kalerkantho


নান্দাইলের রাজাপুর ফাজিল মাদরাসা

স্বীকৃতি ছাড়াই চলছে ২৭ বছর ধরে

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

১২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার রাজাপুর ফাজিল মাদরাসার একাডেমিক স্বীকৃতি নেই। কিন্তু তার পরও নিয়োগ কার্যক্রমসহ ৯ শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতা যথারীতি তোলা হচ্ছে।

স্বীকৃতি ছাড়া শিক্ষা কার্যক্রমও চলছে ২৭ বছর ধরে। গত সপ্তাহে মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এক উপপরিচালকের করা তদন্তে এ ‘জালিয়াতি’ উঠে এসেছে। এ ছাড়া ওই প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তাজুল ইসলাম সাইফুল্লাকে বরখাস্ত করে মাউশি যে নির্দেশ দিয়েছিল, তাও মানা হয়নি।

তদন্ত প্রতিবেদনের অনুলিপি থেকে জানা যায়, ১৯৫০ সালে মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর ১৯৫৩ সালে দাখিল, ১৯৬৫ সালে আলিম ও ১৯৬৯ সালে ফাজিল পর্যায়ে পাঠদানের স্বীকৃতি পায় মাদরাসাটি। কিন্তু নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ১৯৯৪ সালে আলিম ও ফাজিলের পাঠদানের স্বীকৃতি প্রত্যাহার করে। অন্যদিকে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ দাখিল স্তরের স্বীকৃতিও নবায়ন করেনি। ফলে ১৯৮৯ সাল থেকে মাদরাসার একাডেমিক স্বীকৃতি ছিল না। তার পরও ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত স্বীকৃতিবিহীন দুটি স্তরে বিভিন্ন পদে আটজন শিক্ষক ও একজন কর্মচারী (এলএমএসএস) নিয়োগ দেওয়া হয়।

ওই সময় মাদরাসায় নিয়মিত কমিটি ছিল না। মাউশির তদন্ত প্রতিবেদনে এসব নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তাজুল ইসলাম সাইফুল্লাহ বলেন, তিনি ২০২১ সাল পর্যন্ত নবায়ন স্বীকৃতির জন্য আবেদন করেছেন। তদন্ত প্রতিবেদনে যা বলা হয়েছে, সবই ভুল। এ বিষয়ে তিনি উপপরিচালক বরাবর নারাজি আবেদন করেছেন। অন্যদিকে দীর্ঘদিন চাকরি করার পর বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার চিঠি পেয়ে অবাক হয়েছেন। এ ঘটনায়ও শিক্ষক-কর্মচারীরা পৃথক দুটি মামলা করেছেন। বিষয়টি এখন আদালতের হাতে বলেও জানান তিনি।

 


মন্তব্য