kalerkantho


হোসেনপুর উপজেলা পরিষদে উপনির্বাচন

স্বতন্ত্র প্রার্থী নিয়ে আ. লীগে অস্বস্তি, সুবিধায় বিএনপি

শফিক আদনান, কিশোরগঞ্জ   

২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচন আগামী ৬ মার্চ। পদটি শূন্য হয়েছিল ২০১৫ সালের নভেম্বরে।

নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী ৯০ দিনের (তিন মাস) মধ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। সেই নির্বাচন করতে ইতিমধ্যে ১৫ মাস পেরিয়ে গেছে।  

২০১৪ সালের ১৫ মার্চ অনুষ্ঠিত এ উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান হিসেবে বিজয়ী হয়েছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আয়ুব আলী। ২০১৫ সালের ২৯ নভেম্বর তাঁর মৃত্যুর পর পদটি শূন্য হয়। নির্বাচনের দেরি দেখে এত দিন প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ থাকলেও তফসিল ঘোষণার পর এখন সবাই নির্বাচনমুখী। জমে উঠেছে প্রচার। উপজেলার হাটবাজার ও গ্রামগুলো পোস্টারে ছেয়ে গেছে। মোড়ে মোড়ে স্থাপন করা হয়েছে নির্বাচনী কার্যালয়, চলছে মাইকিং। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকদের গণসংযোগ।

প্রার্থীরা দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি।

ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ উপজেলায় প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হচ্ছে। উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জহিরুল ইসলাম নুরু মিয়া (নৌকা)। তাঁর সঙ্গে স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন প্রয়াত চেয়ারম্যান আয়ুব আলীর ছেলে মোহাম্মদ সোহেল (আনারস প্রতীক)। এ নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে অস্বস্তি রয়েছে। আর বিএনপির মনোনয়নে প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহিরুল ইসলাম মবিন (ধানের শীষ)। গত নির্বাচনেও তিনি প্রার্থী হয়েছিলেন।

উপনির্বাচনে ভোটার সংখ্যা এক লাখ ৩১ হাজার ৪৬৯। ভোটাররা বলছে, নির্বাচিত হলেও আয়ুব আলী অসুস্থতার কারণে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করতে পারেননি। তাই এই নেতার পরিবারের প্রতি সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে। দল মনোনয়ন না দিলেও বাবার জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে প্রার্থী হয়েছেন স্থানীয় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা সোহেল। তিনি প্রার্থী হওয়ায় আওয়ামী লীগের ভোট ভাগাভাগি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থায় থাকবেন মবিন। উপনির্বাচনে মূল লড়াই হতে পারে সোহেল ও বিএনপি প্রার্থীর মধ্যে।

হোসেনপুর বাজারের ব্যবসায়ী মশিউর রহমান জানান, এবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী নির্বাচন ভালো হয়নি। তাই ভোটের লড়াইয়ে দল হিসেবে তারা পিছিয়ে আছে।

আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উপনির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের জন্য কেন্দ্রে আটজনের নাম পাঠানো হয়। এর মধ্যে সোহেলের নামও ছিল। গত ৫ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় আসাদুজ্জামান খান অডিটরিয়ামে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের নিয়ে দলীয় সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে দল যাঁকে মনোনয়ন দেবে তাঁর হয়ে কাজ করার অঙ্গীকার করেন সব প্রার্থী। কিন্তু কেন্দ্র থেকে জহিরুল ইসলাম নুরু মিয়াকে মনোনয়ন দেওয়ার পর বেঁকে বসেন সোহেল। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামেন। এতে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে অস্বস্তি ছড়িয়ে পড়ে।

আবার বিএনপির একটি সূত্র জানায়, মাঠে একক প্রার্থী থাকলেও বিএনপিতেও বিভক্তি আছে। বিভক্তি দূর করতে কয়েক দিন আগে জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলম হোসেনপুরে গিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে সভা করেছেন। কিন্তু তাতেও দলীয় নেতাকর্মীদের বিভেদ দূর হয়নি। এ অবস্থায় নেতাকর্মীরা বলছে, দলীয় প্রার্থীর জয় চাইলে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

প্রার্থিতা নিয়ে দলে দ্বিধাবিভক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ মাহবুবুল হক বলেন, শুরুতে দলে যে দ্বিধাবিভক্তি ছিল, তা এখন আর নেই। দলের নেতাকর্মীরা নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে জয়ী করতে একাট্টা হয়ে কাজ করছে।

আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জহিরুল ইসলাম নুরু মিয়াও বলেন, ‘দলে কোনো বিভাজন নেই। স্বতন্ত্র প্রার্থীও ভোটে আমার কোনো ক্ষতি করতে পারবেন না। কারণ তিনি (স্বতন্ত্র প্রার্থী) দলের কেউ নন। আওয়ামী লীগের অনুসারী হলে তিনি দলের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাতেন। জয়ী হলে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে আমি হোসেনপুরকে একটি জনবান্ধব মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলব। ’

স্বতন্ত্র প্রার্থী সোহেলও নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হলে বাবার অসমাপ্ত কাজগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করব। উন্নয়নের পাশাপাশি বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাসহ মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত হোসেনপুর গড়তে কাজ করে যাব। ’

বিএনপি প্রার্থী জহিরুল ইসলাম মবিন বলেন, ‘গত নির্বাচনে ভোট ডাকাতি করে আমাকে হারানো হয়েছিল। এবার নতুন নির্বাচন কমিশনের ব্যবস্থাপনায় নির্বাচন হচ্ছে। আশা করি, উপনির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। নির্বাচিত হলে এলাকায় শিল্প-কারখানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের দিকে বেশি মনোযোগী হব। ’

রিটার্নিং অফিসার ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তরফদার মো. আক্তার জামীল বলেন, ‘নির্বাচন কেন দেরিতে হচ্ছে সে বিষয়ে আমি বলতে পারব না, এটি নির্বাচন কমিশনের বিষয়। আমার দায়িত্ব ভালো নির্বাচন উপহার দেওয়া। সে লক্ষ্যে কাজ করছি। এখন পর্যন্ত নির্বাচন নিয়ে কোনো সমস্যা বা আচরণবিধি লঙ্ঘনের মতো তেমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। ’

 


মন্তব্য