kalerkantho


সাতক্ষীরায় শিক্ষক হত্যা

বাদীর বাড়িতে রাতে হামলা ভাঙচুর

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



সাতক্ষীরায় মাদরাসা সুপারকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করায় বাদীর বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। মুখোশধারী সন্ত্রাসীরা আসবাবপত্র ভাঙচুরের পর বাদীর মায়ের বুকে বন্দুকের নল ঠেকিয়ে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দিয়েছে।

দরজা ভেঙে বাদীর স্মার্ট ফোন লুটে নিয়েছে। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কাথণ্ডা গ্রামে গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঘণ্টাব্যাপী এ ঘটনা ঘটে।

নিহতের ভাই ও মামলার বাদী কাথণ্ডা গ্রামের বজলুর রহমান জানান, রাত ৩টার দিকে কয়েকটি মোটরসাইকেল রাস্তায় রেখে হেলমেট ও মুখে কাপড় পরা ১৮-২০ জন সন্ত্রাসী ও সঙ্গে থাকা সাদা পোশাকের পুলিশ তাঁদের (বজলু) বাড়ির বারান্দার গ্রিল ভেঙে ঘরে ঢোকার চেষ্টা করে। তখন বাধ্য হয়ে তাঁর মা মঞ্জুয়ারা বেগম ঘরের দরজা খুলে দেন। হাতে ওয়্যারলেস থাকা এক পুলিশ সদস্য মঞ্জুয়ারার বুকে বন্দুকের নল ঠেকিয়ে বলেন, ‘তোর স্বামী কোথায়?’ তিনি বাড়িতে নেই বলায় পুলিশ ও সন্ত্রাসীরা মঞ্জুয়ারাকে উদ্দেশ করে অকথ্য গালাগাল করতে করতে ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। কিছুক্ষণ পর তারা দোতলার দরজা ভেঙে বজলুর ঘরে ঢোকে এবং তাঁর ২০ হাজার টাকা দামের স্যামসাং গ্যালাক্সি মোবাইল ফোন সেটটি নিয়ে যায়। এ সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। ঘণ্টাব্যাপী তাণ্ডব চালানোর সময় আগামী রবিবার আদালতে গিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে করা মামলা তুলে না নিলে বাদীর অবস্থা ভাই সাঈদুরের মতো হবে বলে চলে যায়।  

কাথণ্ডা গ্রামের মো. আমিনুর ইসলাম, হাবিবুর রহমান, মনিরুল ইসলাম ও আজিজুর রহমান জানান, রাতে যেভাবে হেলমেট পরে সন্ত্রাসীরা তাণ্ডব চালিয়েছে তাতে ওই পরিবারটি নিরাপত্তার কারণে এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের সুবিধাভোগী এলাকার সন্ত্রাসীরাই থানা-পুলিশের পরামর্শে ওই তাণ্ডব চালিয়েছে। বজলুর রহমানের বাড়িতে হামলার বিষয়ে জানতে সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি মারুফ আহম্মেদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সহকারী উপপরিদর্শক রুবেল বলেন, ‘স্যার রাতে ডিউটি করেছেন। তিনি ক্লান্ত, তাই ফোন না ধরে একটু ঘুমিয়ে নিচ্ছেন। ’ থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল হাশেম জানান, এ ঘটনা তাঁর জানা নেই। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, কলারোয়া উপজেলার কেড়াগাছী ইউনিয়নের হঠাত্গঞ্জ দাখিল মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্ট সদর উপজেলার কাথণ্ডা গ্রামের দেলদার রহমানের ছেলে সাঈদুর রহমানকে (৪৮) গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে সদর থানার উপপরিদর্শক আসাদুজ্জামান ও পাইক দেলোয়ার হোসেন, সহকারী উপপরিদর্শক শেখ সুমন হাসান, আশরাফুজ্জামানসহ কয়েক পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার করেন।


মন্তব্য