kalerkantho


গাজীপুরে জাহাঙ্গীর আলম শিক্ষা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ

হাজারো শিক্ষার্থীর মুখে হাসি

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

১১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



হাজারো শিক্ষার্থীর মুখে হাসি

গাজীপুর শহরের ভাওয়াল রাজবাড়ি মাঠে জাহাঙ্গীর আলম শিক্ষা ফাউন্ডেশনের বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের একাংশ। ছবিটি গতকাল সকালে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

গাজীপুর মহানগরের ধীরাশ্রম এলাকার পিতৃহীন হতদরিদ্র পরিবারের মেয়ে শারমিন আক্তার। প্রাইভেট পড়িয়ে সংসার, ছোট দুই বোন ও নিজের লেখাপড়া চালাচ্ছিলেন তিনি।

গত অনার্স পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে পাস করেন। কিন্তু মাত্র তিন হাজার ৪০০ টাকা জোগাড় করতে না পারায় মাস্টার্সে ভর্তি হতে পারছিলেন না। বিষয়টি জানতে পেরে আর্থিক সহায়তা দিয়ে শারমিনের পাশে দাঁড়ায় ‘জাহাঙ্গীর আলম শিক্ষা ফাউন্ডেশন’। শুধু ভর্তি নয়, শিক্ষা উপকরণসহ লেখাপড়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত শারমীনের যাবতীয় দায়িত্ব নেয় ফাউন্ডেশনটি। মহানগরের এমন হাজারো শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়িয়েছে ‘জাহাঙ্গীর আলম শিক্ষা ফাউন্ডেশন’।

গতকাল শুক্রবার সকালে গাজীপুর শহরের ভাওয়াল রাজবাড়ি মাঠে আয়োজিত এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ওই ফাউন্ডেশনের শিক্ষা বৃত্তির টাকা, অনুদান, ল্যাপটপ, মোটরসাইকেলসহ শিক্ষা উপকরণ তুলে দেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহিদ আহসান রাসেল, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র মো. আসাদুর রহমান কিরণ। বিকেলে আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের।

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শারমিনের মতো অনেক শিক্ষার্থী মেধাবী হয়েও অর্থের অভাবে লেখাপড়া করতে পারছে না।

ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও অভাব-অনটনের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে তারা মেধার পরিচয় দিচ্ছে। তাদের লেখাপড়াসহ চাকরির দায়িত্বও নেবে তাঁদের ফাউন্ডেশন। দেশের সব সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, মেডিক্যাল কলেজ, ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত সব শিক্ষার্থীকেই শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষার্থী ইতিমধ্যে আবেদন করেছে। তাদের দরিদ্র, অতিদরিদ্র ও মেধাবী শ্রেণিতে ভাগ করে বৃত্তির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। ধনী বা দরিদ্র যে পরিবারেরই হোক, স্নাতক পর্যায়ে অধ্যয়ন ও আবেদন করলে কেউ বঞ্চিত হবে না।

গতকাল ফাউন্ডেশনের উদ্বোধনী দিনে চারশ ছয়জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তির প্রথম অংশ (দুইশ জনকে এক লাখ টাকা করে। অন্যদের ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা) দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৫০ জনকে ল্যাপটপ ও পাঁচজনকে মোটরসাইকেল দেওয়া হয়। উপস্থিত ১৫ হাজার শিক্ষার্থীকে দুপুরে খাওয়ানো হয়।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আজকের শিক্ষার্থীদের স্বপ্নের মাঝেই আগামী বাংলাদেশের সমৃদ্ধি লুকিয়ে আছে। তরুণ নেতা জাহাঙ্গীর আলম শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে আজ বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এ দেশে অনেকের টাকা আছে। কিন্তু এভাবে সহায়তা দিয়ে তারা পাশে দাঁড়ায় না। সমাজের বিত্তবানদের জাহাঙ্গীর আলম শিক্ষা ফাউন্ডেশনের মতো শিক্ষার্থী ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাই। ’

 


মন্তব্য