kalerkantho


বৃদ্ধের হাত-পা ভেঙে দিল বিএসএফ

স্বপন চৌধুরী, রংপুর ও হায়দার আলী বাবু, লালমনিরহাট   

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ভারত থেকে দালালের মাধ্যমে দেশে ফেরার সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে আটক হন তিনি। বিএসএফ জওয়ানদের মারধরে কিছুক্ষণের মধ্যে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

এরপর যখন জ্ঞান ফেরে তখনো নিজেকে দেখতে পান শিশিরভেজা ঘাসের ওপর অন্ধকারে পড়ে আছেন। বাঁ হাত, ডান পা নড়াচড়া করতে পারছেন না, কপাল গড়িয়ে রক্ত পড়ছে।

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ মুরারী মোহন গুপ্ত নিজেই বলছিলেন এ ঘটনা। বিজিবি-পুলিশ এবং আরো দুটি হাসপাতাল ঘুরে তার ঠাঁই হয়েছে সেখানে।

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম সীমান্তের ওপারের ভারতীয় অংশে গত মঙ্গলবার রাতে বিএসএফের বেধড়ক পিটুনি খান মুরারী মোহন গুপ্ত। এখন উল্টো তাঁর বিরুদ্ধে বিজিবির মামলা ঝুলছে। ফলে হাসপাতালে তাঁকে পাহারায় রেখেছে পুলিশ। মুরারী মোহন গুপ্তের বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার সাভার গ্রামে। গতকাল বুধবার দুপুরে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সীমান্তের ডিএএমপি ১০-এর ৩ নম্বর পিলারের ফকিরপাড়া নামক স্থান থেকে মঙ্গলবার রাতে মুরারী মোহন গুপ্তকে উদ্ধার করে আঙ্গরপোতা বিওপি বিজিবির একটি টহল দল।

এরপর সেখান থেকে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। পরে তাঁর বিরুদ্ধে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশের’ অভিযোগে পাটগ্রাম থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

ভারতের ২২ ব্যাটালিয়ন বিএসএফের ওমর ক্যাম্পের টহলদলের জওয়ানরা ওই বৃদ্ধকে মারধর করলে তাঁর ডান হাত ও বাঁ পা ভেঙে যায় এবং কপালে প্রচণ্ড আঘাত পান বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফের কাছে একটি প্রতিবাদপত্রও পাঠানো হয়েছে।

বিজিবি, পুলিশ ও সীমান্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, মুরারী মোহন গুপ্ত মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর ভারতের মেখলিগঞ্জ এলাকা দিয়ে বাংলাদেশ সীমান্তের কাছাকাছি এলে বিএসএফের হাতে আটক হন। এরপর বিএসএফ জওয়ানরা রাইফেলের বাঁট দিয়ে তাঁর হাত, পা ভেঙে দেয়। সেই সঙ্গে কপাল, বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে তাঁর ওপর নির্যাতন চালানো হয়। মুমূর্ষু অবস্থায় তাঁকে নো ম্যানস ল্যান্ডের বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে ফেলে রেখে চলে যায় বিএসএফ। পরে তাঁর চিৎকারে বিজিবির একটি টহলদল তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে দহগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে পাটগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।


মন্তব্য