kalerkantho


মধুপুর

হাটের জায়গায় পৌর স্থাপনা

অরণ্য ইমতিয়াজ, টাঙ্গাইল   

১০ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



হাটের জায়গায় পৌর স্থাপনা

ব্যবসায়ীদের বিনা নোটিশে উচ্ছেদ করে হাটের পেরিফেরিভুক্ত জমিতে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে টাঙ্গাইলের মধুপুর পৌরসভা। একই হাটের মাঝখানে নিচু জায়গায় কাঁচা বাজারের অংশে শেড নির্মাণ করে ক্ষুদ্র ও খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ১১ হাজার টাকা করে নিয়েছে।

স্থানীয়রা প্রতিকার চেয়েছে প্রশাসনের কাছে।

টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও হাটের ব্যবসায়ী খন্দকার আনোয়ারুল হক জানান, মধুপুর মৌজার ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত তিন একর ৭৭ শতাংশ জায়গা পেরিফেরিভুক্ত। এখানে দীর্ঘদিন ধরে প্রতি সপ্তাহের মঙ্গল ও শুক্রবার হাট বসে। প্রশাসনের কাছ থেকে নিয়ম অনুযায়ী বরাদ্দ নিয়ে ১৭ বছর ধরে হাটে ব্যবসা করছে। তারা ৪৭ জন লাইসেন্সধারী ব্যবসায়ী রয়েছে। এ ছাড়া খোলা জায়গায় ‘ভিটি’ (বসার জন্য মাটি একটু উঁচু করা জায়গা) নিয়ে কাঁচামালের ব্যবসা করছে অনেকে। গত বছরের (২০১৬ সাল) শেষের দিকে হঠাৎ করে মধুপুর পৌরসভা হাটের পেরিফেরিভুক্ত জায়গার ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করে নতুন স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সেসব স্থাপনা নতুন করে ব্যবসায়ীদের বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা করে। ব্যবসায়ীরা তাতে আপত্তি ও প্রতিবাদ জানায়।

গত বছরের ১ ডিসেম্বর ও চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি তারা বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানায়। তাতে কোনো কাজ হয়নি। পরবর্তী সময় পৌরসভা স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু করে। ব্যবসায়ীরা বিষয়টি টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসনকে জানায়। পরে সদর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে গত ১৭ সেপ্টেম্বর মধুপুর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলীকে এক চিঠি দিয়ে জানানো হয়, ‘হাটের পেরিফেরিভুক্ত অনুমোদিত শপ লাইসেন্স/লিজ বন্দোবস্ত করা জায়গায় জেলা প্রশাসকের বিনা অনুমতিতে উচ্ছেদসহ সব কার্যক্রম স্থগিত রাখার জন্য অনুরোধ করা হলো। ’ এর আগে ওই জায়গায় স্থাপনা নির্মাণ আইনানুগ নয় বলেও উল্লেখ করা হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের মধুপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে আধা কিলোমিটার উত্তরে সড়ক ঘেঁষে ডান পাশে হাট। সড়ক থেকে নেমে পূর্ব দিকে এগিয়ে গেলে দেখা যায়, অনেক জায়গাজুড়ে সিমেন্টের খুঁটি দিয়ে শেড নির্মাণ করা হয়েছে। শেডের একপাশে লেখা রয়েছে, ‘মধুপুর সাধারণ হাট-কাঁচা বাজার। বাস্তবায়নে, মাসুদ পারভেজ, মেয়র, মধুপুর পৌরসভা। ’ হাটের পুরনো দোকান ভেঙে নতুন করে স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে।

কয়েকজন সবজি ও কাঁচামাল বিক্রেতার সঙ্গে কথা হয়। তারা জানায়, হাটে ‘ভিটি’ নিয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসছে। ইতিপূর্বে কখনো পৌরসভা থেকে তাদের কাছে টাকা দাবি করা হয়নি। কিন্তু বর্তমান মেয়র টিনের শেড নির্মাণ করে প্রত্যেকের কাছ থেকে ১১ হাজার টাকা করে নিয়েছেন। অথচ এ জন্য কোনো রসিদ দেওয়া হয়নি। হাটের প্রহরীর মাধ্যমে টাকাগুলো নেওয়া হয়। কেউ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের ভিটি বিক্রি করে ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা হয়। বাধ্য হয়ে তারা টাকা দেয়। এসব তথ্য ব্যবসায়ীরা কালের কণ্ঠকে দিলেও তারা পরিচয় প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করে। তারা বলে, ‘এসব কথা বলেছি জানলে মেয়রের লোকজন আমাদের ব্যবসা বন্ধ করে দেবে। ’

মধুপুর পৌরসভার মেয়র মাসুদ পারভেজ বলেন, মধুপুর হাটের পুরো জায়গা পেরিফেরিভুক্ত। হাটের উন্নয়নের জন্য বৈধ প্রকল্পের মাধ্যমে জাইকা এক কোটি ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এ জন্য দরপত্র আহ্বান, নকশ এলজিইডি করেছে। এখানে পৌরসভার কোনো হাত নেই। বাস্তবে ৩০ জন ব্যবসায়ী রয়েছে, যার মধ্যে মাত্র চারজনের দোকান নতুন প্রকল্পের মধ্যে পড়েছে। তাদের উচ্ছেদ করলে তো নোটিশ দিতে হবে, পৌরসভা কোনো নোটিশ দেয়নি। কাঁচা বাজার অংশে শেড নির্মাণের জন্য পৌরসভায় কোনো বাজেট নেই। ব্যবসায়ী, তাদের সমিতি ও ইজারাদার মিলে শেড নির্মাণ করেছে। পৌরসভা কিছু জানে না। তারাই বাস্তবায়নে মেয়রের নাম ব্যবহার করেছে।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক খান মো. নুরুল আমিন বলেন, ‘হাটের পেরিফেরিভুক্ত জায়গায় কোন ক্ষমতাবলে পৌরসভা স্থাপনা নির্মাণ করবে? জনপ্রতিনিধি হলেও কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। বিষয়টি দেখার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ’


মন্তব্য