপালী ব্যাংকের পাবনার আতাইকুলা শাখার নিরাপত্তাকর্মী। চার ছেলেমেয়ের খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন তিনি। এ কারণে দুই বছর আগে তিনি আমিনকে সুজানগরের মানিকদির মাদরাসা ও এতিমখানায় রেখে যান। এখানে থেকে পড়াশোনা করছে আমিনের মতো অনেক ছাত্র। কালেভদ্রে উন্নত খাবারের দেখা পায় ওরা। সেখানে ইলিশ তো দূরের কথা।

কেবল সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলাকালে এ মাছ খেতে পায় ওরা। কারণ এ সময় জব্দ করা ইলিশ বিভিন্ন মাদরাসা-এতিমখানায় বিলিয়ে দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস ও সুজানগর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম জানান, ১ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ মাছের প্রজনন মৌসুম। এ সময় এ মাছ ধরা নিষেধ। তা সত্ত্বেও অনেক অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত লাভের আশায় ইলিশ ধরছে। অভিযানের মাধ্যমে তাদের ধরে আইনের আওতায় আনছেন। এ ছাড়া অভিযানে জব্দ করা ইলিশ বিভিন্ন এতিমখানায় পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাঁরা আরো জানান, এ পর্যন্ত জব্দ করা ইলিশ সুজানগরের সিংহনগর এতিমখানা, মানিকদির এতিমখানা, শ্যামনগর মাদরাসা ও এতিমখানা, মথুরাপুর মাদরাসা ও এতিমখানা, আমিনপুর বাতেনিয়া হাফেজিয়া মাদরাসা, আবুল হাশেম এতিমখানা, সৈয়দপুর জামেয়া ফোরকানিয়া মাদরাসাসহ বিভিন্ন মাদরাসা-এতিমখানায় বিলিয়ে দেওয়া হয়েছে।

 


মন্তব্য