kalerkantho


মাগুরায় ব্রিজ ধস

সেভাবেই আটকা ট্রাক টাকা গুনে চিত্রা পার

মাগুরা প্রতিনিধি   

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



মাগুরা-যশোর সড়কের সীমাখালির চিত্রা নদীতে ধসে পড়া ব্রিজের ওপর আটকে থাকা ট্রাক দুটি এখনো উদ্ধার হয়নি। অন্যদিকে ব্রিজ এলাকায় চিত্রা নদী পারাপারের জন্য একটি ক্লাবের পক্ষ থেকে তৈরি বাঁশের সাঁকোতে জনপ্রতি পাঁচ টাকা ও মোটরসাইকেল আরোহীদের কাছ থেকে ১০ টাকা করে ‘টোল’ নেওয়া হচ্ছে।

প্রতিদিন গড়ে দুই হাজারের বেশি মানুষ নদী পার হচ্ছে সাঁকোটি দিয়ে।

গতকাল বুধবার ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ধসে যাওয়া ব্রিজটি দেখতে ভিড় করেছে মানুষ। ব্রিজের ওপর থেকে পিকআপটি উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু অতিরিক্ত পণ্যবাহী যে ট্রাক দুটি পার হওয়ার সময় ব্রিজটি ধসে পড়ে তা এখানো উদ্ধার হয়নি।

সেখানে থাকা মাগুরা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী কাফি হোসেন বলেন, ‘ট্রাক দুটি মামলার আওতায় আনা হয়েছে। এ কারণে সেগুলো উদ্ধারপ্রক্রিয়া এখন পুলিশের ওপর নির্ভরশীল। ’ তিনি জানান, আপাতত এলাকার মানুষের চিত্রা নদী পারাপারের জন্য একটি বাঁশের মজবুত সাঁকো তৈরি করা হচ্ছে। এর কাজ প্রায় শেষ। দু-এক দিনের মধ্যে এটি দিয়ে মানুষ নদী পার হতে পারবে।

এ ছাড়া ব্রিজের পাশে একটি ছোট বেইলি ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা হয়েছে। এ জন্য গতকাল সড়ক বিভাগ ঢাকা থেকে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

ঘটনাস্থল ঘুরে দেখা গেছে, ধসে যাওয়া ব্রিজের পূর্ব দিকে সওজের লোকজন একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করছে। এর কাজ শেষের দিকে। এর কাছে পরপর দুটি বাঁশের সাঁকো তৈরি হয়েছে। প্রথমটি তৈরি করেছে শালিখা উপজেলা ছাত্রলীগ। এ সাঁকোর গায়ে ‘বিনা মূল্যে পারাপারের জন্য’ নোটিশ দেওয়া আছে। কিন্তু এটির মধ্যভাগ পানিতে ডুবে যাওয়ায় এটি দিয়ে মানুষ তেমন নদী পার হচ্ছে না। এই সুযোগে এর পূর্ব দিকে ব্রিজের দক্ষিণ এলাকা ভবানীপুর চিত্রা ক্লাবের পক্ষ থেকে তৈরি একটি বাঁশের সাঁকোতে কিছু যুবক পারাপারের সময় জনপ্রতি পাঁচ টাকা টোল আদায় করছে। চিত্রা ক্লাবের সদস্য মাসুদ হোসেন বলেন, ‘সাঁকোটি তৈরিতে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। এ কারণে টোল নেওয়া হচ্ছে। সরকারিভাবে তৈরি বাঁশের সাঁকোটি চালু হলে এখানে আর টোল আদায় করা হবে না। ’

শালিখা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কুতুব উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনার পরপরই মানুষের যাতায়াতের জন্য আমরা স্বেচ্ছাসেবার ভিত্তিতে একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করি। এটিতে সবাই বিনা মূল্যে নদী পার হচ্ছে। বর্তমানে এটি কিছুটা জলমগ্ন হয়ে পড়ায় পারাপারে একটু অসুবিধা হচ্ছে। অন্যদিকে যশোরের ভবানীপুরের কিছু যুবক একটি সাঁকো বানিয়ে নদীর ওপারে তাদের এলাকায় অবস্থান নিয়ে টোল আদায় করছে। এটি সম্পূর্ণ অবৈধ।


মন্তব্য