kalerkantho


সাগরকন্যা কুয়াকাটা

আড়ালে দুই মোহনা

জসীম পারভেজ, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)   

৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



আড়ালে দুই মোহনা

সাগরকন্যা কুয়াকাটার রামনাবাদ নদের মোহনায় সূর্যোদয়ের অবলোকন করে সৈকতের ঝাউবনে বিচরণ করছেন পর্যটকরা। ইনসেটে সৈকতে লাল কাঁকড়ার ছোটাছুটি। ছবি : কালের কণ্ঠ

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতকে সাগরকন্যা বলা হয়। পর্যটকরা এখানে এসে সাধারণত সৈকত ঘুরে ফিরে যান।

ফলে আড়ালে থাকে আন্ধারমানিক ও রামনাবাদ নদের মোহনা।

এ দুই মোহনার অপরূপ প্রকৃতি, পাখপাখালির কলকাকলি, ঢেউয়ের শব্দ ও আলো-আঁধারে জলের নানান রঙের খেলা দেখে মুগ্ধ হবেন যে কেউ।

এক বিকেলে কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে সমুদ্রসৈকত ধরে পশ্চিম দিকে আন্ধারমানিক নদের মোহনার দিকে (লাল কাঁকড়ার চর খ্যাত) গিয়ে দেখা গেল, রোদে লেম্পুচরের সবুজ বনানী এক অপরূপ দৃশ্য। নদের ওপারে ঘন গাঢ় রং ধারণ করেছে ফাতরা বন। নীরব নিস্তব্ধ পরিবেশ। নদের দুই তীরে গাংচিলের ডাকাডাকি।

পর্যটক রুমা রানী শীল বলেন, ‘আমি প্রতিবছর শীত মৌসুমে কুয়াকাটা ভ্রমণে আসি। তবে দুটি মোহনার কথা আমার জানা ছিল না। এ বছর ঘুরতে এসে জানতে পারলাম।

দুটিই দেখেছি। আন্ধারমানিক নদে লাল কাঁকড়ার ছোটাছুটি ও বনের ভেতর থেকে ভেসে আসা পাখপাখালির কিচিরমিচির আমাকে মুগ্ধ করেছে। ’

আন্ধারমানিক নদের মোহনাসংলগ্ন নিজামপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন (৪০) বলেন, ‘এখানে আমার জন্ম। কিন্তু সেই শিশু বয়স থেকে মোহনার সৌন্দর্য একেক দিন একেক রকম দেখি। ফাতরা বনের শাখা খালের তীরে প্রতিদিন শত শত বানর ছুটে আসে। সকালের আলোতে ওদের চিত্কার আর পাখির গুঞ্জনে আমাদের ঘুম ভাঙে। তবে অন্ধকার রাতে আন্ধারমানিক নদের পানি হাত দিয়ে নাড়া দিলে মুক্তার মতো জ্বলজ্বল করে। এই খেলা এখনো আমরা উপভোগ করি। ’

রুমা রানী শীল আরো বলেন, ‘রামনাবাদ নদের মোহনায় গিয়ে দেখা গেছে, আরেক দৃশ্য। ভোরে সূর্য উদয়ের সময় লাল কাঁকড়ার দলের মিছিল। ঝাউবনে বাতাসের শোঁ-শোঁ শব্দ ও পাখির ডাক। জেলেরা দলে দলে ট্রলার নিয়ে ছুটে যায় সমুদ্রে মাছ শিকারে। সূর্যকে মনে হয়, সে যেন নদের ভেতর থেকে উঠছে। ’

কুয়াকাটা পৌর মেয়র আবদুল বারেক মোল্লা বলেন, ‘পর্যটকরা কুয়াকাটার সৌন্দর্য দেখেই মুগ্ধ। তবে বাড়তি সৌন্দর্য দুটি মোহনা। এটা দেখাতে হলে আমাদের যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করতে হবে। আমরা সেই চেষ্টা করছি। ’

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ বি এম সাদিকুর রহমান বলেন, ‘সৈকত ও দুটি নদের মোহনায় যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করতে কুয়াকাটা মেঘাবিচ প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। এটা বাস্তবায়ন হলে পর্যটকরা নানাবিধ সুযোগ-সুবিধা পাবেন। ’


মন্তব্য