kalerkantho


মানিকগঞ্জে খাল বর্জ্যমুক্ত করতে অভিনব প্রকল্প

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি   

৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



মানিকগঞ্জে খাল বর্জ্যমুক্ত করতে অভিনব প্রকল্প

মানিকগঞ্জ শহরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত খালটি বর্জ্যমুক্ত ও পানি সংরক্ষণ করতে পৌরসভা থেকে অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খালের দুই প্রান্তে বাঁধ দিয়ে পানি সংরক্ষণ করে সেখানে মাছের চাষ করা হবে।

তবে উদ্যোগটি কতটুকু পরিবেশবান্ধব তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে অনেকে।

মানিকগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী বেল্লাল হোসেন জানান, খালটিতে বছরের অর্ধেক সময় পানিপ্রবাহ থাকে না। তা ছাড়া হোটেল, রেস্টুরেন্ট, বাসাবাড়ির বর্জ্যে খালটি ভরাট হয়ে যাচ্ছে। অসংখ্যবার নোটিশ দিয়েও বর্জ্য ফেলা থেকে তাদের বিরত রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থা থেকে খালটিকে রক্ষা করতেই পরীক্ষামূলকভাবে মাছ চাষ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্প চলবে কেবল শুকনো মৌসুমে যখন খালে পানি থাকে না।

বেল্লাল হোসেন জানান, পৌরসভা নিজ খরচে খালের দুই প্রান্তে অস্থায়ী বাঁধ দিয়ে দিচ্ছে। দুই বাঁধের মধ্যবর্তী দৈর্ঘ্য হবে প্রায় এক হাজার ২০০ মিটার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাঁধের মধ্যবর্তী অংশে পৌরসভার ডিপ টিউবওয়েল থেকে পানি সরবরাহ করা হবে।

সেখানেই মাছের চাষ করা হবে। প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে আগ্রহী ব্যক্তিকে মাছ চাষের অনুমতি দেওয়া হবে। তিনি আরো জানান, এতে ওই মাছচাষি নিজ উদ্যোগে খালটি পরিষ্কার রাখবেন। পাশাপাশি সারা বছরই খালটিতে পানি থাকবে। আর মাছের খাবার হিসেবে যেন কোনো বর্জ্যজাতীয় জিনিস ব্যবহার করা না হয় সে বিষয়টিও নিশ্চিত করা হবে।

এ ব্যাপারে পরিবেশ আন্দোলনের কর্মী ধলেশ্বরী নদী বাঁচাও আন্দোলনের সদস্য বিমল রায় বলেন, আপাতদৃষ্টিতে উদ্যোগটি ভালো। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে, বর্ষা মৌসুমে খালে পানিপ্রবাহ যেন বাধগ্রস্ত না হয়। তবে খালে বাঁধ দেওয়ার আইনগত বৈধতা আছে কি না তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।

ধলেশ্বরী নদী বাঁচাও আন্দোলনের আরেক নেতা মানিকগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি গোলাম ছারোয়ার ছানু বলেন, ড্রেনের মাধ্যমে শহরের বাড়িঘরে ব্যবহৃত পানির পাশাপাশি কয়েকটি বাড়ির পয়োনিষ্কাশন হয় খালে। বাঁধের কারণে বদ্ধ পানিতে যুক্ত হয়ে ওই সব বর্জ্যে পরিবেশ আরো দূষণের আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মানিকগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব চক্রবর্তী বলেন, খালটির জন্য মানিকগঞ্জ শহর জলাবদ্ধতামুক্ত থাকতে পারছে। খেয়াল রাখতে হবে, এ বাঁধের কারণে যেন শহরটি জলাবদ্ধতার শিকার না হয়।

মানিকগঞ্জ পৌরসভার মেয়র গাজী কামরুল হুদা সেলিম ঢাকায় থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুভাষ সরকার এ ব্যাপারে বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে প্রকল্পটি পরিষদে অনুমোদন পেয়েছে। যদি কোনো সমস্যা হয়, তাহলে বাতিল করে দেওয়া হবে।


মন্তব্য